Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ৪ কার্তিক ১৪২৭, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

দেশের সম্পদ ও বিশ্বশান্তি রক্ষায় ভূমিকা রাখবে তিনটি যুদ্ধ জাহাজ- চট্টগ্রামে কমিশনিং অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ১৯ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১:১৭ পিএম, ১৯ মার্চ, ২০১৬

চট্টগ্রাম ব্যুরো : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার চট্টগ্রামে বানৌজা ‘সমুদ্র অভিযান’ বানৌজা ‘স্বাধীনতা’ ও বানৌজা ‘প্রত্যয়’ নামক তিনটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুদ্ধ জাহাজের কমিশনিং (উদ্বোধন) শেষে বলেছেন, দেশের সম্পদ ও বিশ্বশান্তি রক্ষায় এই তিনটি যুদ্ধ জাহাজ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের বিশাল পানিসীমার সুরক্ষায় নৌবাহিনীর অভিযানের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নৌবহরে সংযোজিত হলো নতুন তিনটি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনটি জাহাজের অধিনায়কদের হাতে কমিশনিং ফরমান তুলে দেন। এর মধ্যদিয়ে যুদ্ধজাহাজ তিনটি নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করলো। জাহাজ তিনটি নৌবাহিনীতে অন্তর্ভূক্তির ফলে দেশের বিশাল সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার পাশাপাশি সমুদ্রে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধ, গভীর সমুদ্রে উদ্ধার তৎপরতা বৃদ্ধি, মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ, তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের ব্লকসমূহে অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সার্বিকভাবে দেশের ব্লু ইকোনমি (সামুদ্রিক অর্থনীতি) উন্নয়নে সহায়ক হবে এমনটি আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। কমিশনিং অনুষ্ঠানে নৌবাহিনীকে একটি আধুনিক শক্তিশালী ও সক্ষম ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রয়াসের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাছাড়া যুদ্ধবহর বৃদ্ধির পাশাপাশি নৌবাহিনীর নিজস্ব বিমান ঘাঁটিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সুবিধা বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়সমূহ গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা ও দুর্যোগ মোকাবেলায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে আধুনিক নৌবাহিনীর স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি তা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনটি যুদ্ধ জাহাজ সংযোজনের মধ্যদিয়ে দেশের নৌবাহিনী আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো। তিনি বলেন, এসব জাহাজের প্রয়োজন কেবলই নৌবাহিনীর জন্য নয়, তা সমগ্র জাতির জন্যই এগুলো কাজে লাগবে। সদ্য সংযোজনকৃত বানৌজা ‘সমুদ্র অভিযান’ যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবং বানৌজা ‘স্বাধীনতা’ ও ‘প্রত্যয়’ চীন থেকে আনা হয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম নৌ ঘাঁটিতে এসে পৌঁছালে নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল এম আখতার হাবীব স্বাগত জানান। বানৌজা ‘সমুদ্র অভিযান’ জাহাজটি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২৯ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম। অন্যদিকে বানৌজা ‘স্বাধীনতা’ ও ‘প্রত্যয়’ নামক আধুনিক ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ দুটি বিমান বিধ্বংসী কামান, জাহাজ বিধ্বংসী মিসাইল এবং সমুদ্রের তলদেশের টার্গেটে আঘাত হানতে সক্ষম। নৌবাহিনী সূত্র জানায়, বানৌজা ‘সমুদ্র অভিযান’ বাংলাদেশ নৌবহরের ৯ম ফ্রিগেট স্কোয়াড্রনের দ্বিতীয় যুদ্ধজাহাজ। এই স্কোয়াড্রনের প্রথম যুদ্ধজাহাজ বানৌজা ‘সমুদ্র জয়’ ২০১৩ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কমিশনিং করা হয়। ৩ হাজার ৩১৩ টন ওজনের সমুদ্র অভিযান যুদ্ধ জাহাজটির দৈর্ঘ্য ১১৫ মিটার। জাহাজটিতে ২টি ডিজেল ইঞ্জিন এবং ২টি গ্যাস টারবাইন রয়েছে। চীন থেকে আনা করভেট ক্লাসের মিসাইল ফ্রিগেট ‘স্বাধীনতা’ ও ‘প্রত্যয়’ জাহাজ দুটি দৈর্ঘ্যে ৯০ মিটার, যা সর্ব্বোচ্চ ২৫ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম। 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ