Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০৮ ফাল্গুন, ১৪২৩, ২২ জামাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী।
শিরোনাম

হাতিয়ায় অপহৃত ৪০ জেলে উদ্ধার, অস্ত্রসহ ১৫ নৌদস্যু আটক

| প্রকাশের সময় : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

হাতিয়া উপজেলা সংবাদদাতা : নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলার নিঝুম দ্বীপের দক্ষিণে অস্ত্রধারী জলদস্যুরা মেঘনা নদীতে জেলেরা চাঁদা না দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় মাছ ধরা নৌকায় হামলা করে ৪০ জেলেকে অপহরণ করে ঠেঙ্গারচর পাশ্ববর্তী গাঙ্গুইরাচরে তাদের আস্তানায় নিয়ে যাওয়া হয়। অপহৃতদের স্বজনেরা হাতিয়া থানায় ও কোস্টগার্ড ক্যাম্পে অবহিত করলে শুক্রবার সকালে কোস্টগার্ড ও পুলিশ যৌথ অভিযানে গোপন সংবাদে ঠেঙ্গারচর ও গাঙ্গুইরারচরে দস্যুদের আস্তানার চতুর্দিকে ঘেরাও করে। এ সময় যৌথবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে আস্তানা ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় ১৫ জলদস্যুকে আটক ও তাদের নিকট জিম্মি থাকা ৪০ জেলেকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া জেলে ও আটক দস্যুদের থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। আটক ডাকাতরা হলো হাতিয়া উপজেলার বুড়ির চর ইউনিয়নের হুমায়ুনের ছেলে হেলাল হোসেন, চরইশ^র ইউনিয়নের আবদুল খালেকের ছেলে পান্না, ল²ীপুর রামগতি উপজেলার অজি উল্যাহর ছেলে নাজিম, একই উপজেলার বাবর উদ্দিনের ছেলে রাসেল, আবুল কালামের ছেলে হান্নান, নুর ইসলামের ছেলে সুজন, কক্সবাজার জেলার নুরুল আমিনের ছেলে জমির উদ্দিন, একই জেলার আলী জেরার ছেলে আবদুস সালাম, বুদু আলীর ছেলে সারওয়ার, ফোরকান আলীর ছেলে বাবুল, উসমান গণির ছেলে ইমরানুল কাদের, আবুল কালামের ছেলে আলী, হাতিয়া উপজেলার চরইশ^র ইউনিয়নের মোকন্দুরের ছেলে ডাকাত মুনির ও সালাহ উদ্দিন।
হাতিয়া থানা সূত্রে জানা যায়, মেঘনা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতি মাছ ধরা ট্রলারে ওই নৌদস্যুদের ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে টোকেন না নিলে জেলেদের মাছ ধরতে বাধা দেয়া হয়। ওই জেলেরা নিঝুম দ্বীপের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, বুড়ির চর ইউনিয়নের পূর্বে ও মেঘনা নদীর উত্তরে চেয়ারম্যান ঘাটের দক্ষিণে নদীতে ওই দস্যুদের চাঁদা না দেয়ায় দফায় দফায় হামলা করে জেলেদের অপহরণ করে ঠেঙ্গার চরে তাদের আস্তানায় নিয়ে যাওয়া হয়। অপহৃতদের স্বজনেরা জেলেদের উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতেই তমরুদ্দি কোস্টগার্ড ইনচার্জ ও পুলিশ যৌথ অভিযানে গোপন সংবাদে ঠেঙ্গার চর দস্যুদের আস্তানায় হামলা করছে। দস্যুরা যৌথবাহিনীর টের পেয়ে ওই দস্যুদের মধ্যে ২০-২৫ জন পালিয়ে গেলেও অপর ১৫ দস্যুদের আটক ও ৪০ জেলেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ ব্যাপারে হাতিয়া থানায় ওই দস্যুদের বিরুদ্ধে অপহৃত উদ্ধার জেলেদের স্বজনেরা বাদী হয়ে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যায়।
হাতিয়া থানার ওসি মো. আবদুল মজিদ জানান, গত কয়েকদিন ধরে মেঘনা নদীতে ট্রলারে চাঁদা না পেয়ে ওই দস্যুরা জেলেদের আটক করে ঠেঙ্গার চর তাদের আস্তানায় নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশ-কোস্টগার্ড যৌথ অভিযান করে দস্যুদের আস্তানায় অপহৃত জিম্মি থাকা ৪০ জন জেলেকে উদ্ধার করে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ