Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০৮ ফাল্গুন, ১৪২৩, ২২ জামাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী।
শিরোনাম

কাশ্মীরে সেনা অভিযানে বাধা দিলে গুলি : সেনাপ্রধান

| প্রকাশের সময় : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যে সব বেসামরিক লোক সেনাবাহিনীর জঙ্গি-দমন অভিযানে বাধা দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত।
কাশ্মীরে যারা হামলাকারীদের পালাতে সাহায্য করছেন, কিংবা পাকিস্তান ও আইএস-এর পতাকা প্রদর্শন করছেন তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করতে ভারতীয় সেনারা এখন থেকে আর দুবার ভাববে না। সেনাপ্রধান একথা বলার পর কাশ্মীরে ও তার বাইরে অনেকেই বলছেন এ ধরনের রাজনৈতিক মন্তব্য করা তার উচিৎ হয়নি।
তবে নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণে তার কথায় কোনও ভুল নেই বলেও অনেক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞর অভিমত।
গত তিনদিনে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের হান্ডওয়ারা, বন্দীপোর ও কুলগামে তিনটি আলাদা আলাদা এনকাউন্টারে হামলাকারীদের পিছু ধাওয়া করতে গিয়ে অন্তত ছ‘জন ভারতীয় সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রতিটি ক্ষেত্রেই হামলাকারীরা পালানোর সময় স্থানীয় জনতার সাহায্য পেয়েছে বলে অভিযোগ, এলাকার বাসিন্দারা পাথর ছুঁড়ে ভারতীয় সেনাদের বাধা দিয়েছে।
এরকমই একটি ঘটনায় নিহত এক মেজরকে শেষ বিদায় জানানোর সময় ভারতীয় সেনাধ্যক্ষ জানিয়েছে দিয়েছেন তাদের ধৈর্যের বাঁধ কিন্তু এখন ভেঙে গেছে।
জেনারেল বিপিন রাওয়াত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা যদি বাগে না-আসেন এবং সেনাবাহিনীর কাজে বাধা সৃষ্টি করেন, তাহলে শুনে নিন আমরা এতদিন যেভাবে শান্তিপূর্ণ পথে অভিযান পরিচালনা করে এসেছি তা কিন্তু আর করব না।”
“কিছু যুবক হত্যায় সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ে বিপথগামী হয়েছে, কিন্তু তারা যদি নিজেদের না-পাল্টায় আমরাও কিন্তু শক্ত হাতে তাদের মোকাবেলা করব। সেনাদের কাজে বাধা এলে আমাদের হাতের অস্ত্র ব্যবহারে আমরা কিন্তু পিছাবো না।”
যে স্থানীয় যুবকরা হামলাকারীদের সাহায্য করবে কিংবা যাদের পাকিস্তানি ও আইএস পতাকা নিয়ে দেখা যাবে, সেনাবাহিনী তাদের দেশবিরোধী শক্তি বলেও চিহ্নিত করবে বলে জেনারেল রাওয়াত জানিয়ে দিয়েছেন।
তার এই বক্তব্য সামনে আসার পর খোদ কাশ্মীরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। শ্রীনগরে গ্লোবাল ইয়ুথ ফেডারেশন নামে একটি এনজিও চালান স্থানীয় যুবক তৌসিফ রায়না, তিনি বলেন, সেনাপ্রধান এই কথাগুলো না-বললেই ভাল করতেন।
তৌসিফ রায়নার মতে এই বক্তব্য দুর্ভাগ্যজনক- কারণ এই কথাগুলো সেনাপ্রধানের নয়, রাজ্য সরকার বা রাজ্য পুলিশের বলা উচিত।
তিনি বলছিলেন, “সেনাবাহিনী কেন এখানকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে? এতে কাশ্মীরের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। আমরা বুঝতে পারছি কাশ্মীরের পরিস্থিতি সেনাবাহিনী থেকে স্থানীয় মানুষ সবার জন্যই খুব উত্তপ্ত, কিন্তু এই ধরনের অসংবেদনশীল মন্তব্য শুধু লোকের রাগ আর উষ্মাই বাড়াবে।”
কিন্তু এটা যদি একদিকের যুক্তি হয়, অন্য দিকে ভারতের অনেক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞই মনে করছেন কাশ্মীরের পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে জেনারেল রাওয়াতের এ কথা বলা ছাড়া কোনও উপায় ছিল না।
সেনাবাহিনী বলছে স্থানীয়রা তাদের অভিযানের সময় পাথর ছুঁড়ে সৈন্যদের বাধা দিচ্ছে।
যারা এই ধারণায় বিশ্বাস করেন, তাদেরই একজন ভারতীয় সেনার সাবেক মিলিটারি সেক্রেটারি, লে. জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনাইন।
তিনি বলছেন, “২০১৫ থেকেই দেখা যাচ্ছে - বিশেষ করে দক্ষিণ কাশ্মীরে, যখনই কোনও জঙ্গিদের গোপন আস্তানায় সেনারা হানা দিচ্ছে, স্থানীয় মানুষজন মসজিদ থেকে মাইক জোগাড় করে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চালিয়ে তাদের ঘিরে ফেলছে, পাথর ছুঁড়ে তাদের বাধা দিচ্ছে।”
“এতে তাদের স্বাভাবিক অভিযান ব্যাহত হচ্ছে, অন্য দিকে তাদের মনোযোগ ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে”, বলছিলেন লে. জেনারেল হাসনাইন।
কিন্তু যেহেতু ভারতীয় সেনা সাধারণত কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য থেকে বিরত থাকে- তাই জেনারেল রাওয়াত যেভাবে পাকিস্তানি বা আইএস পতাকার উদাহরণ টেনেছেন ও অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়েছেন তা অনেককেই বেশ বিস্মিত করেছে। সূত্র: বিবিসি

 


Show all comments
  • এস, আনোয়ার ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ৭:৪৫ এএম says : 0
    খাবারের অভাবে যাদের সৈন্যরা আত্মহত্যা করে সেই দুর্বলেরা আবার অন্যের পিছু ধাওয়া করবে কেমন করে? হাঁটতেই যে হোঁচট খায় তার আবার দৌড়ের পাল্লা।
    Total Reply(0) Reply
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ৮:১৬ পিএম says : 0
    কাশমিরকে কাশমিরিদের হাতে ছেরে দেন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ