Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী

‘নতুন যুগে’র চীনা নেতৃত্বে শি জিনপিং

| প্রকাশের সময় : ২৬ অক্টোবর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত চীনা কমিউনিস্ট পার্টির জাতীয় কংগ্রেসে পলিটব্যুরো ও ন্যাশনাল ডেলিগেটদের ভোটে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রেসিডেন্ট পদে দ্বিতীয় মেয়াদে ৫ বছরের জন্য পুন:নির্বাচিত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে শি জিনপিং চেয়ারম্যান মাও সেতুংয়ের সমপর্যায়ের জাতীয় নেতা হিসেবে আবির্ভুত হয়েছেন। গৃহযুদ্ধ ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবে নেতৃত্বদানকারি নেতা মাও সেতুং বিংশ শতকের দ্বিতীর্য়াধের শুরুতে চীনকে বিশ্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় ও প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ নিশ্চিত করেছিলেন। তার মতাদর্শ চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মেনিফেস্টো এবং সংবিধানের অর্ন্তভুক্ত রয়েছে। এরপর দেং জিয়াং পিংয়ের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সময়টিকে চীনের উন্নয়নের দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেং জিয়াং পিংয়ের মতাদর্শও চীনা সংবিধানের অর্ন্তভুক্ত হয় তার মৃত্যুর পর। শি জিনপিংই একমাত্র চীনা নেতা যিনি জীবিতাবস্থায় বিপ্লবী নেতা মাওসে তুংয়ের সমমর্যাদায় অভিসিক্ত হলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের পরাশক্তি রাষ্ট্রগুলোতে যখন নেতৃত্বের সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে, তখন চীনে কমিউনিস্ট পার্টির এই সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট শি কে দল ও রাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় অভিসিক্ত করার মধ্য দিয়ে বিশ্বের নেতৃত্বে চীনের অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক সম্ভাবনা ও স্থিতিশীলতার পথকে অনেকটাই এগিয়ে দেয়া হল। বিশেষত: ‘শি জিনপিংয়ের চিন্তা’ চীনা সমাজতন্ত্রের নতুন যুগ শিরোনামে সর্বসম্মতভাবে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির গঠনতন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে ২০২২ সাল পর্যন্ত পার্টি , সরকার ও সেনাবাহিনী পরিচালনায় শি জিনপিং এক অবিসম্বাদিত ও শক্তিশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেন।
ছয় দশকের বেশী সময় ধরে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্প-বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতি চীনকে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশে পরিনত করেছে। জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা উন্নয়নের রোডম্যাপ বাস্তবায়নে চীনা নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা রক্ষিত হওয়ার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধারণ করেও এশিয়ায় জাপান, দক্ষিন কোরিয়া, ভারতসহ বিশ্বের বহুদেশ অর্থনৈতিকভাবে উন্নত ও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্রে পরিনত হয়েছে। চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু ও অন্যতম উন্নয়ন সহযোগি দেশ। চেয়ারম্যান শি জিনপিং বাংলাদেশকে চীনের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শি জিনপিং-ই একমাত্র চীনা প্রেসিডেন্ট যিনি গত তিরিশ বছরের মধ্যে প্রথম বাংলাদেশ সফর করেন। গত বছর অক্টোবরে শি জিনপিং ঢাকা সফরে এসে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অংকের(৪০ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ ও ঋণসহায়তা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার, প্রধান বিরোধিদল বিএনপি’সহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে শি জিনপিংয়ের ইতিবাচক ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ যখন একটি অনিশ্চিত ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে তখন চীনা প্রেসিডেন্ট হিসেবে শি জিনপিংয়ের পুনরায় নির্বাচিত হওয়া বাংলাদেশের জন্য সুখবর। চীন মিয়ানমারেরও সবচেয়ে কাছের উন্নয়ন সহযোগি দেশ। এ কারণে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে চীনের প্রভাব সবচেয়ে কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে পারে। চীনের সহযোগিতায় বাংলাদেশের সংকট নিরসন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশকে সিদ্ধান্তহীনতা ও দ্বিধাগ্রস্ততা ঝেড়ে ফেলে দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইতিমধ্যেই কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন মিয়ানমার সফরে রয়েছেন, তখন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের বিশেষ দূত সান গোসিয়াং মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ সফরে আসছেন বলে গতকাল প্রকাশিত খবরে জানা যায়। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাথে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচির নির্ধারিত বৈঠকের আগেই ‘রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার সম্মত’ মর্মে খবর বেরিয়েছে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হচ্ছে এই সংকট নিরসনের মূল শর্ত। বিশ্ব সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে নানাভাবে চাপ দেয়া হলেও চীনা নেতৃত্বের সদিচ্ছা ও সুদৃঢ় উদ্যোগ ছাড়া এই সংকটের কাঙ্খিত সমাধান সম্ভব নয়। চীনা বিনিয়োগ ও অংশিদারিত্বমূলক উন্নয়ন প্রকল্পসমুহ বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। আঞ্চলিক বাস্তবতায় জাতীয় উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে চীনের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা ও সম্প্রসারিত করা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে চীনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভে বাংলাদেশ কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে।শত শত বিলিয়ন ডলারের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ ইনিশিয়েটিভে যোগদানের মধ্য দিয়ে পূর্ববিশ্বের সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যেতে পারে। চীনের নেতৃত্বে শি জিনপিংয়ের নতুন অধ্যায়ের সূচনায় বাংলাদেশের মানুষ সে প্রত্যাশাই করছে। নতুন যুগের সূচনাকারি প্রেসিডেন্ট ও চেয়ারম্যান শি জিনপিংয়ের প্রতি আমাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চীন

৯ অক্টোবর, ২০১৯
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন