Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

দুঃসময়ে রোনালদোর রিয়াল

নক-আউট পর্বে টটেনহ্যাম-ম্যানসিটি

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩ নভেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

লা লিগায় অক্ষত জিরোনার কাছে হারের ক্ষত না শুকোতেই আবারো একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হলো রিয়াল মাদ্রিদকে। এবারের ক্ষতটা আরো বড়। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের টানা ৩০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড থামিয়ে নক-আউট পর্ব নিশ্চিত করেছে টটেনহ্যাম হটস্পার। হারের ব্যবধানটাও একেবারে ছোট নয়, ৩-১ গোলের!
শুধু স্পার্সরা নয়, গোটা ইংলিশ ফুটবল ভক্তদের জন্যই পরশু রাতটা ছিল উৎসবের। নাপোলিকে তাদেরই মাঠে ৪-২ গোলে বিধ্বস্ত করে টটেনহামের সঙ্গী হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। প্রিমিয়ার লিগের আরেক দল লিভারপুলও জিতেছে ঠিকই কিন্তু এখনো শেষ ষোলর টিকিট হাতে পায়নি তারা।
সার্জিও আগুয়েরোর জন্য রাতটা ছিল স্পেশাল। নাপোলসে স্কোরবোর্ড যখন ২-২ সমতা, ঠিক তখন দারুণ গোলে দলকে এগিয়ে নেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। একই সাথে বনে যান ম্যান সিটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ১৭৮ গোল করে এতদিন রেকর্ডটা ধরে রেখেছিলেন ইংলিশ ফুটবলার এরিক বুক। তার মৃত্যুর ৫২ বছর পর রেকর্ডটা দখলে নিলেন আগুয়েরো।
ঘরের মাঠে ইনসিগনিয়ের গোলে প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল নাপোলিই। প্রথমার্ধ ১-১ সমতায় শেষ হয় নিকোলাস ওটোমেন্ডির গোলে। ফিরে এসেই আসরের তৃতীয় গোল করে দলকে এগিয়ে নেন জন স্টোনিস। খানিক বাদে ফ্রেলো ফিলহোর পেনাল্টি গোলে স্কোরবোর্ডে সমতা ফেরায় স্বাগতিকরা। এর ৭ মিনিট পরেই আসে সেই মহেন্দ্রক্ষণ। পেপ গার্দিওলার মুখে হাসি ফোঁটান আগুয়েরো। যোগ করা সময়ে স্টার্লিংয়ের গোলে জয়ের ব্যবধান বাড়ে। এমন শিষ্যকে দলে পেয়ে যে কোন কোচ উচ্ছ¡াসিত হবেন। টানা ২২ ম্যাচ দলকে অপরাজিত রাখা কোচ গার্দিওলাও উচ্ছ¡াসিত, ‘ম্যানচেস্টার সিটির জন্য এই খেলোয়াড়কে ইতিহাসের অংশ হিসেবে পাওয়াটা দারুণ।’
বাজে সময় যাচ্ছে কেবল রিয়ালের। গত ৫ বছরে এই প্রথম আসরের গ্রæপ পর্বে হারের স্বাদ পেল তারা। গত ৯ বছরে এমন বড় হার এই প্রথম। এর আগে লা লিগার ম্যাচে নবাগত দল জেরোনার কাছে ২-০ গোলে হেরে বসে জিনেদিন জিদানের দল। ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে তো এগিন তো তাদের দাঁড়াতেই দেয়নি মউরিসিও পচেত্তিনোর দল। হ্যামস্ট্রিং শঙ্কা কাটিয়ে শুরু থেকেই একাদশে ছিলেন হ্যারি কেইন। এদিন ইংলিশ স্ট্রাইকার গোল না পেলেও উজ্জ্বল ছিল তার পারফর্ম্যান্স। দলও খেলেছে চ্যাম্পিয়নদের মতই। রিয়ালের মত সেরা দলকে হারিয়ে তাই উচ্ছ¡াস আটকে রাখতে পারেননি পচেত্তিনো, ‘আজ মনে হচ্ছে টটেনহ্যাম বড় দল। আমরা কেবল ইংল্যান্ডে নই, ইউরোপেরও একটা দল।’ আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘অনেক প্রস্তুতির পর, অনেক পরিশ্রম ও চেষ্টার পর এই সাফল্য। আমরা এখন বড় প্রতিযোগিতা জিততে চায়।’
৫৬তম মিনিটে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় টটেনহ্যাম। দুটি গোলই করেন প্রতিপক্ষ কোচকে মধ্যমা দেখিয়ে এক ম্যাচে নিষেধাজ্ঞায় থাকা দেলে আলী। ৯ মিনিট পর রিয়ালের আশার বাতি নিভিয়ে দেন ইরকসেন। ৮০তম মিনিটে বার্নাব্যুর দলের হয়ে সান্ত¦নাসূচক গোলটি করেন রোনালদো। কিন্তু দলের নাম যেহেতু রিয়াল মাদ্রিদ সেহেতু এমন গোল কি তাদের সান্ত¦না দিতে পারে।
সান্ত¦না নেই জিদানের কাছেও, ‘অবশ্যই আমরা বাজে সময়ের মধ্যে আছি। এটাই জীবন। জীবনে অনেক সময় এমন কিছু মেনে নিতে হয়। সময়টা যে ভালো যাচ্ছে না তা স্বীকার করেছেন দলের প্রাণভোমরা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ‘আমরা বাজে একটি অবস্থায় আছি। এ থেকে আমরা বের হতে চাই আর সেটা আমাদের করতেই হবে।’ তবে এটাকে সংকট মানতে নারাজ বর্ষসেরা এই তারকা, ‘এটা কখনই সংকট নয়। আমরা তিন-চারটা ম্যাচ হারতে পারি। কিন্তু তা কখনো সংকট নয়। আমরা যা করেছি আপনি তা ভুলতে পারেন না।’
এক নজরে ফল
টটেনহ্যাম ৩ : ১ রিয়াল মাদ্রিদ
পোর্তো ৩ : ১ লাইপজিগ
নাপোলি ২ : ৪ ম্যান সিটি
সেভিয়া ২ : ১ স্পার্তাক মস্কো
ডর্টমুন্ড ১ : ১ অ্যাপোয়েল
শাখতার দোনেৎস্ক ৩ : ১ ফিয়েনর্ড
লিভারপুল ৩ : ০ মারিবর



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন