Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ০৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

এখনই টাকা না পেলে রোহিঙ্গাদের সেবা ব্যাহত হবে -ইউনিসেফ

ইনকিলাব ডেস্ক: | প্রকাশের সময় : ১৯ অক্টোবর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

অবিলম্বে আরো অর্থায়ন না পেলে রোহিঙ্গা শিশুদের জীবন রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় সেবা ও সুরক্ষা দেয়া অব্যাহত রাখতে পারবে না ইউনিসেফ। জাতিসংঘে শিশু তহবিল বিষয়ক সংস্থাটির মুখপাত্র ম্যারিক্সি মেরকাডো বুধবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন। সংস্থাটি রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য তাদের গৃহীত পদক্ষেপ ও কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা এবং অবিলম্বে অর্থায়ন না পেলে কী পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে তা বিস্তারিত উল্লেখ করেছে।
ইউনিসেফের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়া প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে ৬০ ভাগই শিশু। প্রতি সপ্তাহেই যোগ হচ্ছে হাজারো রোহিঙ্গা শিশু। যে হারে প্রয়োজনীয় সেবার চাহিদা বাড়ছে তা বিদম্যান সামর্থ্য ছাড়িয়ে যাচ্ছে দ্রুত।
আগামী ছয় মাস শিশুদের জরুরি সহায়তা দেয়া চালিয়ে যেতে বুধবার পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের মাত্র ৭ শতাংশ পেয়েছে ইউনিসেফ।
সংস্থাটি বলেছে, আরো অর্থায়ন না পেলে নভেম্বরের শেষ নাগাদ ৪০ সহস্রাধিক মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছানোর সেবা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। ইউনিসেফ ১৮০টি ওয়াটার পয়েন্ট নির্মাণ করেছে। কিন্তু সাড়ে তিন লাখ মানুষের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজন অতিরিক্ত ১৪০০ ওয়াটার পয়েন্ট নির্মাণ করতে সক্ষম হবে না সংস্থাটি। ৩৭০০ টয়লেট নির্মাণ করা হলেও আড়াই লাখ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় আরো ১২ হাজার টয়লেট নির্মাণ করা সম্ভব হবে না। মারাত্মক অপুষ্টিতে আক্রান্ত ১৫ হাজার শিশুর জন্য প্রস্তুতকৃত ঔষধি খাবার সরবরাহ থমকে যাবে। মৌলিক সাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ হারাবে আনুমানিক ৮০ হাজার শিশু। আনুমানিক নবাগত ১ লাখ রোহিঙ্গা শিশুকে হাম ও পোলিওর টীকা দেয়া সম্ভব হবে না। প্রশিক্ষিত জনবল এবং সরবরাহের অভাবে পানিবাহিত রোগের ব্যাপক সংক্রমণ হলে তা যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে পারবে না ইউনিসেফ এবং অভিভাবকবিহীন ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শিশুরা তাদের জন্য অতি প্রয়োজনীয় কেস ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস থেকে বঞ্চিত হবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা শিশুরা ইতিমধ্যে নৃশংসতা সহ্য করেছে। তাদের প্রত্যেকের জীবন রক্ষার জন্য মৌলিক সেবা আশ্রয়, খাবার, পানি, টীকা ও সুরক্ষা প্রয়োজন। আর এগুলো আগামীকাল, আগামী সপ্তাহে বা আগামী মাসে নয় বরং এখনই প্রয়োজন। এই শিশুদের সবথেকে বড় মৌলিক অধিকার বাঁচার অধিকার রক্ষার্থে দাতাদের প্রতি আহŸান জানিয়েছে ইউনিসেফ। দাতাগোষ্ঠীদের অপেক্ষা করার সুযোগ নেই বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি। সূত্র : ওয়েবসাইট।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ