Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৪ পৌষ ১৪২৫, ১০ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দিনভর তীব্র যানজট

প্রবল বর্ষণ : ভোগান্তিতে যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও চালকরা

জাহাঙ্গীর হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) থেকে : | প্রকাশের সময় : ২২ অক্টোবর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

টানা দুই দিনের ভারি বর্ষণ মহাসড়কে চলা অপরিকল্পিতভাবে চার লেনের কাজের জন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দিনভর তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যানজটে আটকা পড়েছে শত শত যানবাহন হাজারো যাত্রী।
মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে মির্জাপরের কুরনি পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার এলাকায় এই যানজট রয়েছে। মাঝে মাঝে যানবাহনের চাকা ঘুরলেও অধিকাংশ সময় থেমে থাকছে। গতকাল সন্ধা ৬টায় মহাসড়কের মির্জাপুর অংশে যানবাহন দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী, শ্রমিক ও চালকরা।
দুই দিনের টানা বর্ষণ ও যানবাহনের চাকার ঘর্ষণে চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে গর্ত। আর বৃষ্টিতে এসব গর্তে জমেছে পানি। সঙ্গে মহাসড়কের চারলেনের কাজের খোড়াখুড়িতো আছেই।
শুক্রবার ভোররাত থেকে শুরু হয় এ যানজট। দুপুরের দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও সন্ধ্যা ছয়টার পর মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি যান বিকল হলে আবার যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট এক পর্যায়ে মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে মির্জাপুরের পাকুল্যা পর্যন্ত প্রায় ২৮ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী হয়। পরে পুলিশ বিকল যানবাহন সরিয়ে নিলে রাত ১২টার দিকে ধীর গতিতে যান চলাচল শুরু হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিকেল পাঁচটায় মহাসড়কে যানজট অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার সকাল থেকে আবার শুরু হয়েছে টানা বৃষ্টি। যানজটে আটকা আর বৃষ্টির কারণে যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যানজটের কারণে খবরের কাগজও মির্জাপুরে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বিলম্বে আসে। যানজটে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নারী ও শিশু যাত্রীরা।
মির্জাপুরের প্রাইভেট কারের চালক পান্নু মিয়া জানান, সন্ধ্যা সাতটায় মির্জাপুরের গোড়াই থেকে মির্জাপুর সদর পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার রাস্তা আসতে তার প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লেগেছে।
মির্জাপুর থানার ওসি একেএম মিজানুল হক জানান, অপরিকল্পিত ভাবে মহাসড়কে চারলেন উন্নিতকরণ কাজ শুরু হওয়ায় মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া সকাল থেকে বৃষ্টি এবং মহাসড়কে খানাখন্দক থাকায় থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছে। বৃষ্টি থাকায় পুলিশ নিয়মিত কাজ করতে পারছেন না। তবে পুলিশ যানজট ছাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
গোড়াই হাইওয়ে থানার ওসি খলিলুর রহমান পাটুয়ারী বলেন মহাসড়কের মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ এলাকায় রাস্তার কিছু অংশ দেবে যাওয়ায় এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিকেল পাঁচটার পর থেকে ধীর গতিতে যান চলছে বলে তিনি জানান।
কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজট
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) উপজেলা সংবাদদাতা : গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহসড়কে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কে পানিবদ্ধতা এবং অসংখ্য ছোট বড় গর্ত ও মহাসড়কে যানবাহন বিকল হওয়ায় এ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ। তবে যানজট নিরসনে কাজ করছে জেলা ও হাইওয়ে পুলিশ। হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও কালিয়াকৈর-নবীনগর সড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি, টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে মহাসড়ক জলমগ্ন হওয়ায় এবং অসংখ্য ছোট বড় গর্ত ও মহাসড়কে যানবাহন বিকল হওয়ায় এ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও যানজটে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লাগামী হাজার হাজার মানুষ। এছাড়া চার লেনের উন্নীতকরণের কাজ আর বৃষ্টির পানি জমে থাকার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মহাসড়কে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করতে বিঘœ ঘটছে। কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কে খানাখন্দ, যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়া, চালকদের ওভারটেকিং প্রবণতা এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে হাই ওয়ে পুলিশ সূত্রে জানাযায়। কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা , বাড়ইপাড়া, কালিয়াকৈর বাইপাস ও স্কয়ার এলাকায় এই যানজট ছড়িয়ে পড়েছে। এক ঘণ্টার রাস্তা অতিক্রম করতে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা সময় লাগছে। এতে দূরপাল্লা গামী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
সালনা হাই ওয়ে থানার ওসি হোসেন সরকার বলেন, বৃষ্টির পানি জমে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় এবং ট্রাফিক আইন না মানার কারণে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা মহাসড়কে যানজট নিরসন কল্পে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ