Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ২১ জুলাই ২০১৯, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

মনোহরদীর ৫ কমিউনিটি স্কুলে অবৈধ নিয়োগ নিয়ে ১০ শিক্ষিকা চাকরি করছেন ৭ বছর সরকারি কোষাগার থেকে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা

| প্রকাশের সময় : ১৭ অক্টোবর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

সরকার আদম আলী, নরসিংদী থেকে : অবৈধ ও ভুয়া নিয়োগ দেখিয়ে মনোহরদীর ৫টি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষিকা দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ সরকারী কোষাগার থেকে টাকা আত্মসাৎ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষিকাগণ হচ্ছেন মনোহরদীর বাঘবের কমিউনিটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রোকসানা ইয়াছমিন ও রেখা, শুকুন্দি কমিউনিটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শিউলি ও মোছা: রৌশন জাহান, চর আহম্মদপুর কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাসিনা জাহান ও সেলিনা, রুদ্রদী কমিউনিটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা উম্মেসালমা ও মাহমুদা আক্তার এবং নধাইর ভাষাটিয়া কমিউনিটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সুলতানা জাহান ও নাজমা আক্তার। গত ৭ মাসে তারা কথিত বেতন ও ভাতাবাবদ ৭৩ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮০ টাকা সরকারী কোষাগার থেকে উত্তোলন করেছে। বিদ্যালয় সমুহের কমিটির কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পারষ্পরিক যোগসাজসে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে ফাঁকি দিয়ে এই কান্ড ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে প্রকাশ, শিক্ষা অধিদপ্তর প্রনীত স্বল্প ব্যয়ী কমিউনিটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগ ও ভাতা প্রদান ও বিদ্যালয় পরিচালনায় সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী থানা নির্বাহী অফিসার ও থানা শিক্ষা অফিসার’র নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি শিক্ষক নির্বাচন ও নিয়োগ কমিটি গঠনের নির্দেশনা রয়েছে। এই কমিটি প্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে ইন্টারভিউসহ বিভিন্ন সরকারী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষক বাছাই করে স্বল্পব্যয়ী কমিউনিটি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের বিধান দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উল্লেখিত বিদ্যালয় সমূহের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মকর্তারা, তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা অফিসার ময়েজ উদ্দিনের যোগসাজশে সরকারী নিয়মনীতি তথা নির্ধারিত নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ১০ জন শিক্ষিকাকে অবৈধ পন্থায় নিয়োগ দান করে। উল্লিখিত ৫টি বিদ্যালয়ের প্রায় সবকটি বিদ্যালয়ই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০১১ সালে। প্রথমে বিদ্যালয়গুলো ছিল দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট। শিক্ষক বরাদ্দ ছিল ২ জন করে। বিদ্যালয়গুলো ৪ কক্ষ বিশিষ্ট করার পর ২ জন করে প্যারা শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। পরে বিদ্যালয়গুলোকে সরকারীকরণ করার সময় ১০ জন প্যারা শিক্ষককে নিয়োগ দেখানো হয় ২০০৯ সাল থেকে। অর্থাৎ স্কুল প্রতিষ্ঠিত হবার ২ বছর পুর্ব থেকে তাদেরকে নিয়োগ দেখানো হয়। পরে বিদ্যালয়গুলো সরকারীকরণ করার সময় শিক্ষক তালিকা প্রেরণকালে তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা অফিসার ময়েজ উদ্দিন তাদেরকে অবৈধভাবে সহকারী শিক্ষক হিসেবে তালিকাভূক্ত করে তা অনুমোদনের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে ১০ জন অবৈধ শিক্ষকের নামে বেতন ভাতার বিল উপত্থাপন করা হলে তৎকালীন শিক্ষা অফিসার উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আতাউর রহমান বিল পত্রে মন্তব্যে লিখেন যে, কমিউনিটি বিদ্যালয়ের বিলগুলো নিরিক্ষায় দেখা যায় প্রত্যেক স্কুলে ২ জন করে শিক্ষকের স্থলে ৪ জনের বিল দাখিল করা হয়েছে। ৪ জন শিক্ষকের বিল দাখিলের স্বপক্ষে পরবর্তী আদেশ প্রয়োজন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের এই মন্তব্যের পরও ১০ জন শিক্ষিকার অবৈধ নিয়োগে ব্যাপারে কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। গত ২৩ ফেব্রæয়ারী বাঘবের কমিউনিটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা কমিটির সভাপতি গোলাপ খানসহ ৩ জন একই বিদ্যালয়ের অবৈধ শিক্ষিকা রোকসানা ইয়াছমিন ও রেখা’র নিয়োগের ব্যাপারে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট একটি অভিযোগ দায়ের করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শহিদুল্লাহ বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেন।
এরপরও অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এই সুযোগে তারা বিগত ৭ বছর যাবৎ উল্লেখিত বিদ্যালয় সমূহে অবৈধভাবে চাকুরী করছে। তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করার পরও মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করছে না।
এব্যাপারে মনোহরদী উপজেলা শিক্ষা অফিসার জাহেদা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এব্যাপারে কথা বলতে প্রতিবেদককে তার সাথে অফিসে দেখা করার অনুরোধ জানান। তিনি জানান, এই ঘটনা যদি সত্য হয়ে থাকে তা হলেতো ভয়াবহ ঘটনা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ