Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭, ০৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
শিরোনাম

ইভিএম চায় আওয়ামী লীগ

সিইসিকে সতর্ক হয়ে কথা বলার পরামর্শ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ অক্টোবর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

আগামী জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন চায় না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। একইসাথে সংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণের বিপক্ষেও দলটি। তবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং নির্বাচনে দিন গণমাধ্যম কর্মীদের নির্বাচনী বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দায়িত্ব পালনের জন্য কার্যকর নির্দেশনা প্রদানের প্রস্তাব করেছে দলটি।
গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাথে অনুষ্ঠিত সংলাপে এসব সুপারিশ করে আওয়ামী লীগ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) একএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে ইসির সভাকক্ষে এ সংলাপে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেন। তারা হলেন, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এইচ টি ইমাম ও ড. মসিউর রহমান, প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান ও রমেশ চন্দ্র সেন, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ জমির ও মো: রশিদুল আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল-আলম হানিফ, ডা: দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ এবং কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবির কাওছার। তবে সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে লন্ডনে অবস্থান করায় সংলাপে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
এ সময় আওয়ামী লীগ লিখিত এগারো দফা সুপারিশ তুলে ধরে। সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের ১১ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। এতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিরোধীতা করে বলা হয়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত নির্বাচন পরবর্তী সময়ের জন্য প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তর্ভুক্তি বা নির্বাচনকালীন তাদের নিয়োগের বিষয়ে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল কর্তৃক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যে দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, তা দেশের বিরাজমান আইন ও সাংবিধানিক নিয়ম-কানুনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কোন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ করা যাবে, ১৮৯৮ সালে প্রণীত ফৌজদারী কার্যবিধির ১২৯-১৩১ ধারায় এবং সেনা বিধিমালায় ওহ ধরফ ঃড় পরারষ ঢ়ড়বিৎ শিরোনামে সুস্পষ্টভাবে তার উল্লেখ রয়েছে। উপরন্তু বর্তমানে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসারসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জনবল ও সক্ষমতা পূর্ববর্তী যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এমতাবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বাহিনীকে সাধারণ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তাদের বিশেষায়িত অবস্থান বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সীমানা পুন:নির্ধাররেণর বিরোধিতা করে বলা হয়, সীমানা পুন:নির্ধারণের বিষয়টি জনসংখ্যার বিশেষ করে আদমশুমারির সাথে সম্পর্কিত। সর্বশেষ ২০১১ সালে আদমশুমারির ওপর ভিত্তি করে (যা ২০১৩ সালে প্রকাশিত) ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনের আগে সীমানা পুন:নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন আদমশুমারী ব্যতীত পুনরায় এই সীমানা পুন:নির্ধারণের কার্যক্রম গ্রহণে বিভিন্ন আইনগত জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। ২০১৮ সালের শেষ দিকে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এমতাবস্থায় ৩০০ আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণের মতো একটি জটিল কার্যক্রমসম্পন্ন করার ক্ষেত্রে যেসব আইনানুগ পদক্ষেপ গৃহীত হয়ে থাকে, তথা খসড়া থেকে আপিল নিষ্পত্তি পর্যন্ত যে মহা কর্মযজ্ঞসম্পন্ন করতে হয় তা সময় স্বল্পতার কারণে সম্ভব হবে কীনা সে বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া আবশ্যক। ইসির সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং অনেক স্থানীয় নির্বাচন রয়েছে। সবদিক ভেবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যকে ইসিকে অনুরোধ করছে আ’লীগ। ইভিএম চালুর সুপারিশ করে দলটির নেতা বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বর্তমানে বিরাজমান সকল বিধি-বিধানের সঙ্গে জন মানুষের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করার স্বার্থে আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহের মতো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম এর মাধ্যমে ভোটদান প্রবর্তন করতে হবে। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। কোনোভাবেই যেন কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠী বা ব্যক্তির আনুগত্যশীল কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে এ দায়িত্ব দেয়া না হয়। গণমাধ্যম কর্মীদের ব্যাপারে বলা হয়, নির্বাচনে দিন গণমাধ্যম কর্মীদের নির্বাচনী বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দায়িত্ব পালনের জন্য কার্যকর নির্দেশনা প্রদান। উপযুক্ত পরিচয়পত্র প্রদান ও তাদের দায়িত্ব কর্ম এলাকা নির্ধারণ করা। সকল প্রার্থীর এজেন্টদের (জাতীয় পরিচয়পত্রের) তালিকা নির্বাচনের আগেই রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা এবং তাদের পরিচয় প্রিজাইডিং কর্মকর্তা কর্তৃক নিশ্চিতকরণের পর ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ এবং ভোট শেষ না হওয়ার পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে অবস্থানের নির্দেশনা প্রদান। এছাড়া নির্বাচনে পেশীশক্তি রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিতদের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ, দায়িত্ব অবহেলায় তাদের কঠোর শাস্তির বিধান, তৃণমূলের কর্মীদের মনোনয়নের ভিত্তিতে প্রার্থী মনোনয়নের ব্যাপারে সুপারিশ করে আওয়ামী লীগ। সংলাপ থেকে বেরিয়ে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের এই প্রস্তাবগুলোর প্রশংসা করে ইসি বলেছে, এসব প্রস্তাব কোনো দলের বলে মনে হয় না। এগুলো নিরপেক্ষ প্রস্তাব। এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ইসির সঙ্গে সংলাপ ইতিবাচক হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, অন্য নির্বাচন কমিশনার ও সচিবের বক্তব্য ইতিবাচক ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক মন্তব্যের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) বক্তব্যের ব্যাখ্যা পেয়েছি। তবে ব্যাখ্যার বিষয়ে কিছুই বলতে চাই না। কোনো ব্যাখ্যা দিতে হলে সেটা ইসি দেবে।
সিইসিকে সতর্ক করল আওয়ামী লীগ: বিএনপি’র গুণগান নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের জের ধরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও সংলাপে জিয়ার প্রসঙ্গ টেনেছে। প্রতিনিধি দলের প্রধান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ইসির কাছে লিখিত প্রস্তাবে ‘গণতন্ত্র ও নির্বাচন’ বিষয়ে ৯ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন। এতে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্টের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের হোতা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও সেনা আইন লঙ্ঘন করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের সংবিধান ও সকল প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দেন, শুরু হয় স্বৈরশাসনের। তিনি বলেন, এ স্বৈরশাসক তার অবৈধ ক্ষমতা দখলকে বৈধতা দেয়ার অভিপ্রায়ে ১৯৭৭ সালের ৩০ মে হ্যাঁ/না ভোটের আয়োজন করেন এবং তার পক্ষে হ্যাঁ ভোট প্রদানে সব আয়োজন সম্পন্ন করেন। প্রহসনের এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষ যেমন তাদের ভোটাধিকার হারিয়ে ফেলেন অপরদিকে সব গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিনষ্ট হয়ে যায়। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ক্ষমতা দখলকারী অপর স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনকালের অবসান ঘটে। বৈঠক সূত্র জানায়, ওবায়দুল কাদের এর লিখিত বক্তব্যের পর আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, এইচ টি ইমাম ও মোহাম্মদ জমির বক্তব্য রাখেন। এ সময় জিয়াউর রহমানের গুণগান করার প্রসঙ্গ ইঙ্গিত করে তোফায়েল আহমেদ ইসিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মি: সিইসি ইতিহাসের স্যাটেলড বিষয় নিয়ে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করবেন না। অন্য বক্তারাও ইসিকে এ ব্যাপারে সতর্ক হয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন। সংলাপে অংশ নেয়া আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা সিইসিকে উদ্দেশ করে বলেছেন, আপনি ভবিষ্যতে কথা বলার বিষয়ে একটু সতর্ক হবেন। আপনার অনেক বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা হতে পারে, মিসকোট হতে পারে। এজন্য আপনি যখন কথা বলবেন এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে কথা বলবেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের আগে যেসব অপপ্রচার হয় তা রোধ করার পরামর্শ দিয়ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

 


Show all comments
  • আজিজ ১৯ অক্টোবর, ২০১৭, ২:০৬ এএম says : 1
    আওয়ামীলীগ সেটা চায় হয়তো সেটাই হবে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর