Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০৮ ফাল্গুন, ১৪২৩, ২২ জামাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী।
শিরোনাম

ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির থেকেও বড় নির্বাচন-পূর্ব ট্রাম্পের রুশ সংযোগ

| প্রকাশের সময় : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণা দল ও তার একাধিক সহযোগী রুশ গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ট্রাম্পের প্রচারণা দলের সদস্য ও তার সহযোগীদের ফোন রেকর্ড ও গোপন কলের তথ্যের ভিত্তিতে এ কথা নিশ্চিত করেছেন দেশটির বর্তমান ও সাবেক প্রশাসনের চার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম দি ইনডিপেনডেন্ট একে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির চেয়েও বড় ঘটনা হতে পারে বলে উল্লেখ করেছে। এদিকে নিজের প্রচারণা শিবিরের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় চটেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজ গোয়েন্দা এজেন্সিকেই তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। গণমাধ্যমে হাজির হওয়া এ সম্পর্কিত প্রতিবেদনকে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব আখ্যা দিয়ে তিনি এর মদদদাতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গোয়েন্দা এজেন্সিগুলোকে। এক টুইটবার্তায় তিনি বলেন, ভুয়া সংবাদ মাধ্যমগুলো ঘৃণায় অন্ধ হয়ে তাদের ষড়যন্ত্রতত্ত্ব নিয়ে উন্মাদ হয়ে পড়েছে। এমএসএনবিসি ও সিএনএন দেখার যোগ্য নয়। রুশ-সংশ্লিষ্টতার যেসব কথা বলা হচ্ছে, তা হিলারি ক্লিনটনের প্রচারণার ব্যর্থতা ঢাকতে তোলা হচ্ছে। এনএসএ ও এফবিআই বেআইনিভাবে ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসের কাছে তথ্য প্রদান করেছে। একইভাবে এ অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়াও। দেশটির প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ বলেন, অজ্ঞাত সূত্র থেকে পাওয়া কোনো কিছু বিশ্বাস করবেন না। এটি একটি সংবাদ প্রতিবেদন, যার কোনো সত্য ভিত্তি নেই। আর রুশ সিনেটর ভøাদিমির জাব্বারভ বলেছেন, সাম্প্রতিক এ অভিযোগ প্রেসিডেন্টকে অভিশংসিত করার জন্য গোয়েন্দা বিভাগের একটি ষড়যন্ত্র। কোনো ব্যক্তিকে অপদস্থ করার একটি পুরনো কৌশল এটি। এছাড়া নতুন করে যুক্ত হয়েছে নির্বাচনের প্রাক্কালে রুশ গোয়েন্দাদের সঙ্গে ট্রাম্প শিবিরের গোপন যোগাযোগের বিষয়টি। এ ঘটনায় এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষনেতারা এরই মধ্যে এ অভিযোগ বিষয়ে পূর্ণ তদন্ত দাবি করেছেন। অতিগোপনীয় এ তদন্ত এখনো চলমান থাকায় এসব কর্মকর্তা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি। তারা জানান, ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির (ডিএনসি) ই-মেইল হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপের কোনো চেষ্টা করেছিল কিনা, তা তদন্ত করছে দেশটির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা এজেন্সিগুলো। এরই অংশ হিসেবে নির্বাচনের আগে রুশপক্ষের সঙ্গে দেশটির দুই প্রধান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর প্রচারণা শিবিরের যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মূলত ডিএনসির ই-মেইল হ্যাকিং বা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্য ট্রাম্পের প্রচারণা শিবির থেকে রাশিয়ার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়েছিল কিনা, তা খুঁজতেই এসব ফোন রেকর্ড পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় তারা দেখতে পান, নির্বাচনী প্রচারণাকালে ট্রাম্প তার বক্তব্যে বলেছিলেন, তিনি আশা করেন, রাশিয়া হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইল চুরি করবে এবং তা জনসমক্ষে নিয়ে আসবে। আর এটি খুঁজতে গিয়েই রুশ গোয়েন্দাদের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রচারণা দলের যোগাযোগের বিষয়টি বেরিয়ে আসে। তারা জানান, গোপন ওইসব যোগাযোগ শুধু রুশ গোয়েন্দা ও ট্রাম্পের প্রচারণা কর্মকর্তাদের মধ্যেই সীমিত ছিল না। এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ট্রাম্পের ব্যক্তিগতভাবে ঘনিষ্ঠ সহযোগীরাও। আর রুশপক্ষে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বাইরে দেশটির সরকারের অংশীজনরাও জড়িত ছিলেন। রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন, এমন একজন হচ্ছেন ট্রাম্পের অন্যতম প্রচারণা উপদেষ্টা পল ম্যানাফোর্ট। গত বছর কয়েক মাসের জন্য তিনি ট্রাম্পের প্রচারণা দলের চেয়ারম্যানও ছিলেন। এর আগে তিনি ইউক্রেনে রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেন। তবে এ ধরনের যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত ট্রাম্পের আরেক সহযোগীর নাম বলতে রাজি হননি সংশ্লিষ্টরা। ফেডারেল ল’ এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তারা জানান, ফোন রেকর্ড ও গোপনীয় এসব যোগাযোগ সম্পর্কে তদন্ত চালাচ্ছে এফবিআই। একই সঙ্গে এসব যোগাযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যাংক, ভ্রমণসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্যও খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাটি। ম্যানাফোর্টের বিষয়ে কিছু তথ্যপ্রমাণ পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিভাগ থেকে তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি। এদিকে উত্থাপিত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ম্যানাফোর্ট নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, এটা ভিত্তিহীন। এসব বিষয়ে আমার কোনো ধারণাই নেই। আমি সজ্ঞানে কোনো রুশ গোয়েন্দার সঙ্গে কথা বলিনি। এমনকি রুশ সরকার কিংবা পুতিন প্রশাসনের কারো সঙ্গেও আমি কখনো সংযুক্ত ছিলাম না। তিনি বলেন, এসব মানুষ নিশ্চয় ব্যাজ পরে থাকেন না, যেখানে বলা থাকে আমি একজন রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, ম্যানাফোর্টের মতো ট্রাম্পের সহযোগী অনেকেই রাশিয়ায় ব্যবসা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিদেশী গোয়েন্দাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া মার্কিন ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো অস্বাভাবিক বিষয়ও নয়। অনেক সময় নিজের অজান্তেই তারা বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। তবে সামগ্রিক বিষয়ে এর চেয়ে বেশি তথ্য দিতে রাজি হননি তারা। ইনডিপেনডেন্ট, ওয়েবসাইট।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ