Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯, ০৮ চৈত্র ১৪২৫, ১৪ রজব ১৪৪০ হিজরী।

কালো অর্থ নিয়ে ফের প্রশ্নের মুখে মোদী

ইনকিলাব ডেস্ক: | প্রকাশের সময় : ৮ নভেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

বিদেশে গচ্ছিত কালো অর্থ নিয়ে ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকার। এবার প্যারাডাইস পেপার্স নামের নথিতে ক্ষমতাসীনদের নাম নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মোদী। সাংবাদিকদের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের তদন্তে জানা গেছে, কর ফাঁকির স্বর্গরাজ্য বলে পরিচিত দেশগুলোতে অর্থ পাচার, লগ্নি বা লেনদেন সংক্রান্ত নথিতে ৭১৪ জন ভারতীয়ের নাম রয়েছে। এখনো পর্যন্ত প্রকাশিত তালিকায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়ন্ত সিনহা, বিজেপি সংসদ সদস্য আর কে সিনহা, কংগ্রেস নেতা অশোক গহলৌত, অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন, ব্রিটেনে আশ্রয় নেয়া শিল্পপতি বিজয় মাল্যের পাশাপাশি আরো একঝাঁক নেতা, শিল্পপতি, বলিউডের অভিনেতা, চিকিৎসকের নাম রয়েছে। ভারতের বহু কর্পোরেট সংস্থার নামও রয়েছে ‘প্যারাডাইস পেপার্স’ নামের এই নথিতে। কালো অর্থের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও নরেন্দ্র মোদীর সাড়ে তিন বছরের শাসনে এইচএসবিসি-নথি কেলেঙ্কারি এবং ‘পানামা পেপার্স’ ফাঁস হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই দুই নথিতেই বহু ভারতীয়র বিদেশে কালো টাকা গচ্ছিত রাখার খবর মিললেও মোদী সরকার সে ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপই নেননি। অথচ পানামা পেপার্স-তদন্তের জেরেই পাকিস্তানের খোদ প্রধানমন্ত্রীকে পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হয়েছে। এর মধ্যেই মোদী সরকারের চাপ বাড়িয়ে বিমান প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত সিনহার পদত্যাগও দাবি করেছে কংগ্রেস। অরুণ জেটলির অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন তথ্যের ভিত্তিতে অবিলম্বে যথোচিত পদক্ষেপ নেয়া হবে। কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর পর্ষদের চেয়ারম্যানের অধীনে তৈরি ‘মাল্টি এজেন্সি গ্রæপ’ এই তদন্তে নজরদারি চালাবে। যাতে আয়কর দফতর, ইডি, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, আর্থিক গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারাও থাকবেন। সেবি-ও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করবে। তা ছাড়া এ পর্যন্ত অন্যান্য তদন্তের ক্ষেত্রে যা যা তথ্য মিলেছে, সব ক্ষেত্রেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও সরকারের দাবি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রের যুক্তি, বিদেশে অর্থ গচ্ছিত রাখা মানেই তা কালো অর্থ বা বেআইনি নয়। যদি না এ দেশের আয়কর দফতরের থেকে তা গোপন করা হয়ে থাকে। এই যুক্তি দিয়েই জয়ন্ত সিনহা বলেন, আমি ব্যক্তিগত স্তরে কিছু করিনি। যে সংস্থার হয়ে কাজ করতাম, তার হয়েই যা করার করেছি। সব তথ্যই সরকারি সংস্থাকে জানানো রয়েছে। কী এই ‘প্যারাডাইস পেপার্স’? প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ নথি মূলত বারমুডার আইন সংস্থা অ্যাপলবাই ও সিঙ্গাপুরের এশিয়াসিটি সংস্থার মধ্যে তথ্যের আদানপ্রদান। এই সংস্থা দু’টি মূলত কর ফাঁকি দিতে বিভিন্ন সংস্থাকে কর ফাঁকির স্বর্গরাজ্য বলে পরিচিত দেশে লগ্নিতে সাহায্য করে। ওয়েবসাইট।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মোদী

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন