Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

মালিবাগ-মগবাজার ফ্লাইওভার চালু

| প্রকাশের সময় : ২৮ অক্টোবর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত মালিবাগ-মগবাজার ফ্লাইওভার চালু হলো। গত বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে বারটায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফ্লাইওভারটি উদ্বোধন করেন। ৮.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে। কয়েকবার ডিজাইন পরিবর্তন করে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে, ১২১৮.৮৯ কোটি টাকা। এ অর্থের মধ্যে ৭৭৬ কোটি টাকা দিয়েছে সউদী আরব। এর মাধ্যমে কাকরাইল-মালিবাগ, রাজারবাগ-মৌচাক, রামপুরা-মৌচাক এবং মৌচাক-ইস্কাটন যুক্ত হয়েছে। এটি রাজধানীর ৮টি মোড় এবং ৩টি রেল ক্রসিং অতিক্রম করেছে। চার লেনের এ ফ্লাইওভারে উঠানামার জন্য ১৫টি র‌্যাম্প রয়েছে। তেজগাঁওস্থ সাতরাস্তা, বিএফডিসি, মগবাজার, হলিফ্যামিলি হাসপাতাল, বাংলামোটর, মালিবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন এবং শান্তিনগর মোড় থেকে উঠানামা করা যাবে। এটি ১০ মাত্রার ভূমিকম্প সহনশীল। ফ্লাইওভারটির তাৎপর্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে, সাথে সাথে যানজটও বাড়ছে। এ কারণেই জনগণের জন্য ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ফ্লাইওভার যানজট নিরসনে অনেক বড় ভূমিকা পালন করবে। মানুষ দ্রুত গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারবে। কর্মচাঞ্চল্য বাড়বে। উল্লেখ করা প্রয়োজন, ফ্লাইওভারটি নির্মাণের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক দৃষ্টি রেখেছিলেন। এজন্য তাঁকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
বলার অপেক্ষা রাখে না, মালিবাগ-মগবাজার ফ্লাইওভারটি রাজধানীর একটি বড় অংশকে সহজ যোগাযোগের নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে এসেছে। মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার, শান্তিনগর নিত্য যানজটের এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এসব এলাকার সড়কগুলো এমন যে, এতে যানজট সৃষ্টি হওয়া অনিবার্য ছিল। এর প্রতিক্রিয়া রাজধানীর অন্যান্য সড়কেও ছড়িয়ে পড়ত। এখানে নতুন করে সড়ক নির্মাণও সম্ভব ছিল না। এ সমস্যা থেকে মুক্তির একটাই উপায় ছিল ফ্লাইওভার নির্মাণ করা। বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ফ্লাইওভারটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ পাঁচ বছরে ফ্লাইওভারটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে তা খুলে দেয়া হয়েছে। ফ্লাইওভার নির্মাণকালে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসাধারণকে অসীম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এমনকি ঐসব এলাকার ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চলাচলে অনুপযোগী থাকায় ক্রেতার অভাবে অনেকে দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন। এত ভোগান্তির পর ফ্লাইওভারটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন এবং চলাচল মসৃন হওয়ায় স্বাভাবিক কারণেই তারা অত্যন্ত আনন্দিত। সংশ্লিষ্ট এলাকার যাতায়াত যেমন মসৃন হবে, তেমনি পুর্নোদ্দমে ব্যবসায়িক কার্যক্রমও চালু হবে। সবচেয়ে দীর্ঘ এই ফ্লাইওভারটি নির্মিত হওয়ায় ঢাকার সার্বিক যানজট নিরসনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বলা আবশ্যক, একটি আদর্শ রাজধানীতে যান চলাচলের জন্য শতকরা ২৫ ভাগ সড়ক থাকতে হয়। ঢাকায় রয়েছে মাত্র ৭ ভাগের মতো। এর উপর অবৈধ দখল, পার্কিংয়ের কারণে তা আরও সংকুচিত হয়ে গেছে। অথচ রাস্তার তুলনায় প্রতিদিন গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি মাসে প্রায় শতাধিক নতুন গাড়ি যুক্ত হচ্ছে। বিআরটিএ-এর হিসাব মতে, গত ৭ বছরে ঢাকায় নিবন্ধিত গাড়ি দ্বিগুণ বেড়ে হয়েছে ১১ লাখ ৫০ হাজার। অনিবার্যভাবেই যানজট তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যানজটের কারণে প্রতিদিন মানুষের ৮০ লাখ কর্মঘন্টা নষ্ট হয়। আর্থিক ক্ষতি হয় ২০ হাজার কোটি টাকার উপরে। যানজটের কারণে এই অপূরণীয় ক্ষতি আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের উন্নতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের অন্তরায় হয়ে আছে। অন্যদিকে রাজধানীতে সড়ক বৃদ্ধিরও কোনো উপায় নেই। ফলে বিকল্প চিন্তা করা ছাড়া উপায় নেই। হয় ফ্লাইওভার নির্মাণ করতে হবে, না হয় আন্ডার গ্রাউন্ড ওয়ে নির্মাণ করতে হবে। ইতোমধ্যে যেসব এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মিত হয়েছে, সেসব এলাকায় যানজট কিছুটা হলেও কমেছে। এ ধারাবাহিকতার সাথে যুক্ত হয়েছে মালিবাগ-মগবাজার ফ্লাইওভার। এতে যানজটে যে ক্ষতি সাধিত হয়, তা কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা যায়।
ফ্লাইওভার নির্মাণ করলেই হয় না, এর রক্ষণাবেক্ষণ এবং যাতায়াত মসৃন রাখা জরুরী। আমরা ইতোমধ্যে লক্ষ্য করেছি, বিভিন্ন ফ্লাইওভারে উঠানামার মুখে যানজট সৃষ্টি হতে। এমনকি যানজট ফ্লাইওভারের উপর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে দেখা গেছে। নকশার ত্রুটির কারণে যে এমনটি ঘটছে, তা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন। যানজট নিরসনে যে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়, তাতে উঠানামা করতেই যদি যানজটে পড়তে হয়, তবে ফ্লাইওভারের গুরুত্ব বলে কিছু থাকে না। ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রেও মারাত্মক অনিয়ম দেখা গেছে। হানিফ ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে নানা ধরনের অনিয়মের কথা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ফ্লাইওভার অত্যন্ত দ্রুতগতির পথ এবং এতে কোথাও স্টপেজ না থাকা সত্তে¡ও হানিফ ফ্লাইওভারে বাস থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করতে দেখা যায়। এতে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। ফ্লাইওভারটির নিচের রাস্তাও চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং অবৈধ দখলের কবলে পড়েছে। আমরা আশা করব, মালিবাগ-মগবাজার ফ্লাইওভারটির ক্ষেত্রে এ ধরনের অনিয়ম ঘটবে না। ফ্লাইওভারে উঠানামার পথ নির্বাধ থাকতে হবে এবং এতে যাতে অযান্ত্রিক রিকসা, ভ্যান বা অন্য কোনো ধীর গতির যান চলাচল না করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এর গতি মসৃণ রাখতে হবে। বিষয়টি ট্র্যাফিক পুলিশকে খেয়াল রাখতে হবে। এর নিচের রাস্তাও মসৃন রাখা আবশ্যক। ফ্লাইওভারের নিচে যাতে অবৈধ দোকানপাট বসতে না পারে এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ফ্লাইওভারের নিচের জায়গায় সবুজ বনায়ন ও ফুলের বাগান করার মাধ্যমে এর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা যেতে পারে। এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়, ফ্লাইওভারটির যথাযথ ব্যবহার রাজধানীর যানজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং মানুষের কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধি ও ভোগান্তি কমাবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ফ্লাইওভার


আরও
আরও পড়ুন