Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ০৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

বিমানবন্দর এলাকা জনসমুদ্র

খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে লাখো মানুষের উপস্থিতি

উমর ফারুক আলহাদী/ফারুক হোসাইন : | প্রকাশের সময় : ১৯ অক্টোবর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

লন্ডনে চিকিৎসা শেষে তিন মাস পর দেশে ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দেশে ফিরেই লাখো নেতাকর্মীর ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন তিনি। খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত এলাকায় সমবেত হয়েছিল লাখ লাখ মানুষ। কারে হাতে ধানের শীষ, কারোবা ব্যানার, ফেস্টুন, জাতীয় পতাকা, কেউবা শরীরেই একেঁছেন দলীয় প্রতীক ও দলীয় প্রধানের নাম। এভাবেই বিএনপি চেয়ারপারসনকে স্বাগত জানাতে গতকাল বুধবার বিমানবন্দর এলাকায় উপস্থিত হয়েছিলেন বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। বিমানবন্দরে তার অবতরণের সময় ঘনিয়ে আসার ঠিক আগ মুহুর্তে জনসমুদ্রে পরিণত হয় বিমানবন্দর সড়ক ও আশেপাশের এলাকা। নেতাকর্মীদের পদচারণায় তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না ওই এলাকায়। যেন রাজধানীর সব মানুষের ঢল নেমেছিল সেখানে। ব্যতিক্রম ছিলনা খিলক্ষেত, কুড়িল বিশ্বরোড, গুলশানও। বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনে ফেরার পুরো সড়ক জুড়েই ছিল কেবল মানুষ আর মানুষ। উৎসুক, উদগ্রীব আর উৎফুল্ল নেতাকর্মীরা প্রিয় নেত্রীকে দেখতে পেয়েই যেন চোখ ও মন জুড়িয়েছেন।
এর আগে গতকাল দুপুর থেকেই বেগম জিয়াকে শুভেচ্ছা জানাতে বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রখর রোদ উপেক্ষা করে বিমানবন্দর এলাকায় আসতে থাকেন। খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে সমবেত হতে থাকেন। বিমানবন্দর এলাকায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকলে পুলিশের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়। ২টার পর থেকেই নেতাকর্মীদের বিমানবন্দর সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এসময় তারা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন ও এর আশাপাশে বিচ্ছিন্নভাবে জড়ো হতে থাকে। কিন্তু বেলা তিনটার পর থেকে নেতাকর্মীরা একের পর এক মিছিল নিয়ে আসতে থাকলে পুলিশ তাদের ফুটপাতে দাঁড়ানোর অনুমতি দেয়। এরপর সময় যতই গড়িয়েছে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ফুটপাত পূর্ণ হয়ে মূলসড়ক জুড়ে ছড়িয়ে পরে। নেতাকর্মীদের ঢল দেখে একসময় পুলিশ আর বাধা না দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়। এরপর বিকেল ৫টা থেকে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে বিমানবন্দর, কাউলা, খিলক্ষেত, কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা হয়ে ওঠে জনসমুদ্র। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, শ্রমিক দল, ওলামা দল ও ঢাকা মহানগর ছাড়াও ঢাকার আশেপাশের বেশ কয়েকটি জেলার থেকেও হাজার হাজার নেতাকর্মী তাদের দলের চেয়ারপারসনকে শুভেচ্ছা জানাতে ছুটে আসেন। এসব নেতাকর্মীর মুহুর্মুহু শ্লোগান আর করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ পিকআপ ভ্যান নিয়ে মাইকিং করেছে, যাতে রাস্তায় গাড়ি চলাচল আটকে না যায়।
বিকেল সোয়া ৫ টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণের কিছুক্ষণ পর ভিআইপি টার্মিনাল হয়ে বের হন খালেদা জিয়া। এরপর তিনি ৫টা ৩৭ মিনিটে গাড়িতে ওঠে গুলশানে বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এসময় তার গাড়ি বিমানবন্দর গোল চক্করে এলেই নেতাকর্মীদের উপচেপড়া ভিড়ের মধ্যে আটকে যায় তার গাড়ি। বিএনপি চেয়ারপারসনও ধীরগতির গাড়ি থেকে তাকে অভিবাদন জানাতে আসা নেতাকর্মীদের হাত নেড়ে নেড়ে অভ্যর্থনার জবাব দেন।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দলের চেয়ারপারসনের দেশে ফেরা নিয়ে দলীয় কোনো কর্মসূচি ছিলনা বিএনপির। কিন্তু নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে দুপুরের পর থেকেই বিমানবন্দর সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিতে শুরু করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের সাথে যোগ দেন সাধারণ অনেক মানুষও। তারা বিমানবন্দর গোলচত্বরে অবস্থান নেওয়ায় বিকাল ৪টা থেকে সড়কে যান চলাচলও কিছুটা বিঘিœত হয়। বিমানবন্দর সড়কের পূর্ব পাশে জমায়েত হওয়া বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা ফুটপাথে অবস্থান নিলেও বিকাল সাড়ে ৪টার পর তারা মূল রাস্তায় নেমে এসে মিছিল করতে থাকে এবং জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন। খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নিতেও দাবি জানায় তারা। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় থেকে আগত নেতারা তাদের কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন পয়েন্ট অবস্থান নেন। শিবচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন রোমানের নেতৃত্বে সিরাজুল হক খান, মো: সালাম শেখ, মো: মহিউদ্দিন, শহীদুল্লাহ সহ শতাধিক নেতাকর্মী অবস্থান নেন কাওলা এলাকায়। ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান বলেন, দীর্ঘদিন পর আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে ফিরেছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে দূর থেকে ছুটে এসেছেন। আমরা মনে করি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলবে এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে।
কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় অবস্থান নেয় জাতীয়তাবাদী কেন্দ্রীয় মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল সহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিমানবন্দর গোল চত্ত¡রের সামনে অংশ নেন মালয়েশিয়া বিএনপির প্রচার সম্পাদক মামুন বিন আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে নান্দাইল (ময়মনসিংহ-৯) উপজেলা বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী। বেগম জিয়াকে স্বাগত জানাতে গতকাল সকালে ঢাকায় আসেন মামুন। তিনি অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, দেশনেত্রী দেশের জনগণের মাঝে ফিরেছেন। আজকে লাখ লাখ মানুষ ও দলের নেতাকর্মী তাকে স্বাগত জানাতে এসেছেন। আমিও ছুটে এসেছি। এর চেয়ে বেশি আনন্দ আর কি হতে পারে?
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে শুরু করে বিমানবন্দর সড়কে দেখা যায়, বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালের ফটকের সামনের রাস্তার দুইপাশে বিএনপির নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়। মহাসড়ক থেকে বিমানবন্দরে প্রবেশের রাস্তায়ও জন-সাধারণের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে পুলিশ খালেদা জিয়ার ফেরা উপলক্ষে বাড়তি নিরাপত্তার কথা আগেই জানিয়েছিল। বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাদা টি-শার্ট পরিধান করে বেগম জিয়াকে শুভেচ্ছা জানাতে মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা বের করেন। কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় অবস্থান নেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও রুপগঞ্জ, আড়াইহাজার বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের হাজার নেতাকর্মীরা। একইস্থানে দলীয় ব্যানার নিয়ে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিভিন্ন শাখার হাজারো নেতাকর্মী। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে জিয়া কলোনির মোড় পর্যন্ত সড়কের উভয়পাশে ঢাকার বাইরে ঠাকুরগাঁও, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, যশোর জেলা ও বিভিন্ন থানার কয়েক হাজার নেতাকর্মী খালেদা জিয়াকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানায়। কাওলা এলাকায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সিনিয়র নেতা নবীউল্লাহ নবী, মীর হোসেন মিরু এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে অবস্থান নিয়ে শ্লোগান দিতে থাকেন।
বিমানবন্দর থেকে বনানী কাকলী পর্যন্ত সড়কে দুই পাশে রাজশাহীর মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বরিশালের সাবেক এমপি জহিরউদ্দিন স্বপন, সিলেটের সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিম তাদের সমর্থকদের নিয়ে দাঁড়ান। তাদের হাতের ব্যানারে খালেদা জিয়াকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ অভিহিত করা হয়।

 


Show all comments
  • সিদ্দিকুর রহমান বাবু ১৯ অক্টোবর, ২০১৭, ২:১২ এএম says : 4
    ওরা ভেবেছিলো তুমি আসবেনা, ওরা ভেবেছিলো তুমি তোমার দামাল ছেলেদের ফেলে রেখে পালিয়ে গেছো কিন্তু ওরা জানেনা এ দেশের জন্য তোমার কত ভালবাসা
    Total Reply(1) Reply
    • sharif ১৯ অক্টোবর, ২০১৭, ৩:২৩ এএম says : 1
      ok
  • Jahidul Islam ১৯ অক্টোবর, ২০১৭, ২:১৩ এএম says : 4
    এসেছে মহান নেত্রী মানবতার নেত্রী ভয় নেই তার ভিত নয় সে এমনী এক নেত্রী এমনী এমনী নাম হয়নী আপোশহীন নেত্রী বেগম জিয়া। আছি থাকব কথাদিলাম।
    Total Reply(0) Reply
  • Jamal Ali ১৯ অক্টোবর, ২০১৭, ২:৩৩ এএম says : 5
    Very good Bangladesh People's love Begum Zia....
    Total Reply(0) Reply
  • Akbor Hossain ১৯ অক্টোবর, ২০১৭, ১:৪৩ পিএম says : 3
    স্বাগতম হে আপোষহীন গণতন্ত্রের যোদ্ধা। শ্রদ্ধেয় বেগম জিয়া।
    Total Reply(0) Reply
  • Farhad Uddin ১৯ অক্টোবর, ২০১৭, ১:৪৪ পিএম says : 4
    সত্যিকারের নেতারা কোন কিছুর ভয় পায় না
    Total Reply(0) Reply
  • জুনাইদ হোছাইন ১৯ অক্টোবর, ২০১৭, ৩:২৮ পিএম says : 2
    Khaleda Zia is the MOTHER OF DEMOCRACY.
    Total Reply(0) Reply
  • monowarul islam ১৯ অক্টোবর, ২০১৭, ১০:০৪ এএম says : 2
    Very nice that's need for bangladesh
    Total Reply(0) Reply
  • Zahirul Islam Sorder ১৯ অক্টোবর, ২০১৭, ১২:২৯ পিএম says : 3
    হবেনা!! কে আসছে দেখতে হবেতো !! ওনি বেগম খালেদা জিয়া! শোলকোটি মানুষের মুক্তির দিশারী। প্রিয় নেত্রী ভালবাসা অবিরাম।
    Total Reply(0) Reply
  • Md Azad ১৯ অক্টোবর, ২০১৭, ১২:২৯ পিএম says : 4
    ধন্যবাদ আপনাদেরকে সত্যি কথা লিখার জন্য
    Total Reply(0) Reply
  • S. Anwar ১৯ অক্টোবর, ২০১৭, ১০:৫৩ এএম says : 2
    "THE MOTHER OF DEMOCRACY". Exactly appropriate title for Begum Khaleda Zia. "নেত্রী মোদের খালেদা, গর্ব মোদের আলাদা।" স্লোগানটি শুনলেই কেমন যেন হৃদয় আকুল করা একটা বাজনার রিমঝিম প্রতিধ্বনি বেজে ওঠে কর্ণকুহরে। যেই নিন্দুকেরা বলেছিল, খালেদা জিয়া আর ফিরে আসবে না। মামলার ভয়ে খালেদা জিয়া দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। যে খালেদা জিয়াকে দেশে ফিরতে না দেয়ার জন্য তারা তিন তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী করেছে, আজ সেই পরোয়ানা মাথায় নিয়ে সেই খালেদা জিয়ার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং তাঁকে বরণ করার জন্য লক্ষ লক্ষ জনতার ঢল দেখে সেই নিন্দুকদের আত্মহত্যা কিংবা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া উচিত বলে মনে করি।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ