Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭, ০৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
শিরোনাম

আপনাদের জিজ্ঞাসার জবাব

| প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

প্রশ্ন : জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনিয়তা কতখানি?
উত্তর : সকল সৃষ্টির মধ্যে মানুষকেই মহান আল্লাহ তা’আলা জাল্লা শানহু জ্ঞান অর্জনের যোগ্যতা দান করেছেন। আর এটা হলো মহান আল্লাহ তা’আলা জাল্লা শানহু’র পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম ও উত্তম নেয়ামত। মহান আল্লাহ তা’আলা জাল্লা শানহু মানুষকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন জ্ঞান দানের মাধ্যমে। যা পবিত্র কুরআনের ভাষায় “আর তিনি আদম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস্সালাম)কে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিয়েছেন।” (সুরা আল বাকারা ঃ ৩১) অত:পর সম্মুখীন করলেন ফিরিশতাকুল ও জ্বীন জাতির। বিভিন্ন প্রশ্ন করলেন তাদের। কিন্তু তারা জ্ঞানের অভাবে উত্তর দিতে অসমর্থন হলেন। ফিরিশতাগণ তখন মহান আল্লাহ তা’আলা জাল্লা শানহুকে বললেন, আপনি মহান, পবিত্র। আপনি আমাদের যা শিক্ষা দিয়েছেন তাছাড়া আমাদেরতো কোনো জ্ঞান নেই। বস্তুতঃ আপনি জ্ঞানময় ও প্রজ্ঞাময়। (সুরা আল বাকারা ঃ ৩২)
মহান আল্লাহ তা’আলা জাল্লা শানহু এবার একই প্রশ্ন করলেন, তারই সৃষ্টিপ্রথম মানব হযরত আদম আলাইহিস সালাতু ওয়াস্সালাম কে। মহান আল্লাহ তা’আলা জাল্লা শানহু প্রদক্ত জ্ঞানের আলোকে উদ্ভাসিত আদি পিতা সকলের সামনে নির্বিঘেœ ও সাবলীল ভাবে উত্তর দিতে থাকলেন। জ্বীন ও ফিরিশতাগণ আর্শ্চয্য হয়ে গেলেন বাবা আদম আলাইহিস সালাতু ওয়াস্সালাম’র জ্ঞানের ব্যাপক পরিধি ও গভীরতা দেখে। ইবলিশ (আযাযিল) ছাড়া সকল ফিরিশতা মহান আল্লাহ তা’আলা জাল্লা শানহু’র নির্দেশে হযরত আদম আলাইহিস সালাতু ওয়াস্সালাম’র কাছে মাথা নত করে দিলেন। প্রমাণ হলো, জ্ঞানের বিকল্প নেই এবং শ্রেষ্ঠত্ব লাভের মাফকাঠি কেবল জ্ঞান। জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে মানুষ যেমন তার পার্থিব প্রয়োজন পুরণের উত্তম পন্থা আবিস্কার করতে পারে ঠিক তেমনি মহান আল্লাহ তা’আলা জাল্লা শানহু’র সন্তুষ্টি- অসস্তুষ্টি এবং আখেরাতের সফলতা- ব্যর্থতার জ্ঞানও ধারণ করতে পারে। ন্যায় অন্যায়বোধ এবং আসমানী ইলমের উপযুক্ততার কারণেই মানুষের জন্য এসেছে হালাল- হারামের বিধান। মানুষ ছাড়া অন্যান্য প্রাণির এই যোগ্যতা নেই। তাদের জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় উপকরণ তাদের সাথেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন শীত গ্রীষ্মের প্রকোপ থেকে আত্মরক্ষার জন্য পশম, অন্ধকারে পথ দেখার জন্য চোখে বিশেষ শক্তি ইত্যাদি। তদ্রæপ প্রত্যেক প্রাণীর মধ্যেই রয়েছে জীবন ধারণের জন্য সহজাত বোধ ও প্রবণতা। যার দ্বারা চালিত হয়ে তারা আত্মরক্ষা করে ও বংশ বিস্তার করে। কিন্তু এ পর্যন্তই। পশু পাখির জীবন প্রজন্মান্তরে স্বভাবের গন্ডিতে বাধা। স্বভাবের বৃত্ত থেকে তাদের উত্তরণ ঘটে না। পক্ষান্তরে মানুষ শিক্ষা অর্জন করে এবং শিক্ষা দান করে। শিক্ষার মাধ্যমে অজানাকে জানার এবং জানা বিষয়কে কাজে লাগিয়ে অজানার সন্ধান করার যোগ্যতা একমাত্র মানুষেরই আছে। তাই পৃথিবীর শাসন ও নিয়ন্ত্রণের ভার তাদের উপর অর্পিত। ইসলামে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। হেরা গুহায় প্রিয়নবী সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর সর্ব প্রথম যে অহি নাযিল হয় তা হচ্ছে, “পড়ো, তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্তপিন্ড থেকে।” (সূরা আলাক : ১,২) মহান আল্লাহ তা’আলা জাল্লা শানহু’র আদেশে মানুষ যেমন পেয়েছে জীবনের আলো ঠিক তেমনি মহান আল্লাহ তা’আলা জাল্লা শানহু’র কাছ থেকেই লাভ করেছে ইলমের নুর। ইলমের মাধ্যমে মানুষ নবজন্ম লাভ করে। মহান আল্লাহ তা’আলা জাল্লা শানহু’র মারিফত যখন মানুষের মধ্যে আসে তখন সে প্রকৃত মানুষ হয়।
মহান আল্লাহ তা’আলা জাল্লা শানহু নবী রাসুল গণের উপর আসমানী কিতাব নাযিলের মাধ্যমে মানুষকে জ্ঞান দান করেছেন। তাই নবী রাসুলগণ ছিলেন, প্রকৃত জ্ঞানের ধারক, বাহক। প্রথম নবী হযরত আদম আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম থেকে শুরু করে সর্বশেষ রাসুল প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সকলের উপর আসমানী কিতাব নাযিল হয়েছিলো অন্ধকারাচ্ছন্ন, পথভ্রষ্ট মানুষকে সত্য ও আলোর পথে নিয়ে আসার জন্য। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, “তিনিই নিরক্ষরদের মধ্যে তাদের একজনকে রাসুল করে প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদেরকে আল্লাহ’র আয়াত সমূহ পাঠ করে শোনান এবং তাদেরকে পবিত্র করেন আর তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেন, যদিও তারা ইতিপূর্বে ছিলো ঘোর পথভ্রæষ্টতায় নিপতিত।” (সুরা আল জুমু’আ : ২) মহান আল্লাহ তা’আলা জাল্লা শানহু আরো বলেন, “এই কিতাবে আমি কোনো কিছু বাদ দেইনি।” (সুরা আনয়াম : ৩৮) “আমি তোমার উপর এমন গ্রন্থ নাযিল করেছি, যাতে সকল জিনিসের বর্ণনা আছে।” (সুরা নাহল : ৮৯) “আমি অবশ্যই জ্ঞানবান লোকদের জন্য আয়াত সমূহকে বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করেছি।” (সুরা আনয়াম : ৯৭) উপরোক্ত আয়াতে কারিমা গুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মহান আল্লাহ তা’আলা জাল্লা শানহু পবিত্র আল কুরআনকে বিজ্ঞানের উৎস হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এই পবিত্র আল কুরআনে আজ থেকে প্রায় ১৪৩৫ বছর পূর্বে যে সকল বৈজ্ঞানিক তত্ত¡ ও তথ্য বর্ণনা করা হয়েছিলো, আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষনার মাধ্যমে সে সব কিছুই বাস্তব সত্যে পরিণত হচ্ছে।
পৃথিবীর সকল ধর্ম, সভ্যতা, সংস্কৃতি, মত, পথ ও আদর্শই জ্ঞান অর্জনের উপর সর্বাদিক গুরুত্ব আরোপ করেছে। ইসলামে জ্ঞান অর্জনকে ফরয বা অবশ্য কর্তব্য হিসেবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইসলামি জীবন বিধানে মূর্খতা, অজ্ঞানতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বর্ণিত হয়েছে, শিক্ষার্থীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও পবিত্র। যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে বের হয়েছে, সে মহান আল্লাহ তা’আলা জাল্লা শানহু’র রাস্তায় রয়েছে, যে পর্যন্ত না সে প্রত্যার্তন করে। বিদ্যার মত চোখ আর নেই। সত্যের চেয়ে বড় তপস্যাও আর নেই। পবিত্র কুরআন হলো সকল জ্ঞানের উৎস। দুনিয়াতে কুরআনের চেয়ে উত্তম বস্তু আর কিছু নেই, তাইতো প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যাক্তি সেই, যে নিজে কুরআন শিখে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়।” ইসলাম শৈশবকাল থেকেই জ্ঞান অর্জনের তাগিদ দিয়েছে। ফরমানে মুস্তাফা সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হচ্ছে, “দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অর্জন করো।”
উত্তর দিচ্ছেন : মুহাম্মদ বশির উল্লাহ

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।