Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

কোচিং বাণিজ্যে বন্ধে দুদকের সুপারিশ

মালেক মল্লিক | প্রকাশের সময় : ২ নভেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

৫২২ শিক্ষককে বদলি করতে হবে
কোচিং বাণিজ্য বন্ধে রাজধানীর ঢাকায় ২৪টি সরকারি স্কুলের ৫২২জন শিক্ষককে অন্যত্র বদলি করার সুপারিশ করেছে দুনীর্তি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে ঢাকার ৪টি, গাজীূপরের ১টি চট্রগ্রামের ১টি এবং বরিশালসহ সাতটি সরকারি স্কুলের ৭ জন শিক্ষককে ভবিষ্যতে পদায়ন করা না করতে বলেছে দুদক। এই শিক্ষকরা দীর্ঘ ১০ থেকে ৩০ বছর যাবত একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। বছরের পর বছর এক স্থানে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন তারা। নামে বেনামে কোচিং সেন্টার গড়ে তুলেছেন ওই শিক্ষকরা। অবাধ কোচিং বাণিজ্যের চালিয়ে মোটা অংকের অর্থ উপাজন করছেন। তদন্ত শেষে দুদকের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের দলের প্রতিবেদনে এসব চিত্র উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, এইসব শিক্ষকদের বদলি না করার পেছনে রাজনৈতিক চাপ, তদবির ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেন রয়েছে উল্লেখ করা হয়। অথচ সরকারি নীতিমালা অনুয়ারী এক কর্মস্থলে তিন বছরের অধিক সময় অতিবাহিত হলেই অন্যত্র বদলি করার নির্দেশনা রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ার‌্যমান ইকবাল মাহমুদ ইনকিলাবকে বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা নিয়ে কারও ছিনি-মিনি করার অধিকার নেই। এক্ষেত্রে আমাদের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, প্রতিবেদনটি কমিশনের কর্মকর্তা পর্যায়ে জমা হয়েছে বলে শুনেছি। প্রতিবেদনটি এখনও কমিশন পর্যায়ে আসেনি। কমশনে উপস্থাপিত হলে কমিশন পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, গত বছরের শেষের দিকে ঢাকা মহানগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি বাণিজ্য, কোচিং বানিজ্য ও নিয়োগ বানিজ্যের নামে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ আসে। কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে কমিশনের পরিচালকের নের্তৃত্বে বিষয়টি তদন্তে ৫ সদস্যের বিশেষ টিম গঠন করা হয়। টিমের সদস্যগণ প্রাথমিক প্রতিবেদন কমিশনে চলখি বছর শুরুতে দাখিল করেন। এমতাবস্থায় আরেকটি অভিযোগ আসে, যেখানে বলা হয় সিন্ডিকেট তৈরি করে বিভিন্ন সরকারি স্কুলে কতিপয় শিক্ষক সরকারি নীতিমালার তোয়াক্ক না করে ২০ থেকে ২৫ বৎসর একই বিদ্যালয়ে কর্মরত থেকে প্রাইভেট পড়ানোর নামে কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা করে। দুদক একই টিমকে দায়িত্ব দেয় অনুসন্ধানের জন্য। টিমটির সদস্যরা গতকাল বুধবার এ বিষয়ে প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করে।
এতে দেখা যায়, শিক্ষক পাঠদানে মনোযোগী না হয়ে প্রাইভেট পড়ানোর কাজেই বেশি ব্যস্ত থাকেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকধীন গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল,মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাইস্কুল,শেরে বাংলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়,গণভবন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়,ধানমন্ডি কামরুনন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়সহ ২৪টি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫২২ জন শিক্ষক রয়েছেন যারা ১০ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৩৩ বছর পর্যন্ত একই বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। এসকল শিক্ষকদের সরকারি নীতিমালা অনুসারে বদলি করা হয়নি বা হচ্ছে না।
বদলিকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের সংখ্যা:- গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের ৩২ জন, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৬ জন, ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুলের ১৭ জন, মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৪ জন, শেরেবাংলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৭ জন, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ সংযুক্ত হাই স্কুলের ২৫ জন, খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩১ জন, তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২১ জন, গণভবন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৪ জন, মিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯ জন, নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯ জন, নারিন্দা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩১ জন, ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের ২৯ জন, আরমানিটোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ২১ জন, ঢাকা গভর্নমেন্ট মুসলিম হাই স্কুলের ৯ জন, ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ জন, মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩২ জন, বাংলাবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২২ জন, টিকাটুলী কামরুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩০ জন, তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৮ জন, শেরেবাংলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৪ জন, ধানমন্ডি কামরুন্নেছা সরকারি বিদ্যালয়ের ৭ জন, ধানমন্ডি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ জন ও নিউ গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুলের ৭ জন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এক কর্মস্থলে বছরের পর বছর থাকার ফলে ওই শিক্ষকরা প্রাইভেট পড়ানোর নামে কোচিং সেন্টার গড়ে তুলেছেন এবং শিক্ষার্থীদের সেখানে পড়তে বাধ্য করা হয়। দশ বছরের বেশি কোনো শিক্ষক এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে তাকে বিভাগের বাইরের বিদ্যালয়গুলোতে বদলির সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া পাঁচ বছরে বেশি সময় কমর্রত শিক্ষকদের ঢাকা নগরীর বাইরে এবং তিন বছরের বেশি সময় এক বিদ্যালয়ে কমর্রত থাকলে অন্য বিদ্যালয়ে বদলির সুপারিশ করেছে দুদক।
এছাড়া সাত জেলা শিক্ষা অফিসারকে জেলায় দায়িত্ব না দিয়ে ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম ও বরিশালের সাত বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এসব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বদলি নিশ্চিতের পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাদেরকে শিক্ষক হিসেবে পদায়ন না করতে বলা হয়। সুপারিশসমূহ- ১০ বৎসর বা এর অধিক সময় যে সকল শিক্ষকগণ একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন তাদেরকে বিভাগের বাইরে বদলি করা; পাঁচ বছরে অধিককাল কর্মরত শিক্ষকগণকে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে বদলি নিশ্চিত করা; যে সকল শিক্ষক ৩ বৎসরের অধিককাল একই বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন ঐ সকল শিক্ষকদের অন্যত্র বদলি নিশ্চিত করা ইত্যাদি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে দেশের ৭ জন জেলা শিক্ষা অফিসারকে জেলার দায়িত্ব না দিয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাদের বদলি করে জেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে বদলি নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ জাতীয় কর্মকর্তাদের প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদায়ন না করতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: দুদক

২৭ মার্চ, ২০১৯
২৪ জানুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন