Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ০৯ বৈশাখ ১৪২৮, ০৯ রমজান ১৪৪২ হিজরী

ভূমি ব্যবস্থাপনা লেজেগোবরে

জনবল সংকট, সাড়ে ৭ হাজারের মধ্যে সাড়ে ৪ হাজার পদ শূন্য

পঞ্চায়েত হাবিব | প্রকাশের সময় : ১২ নভেম্বর, ২০১৭, ৬:১৪ পিএম

মাঠ পর্যায়ে ভূমি প্রশাসনে জনবল সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। জনবল না থাকায় অধঃস্তন পদের কর্মকর্তারা উচ্চতর দায়িত্বপালন করছেন। এতে করে ভূমি ব্যবস্থাপনায় লেজেগোবরে অবস্থা বিরাজ করছে। জনবলের অভাবে এক দিকে যেমন সুষ্ঠুভাবে কোন কাজই সম্পন্ন করা যাচ্ছে না, তেমনি ভাবে সরকার হারাচ্ছে শত কোটি টাকা ও মূল্যমানের সরকারি সম্পত্তি। সরকার প্রতি বছর পুলিশ ও সরকারি স্কুলগুলোতে যে হারে শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে সেই তুলনায় ভূমি ব্যবস্থাপনায় জনবল নিয়োগ দিচ্ছে না। ফলে ভূমি ব্যবস্থাপনায় হযবরল অবস্থা বিরাজ করছে। দেশের আদালতগুলো বিচারাধীন মামলার ৮০ ভাগই হচ্ছে ভূমি বিরোধ সংক্রান্ত। এখানেই শেষ নয় বরং দিনে দিনে ভূমি সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা বেড়েই চলছে। আবার সঠিক কাগজ পত্র থাকার পরও জমির মালিকরা হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের এ তথ্য জানা গেছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আব্দুল জলিল ইনকিলাবকে বলেন, কিছু মামলা থাকার কারণে জনবল নিয়োগে কিছু সমস্যা হচ্ছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আমাদের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ গুলো সমাধান হলে জনবল নিয়োগ দেয়া সম্ভব হবে। আমরা দ্রুত সমস্যা সমাধানের কাজ করছি।

ভূমি রেকর্ড ও জরিপ(ভূরেজ) অধিদফতরের মহাপরিচালক শেখ আব্দুল আহাদ ইনকিলাবকে জানান, আমরা জনবল নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। আমাদের জনবল না থাকার কারণে সমস্যা হচ্ছে। এর বেশি কিছু বলাতে চাই না।

ভূমি রেকর্ড ও জরিপ(ভূরেজ) অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বিপুল সংখ্যক জনবলের পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কাজ নানা ভাবে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। জনবল নিয়োগের আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই অনুসারে এ নিয়ে ৫ বার অনুমোদন চেয়ে জনপ্রশাসনে ফাইল পাঠিয়েছি। তবে নানা ধরণের কোয়ারি দিয়ে তারা ফাইল ফেরত পাঠিয়েছেন। এ ছাড়া কানুনগো, সাবএসও এবং এএসওদের নিয়োগ মন্ত্রণালয় দিয়ে থাকে। মামলার কারণে ভূমি মন্ত্রণালয় ওই পদগুলোতে জনবল নিয়োগ দিতে পারছে না। আশার খবর হচ্ছে কিছু দিনের মধ্যেই সমস্যা সমাধান হবে বলে আশা করি। নিয়োগ প্রক্রিয়াও শুরু করা যাবে বলেও জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, জনবল সংকটের থাকার কারণে অনেক জেলায় প্রকৃত জমির মালিকরা রেকর্ড করতে পারছে না। সে জমি গুলো আবার সরকারি হচ্ছে। এজন্য অনেক মামলা বাড়ছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ভূমি প্রশাসন অনুমোদিত জনবলের পদ হচ্ছে ৭ হাজার ৬৩২ টি। তার মধ্যে কর্মরত আছেন ৩ হাজার ৩৮২ জন কর্মকর্তা কর্মচারি। শূন্য রয়েছে ৪ হাজার ২৫০ টি পদ। বছরের পর বছর ধরে এ সব পদ শূন্য থাকলেও জনবল নিয়োগের কোন উদ্যোগ নেই। নেই তদারকির ব্যবস্থাও। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ(ভূরেজ)অধিদফতরের আওতায় জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসারের ১৯ টি পদের মধ্যে ১৩ টিতে কর্মকর্তা কাজ করছেন। শূন্য রয়েছে ৬ টি। চার্জ অফিসারের ৩৫ টি পদের মধ্যে ৭ টিতে অফিসার কাজ করছেন। ২৮ টি পদে কোন জনবল নেই। সদর সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের ১০ টি পদের মধ্যে একটিতেও কোন জনবল নেই। সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের ৪১০ টি পদের মধ্যে ৩০৩ টিতে কর্মকর্তা আছেন। ১০৭ টি পদে কোন কর্মকর্তা নেই। অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রথম শ্রেণীর ১৫১ টি পদে কোন জনবল নেই।
অধিদফতরে প্রশাসনিক কর্মকর্তার ১ টি পদ। তাও আবার শূন্য। জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের কারিগরি উপদেষ্টার ১০ টি পদের একটিতেও কোন কর্মকর্তা নেই। অধিদফতর, জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস দিয়ারা অপারেশন এবং সেটেলমেন্ট অফিসে কানুনগো,উপসহকারি সেটেলমেন্ট অফিসার ও সহকারী প্রেস অফিসারের ৬৬৪টি পদ রয়েছে। তার মধ্যে ১৯১টিতে কর্মকর্তা রয়েছে। ৪৭৩ টিতে কোন জনবল নেই। অর্থাৎ দ্বিতীয় শ্রেণীর ৪৮৪ টি পদে কোন জনবল নেই। অধিদফতরে সহকারী জরিপ অফিসারের ৮ টি পদের মধ্যে ৬ টিতে কর্মকর্তা কাজ করছেন। ২ টিতে কোন কর্মকর্তা নেই। অধিদফতরের প্রধানসহকারির(সাধারণ) একটিমাত্র পদ থাকলেও কোন জনবল নেই। প্রধানসহকারির(বাউন্ডারি) একটি মাত্র পদ তাও আবার শূন্য। অধিদফতরে একটি মাত্র হেড ড্রাফটম্যানের পদ থাকলেও তা বছরের পর বছর ধরে শূন্য রয়েছে। ড্রাফটম্যানের ২০ টি পদের মধ্যে ১ টিতে কোন জনবল নেই। সহকারী রেকর্ড কিপারের দুটি পদের মধ্যে একটিতে কোন জনবল নেই। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের ২৩ টি পদের মধ্যে ৬ তি কোন জনবল নেই। সিনিয়র সাব সার্ভেয়ারের পদই মাত্র ২ টি। কিন্তু একটিতেও কোন জনবল নেই। সাব সার্ভেয়ারের ৩৭ টি পদের মধ্যে ১০ টি পদের কোন জনবল নেই। কম্পিউটার অপারেটরের ৪৮ টি পদের মধ্যে ১৮টিতে কোন জনবল নেই। বাউন্ডারি আমীনের ১৮ টি পদের মধ্যে ৫ টিতে কোন জনবল নেই। জিংক কালেক্টরের ১২ পদের মধ্যে ২ টিতে কোন কর্মকর্তা নেই। প্রিন্টারের ২০ টি পদের মধ্যে ৪টিতে কোন জনবল নেই। অধিদফতরে মেকানিকের একমাত্র পদের কোন জনবল নেই এবং কাঠমিস্ত্রির একটি মাত্র পদও শূন্য রয়েছে।
জানা গেছে, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ ভূরেজ অধিদফতরের সেটেলমেন্ট প্রেস অফিসের বিভিন্ন ক্যাটাগরির ২৭টি পদে কোন জনবল নেই। তার মধ্যে সুপারিনটেডেন্ট ১ টি, প্রধানসহকারির ১ টি, ফাইনাল চেকিং কিপারের ১ টি, হিসাব রক্ষকের ১ টি, পেশকারের ১ টি,স্টোর কিপারের ১ টি, রেকর্ড কিপারের ১ টি, সহকারী স্টোর কিপারের ১ টি, মোহরার টু প্রেস সুপার ও সটিং পেশকারের ১ টি করে পদে ওই সব পদে কোন জনবল নেই। মিসটেক পাসারের ৪ টি পদের মধ্যে ৩ টি, চেকারের ২১ টি পদের মধ্যে ৬ টি, প্রুফ রিডারের ২০ টি পদের মধ্যে ৯ টি, সহকারী প্রুফ রিডারের ১৫ টি পদের মধ্যে ২ টি, বিল ক্লার্কের ৫ পি পদের মধ্যে ৩ টি, কম্পোজিটরের ২১০ টি পদের মধ্যে ৯২ টি এবং মেকানিকের ১ টি পদে কোন লোকবল নেই। এছাড়া ৮ জন প্রিন্টারের মধ্যে ৩ জনই নেই। সর্টারের ৭ টি পদের মধ্যে ৩ টি শূন্য রয়েছে। ব্লককালেক্টরের ৫ টি পদের মধ্যে ৩ টি শূন্য। চার্ট রাইটরের ৩ টি পদের মধ্যে ২ টি শূন্য রয়েছে। ব্লক চেকারের একটিমাত্র পদ হলেও তাতে কেউ কাজ করছে না। অর্থাৎ ওই পদে কোন লোক বল নেই। মনোটাইপ সুপার কাষ্টার অপারেটরের ১ টি, এবং কার্পেন্টারের একটি করে পদ থাকলেও তাতে কোন লোকবল নেই। এ সব পদ বছরের পর বছর ধরে শূন্য রয়েছে। কিন্তু তা পূরণে কর্তৃপক্ষের কোন নজর নেই।
ভূরেজ অধিদফতরের দিয়ারা সেটেলমেন্টে তৃতীয় শ্রেণীর ৪৯ টি পদের মধ্যে ২৪ টিতে কোন জনবল নেই। তার মধ্যে প্রধান সহকারীর ৩ টি, নাজির কাম ক্যাশিয়ারের ৪ টি, অফিসসহকারির ২ টি, হেডড্রাফ্টসম্যানের ২ টি, হেড ক্লার্কের ১ টি, ড্রাফ্টসম্যানের ১ টি, হেড এসিসটেন্টের ৩ টি, এলডিকাম টাইপিষ্টের ২ টি, যাঁচ মোহরারের ১ টি, বদর আমীনের ১ টি, ড্রাইভারের ১ টি, সহকারী রেকর্ড কিপারের ১ টি এবং সাঁট কিপারের ২ টি পদে কোন জনবল নেই। ভূরেজ অধিদফতরের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে তৃতীয় শ্রেণীর ৩ হাজার ৮৬১ টি পদের মধ্যে ২ হাজার ৩৫৬ টিতে কোন জনবল নেই। তার মধ্যে ষ্টেনোগ্রাফারের ১০ টির মধ্যে ৩টি, প্রধানসহকারি তথ্য হিসাব রক্ষকের ১৯ টির মধ্যে ১৫ টি, নাজির কাম ক্যাশিয়ারের ১৯ টির মধ্যে ১৯ টি, সহকারী কম্পিউটার অপারেটরের ২৯ টির মধ্যে ১৪ টি, পেশকারের ৪২৮ টির মধ্যে ৩৫৩ টি, কপিষ্টের ১০ টির মধ্যে ১ টি, টাভার্স সার্ভয়ারের ১৬ টির মধ্যে ৮ টি, কম্পিউটার আপারেটরের ২০ টির মধ্যে ৫ টি, ড্রাইভারের ২০ টির মধ্যে ২ টি, ড্রাফসম্যান কাম এরিয়া এষ্টিমিটর কাম সিট কিপারের ৪০৯ টির মধ্যে ১৭৪ টি, রেকর্ড কিপারের ৪০৯ টির মধ্যে ২২ টি, সার্ভেয়ারের ৬১৮ টির মধ্যে ১৪০ টি, খারিজ সহকারীর ৬১৮ টির মধ্যে ৪৪৮ টি, যাঁচ মোহরার ৬১৮ টির মধ্যে ৫৪৮ টি এবং কপিষ্ট কাম বেঞ্চ সহকারীর ৬১৮ রি মধ্যে ৩৬০ টিতে কোন লোকবল নেই। অর্থাৎ এ পদগুলো দীর্ঘ দি ধরে শূন্য রয়েছে। ভূরেজ অধিদফতরে বিভিন্ন পর্যায়ে ৪র্থ শ্রেণীর ১ হাজার ৩৭৪ টি পদের মধ্যে ৪১৬ টিতে কোন জনবল নেই। তার মধ্যে অধিদফতরের ফ্রেম ক্যারিয়ারের ১টি, ডিন্ডিলের ১টি, প্রেসম্যানের ১৮ টি,ইংকম্যানের ২১টি, গেলীবয়ের ২৩ টি, প্রসেস সার্ভারের ১৬২ টি, এমএলএসএসএর ৮ টি, গার্ডের ৫ টি, সুইপারের ৩ টি এবং চেইনম্যানের ১৭২ টি পদে কোন লোকবল নেই। অর্থাৎ পদগুলো বছরের পর বছর শূন্য রয়েছে। এছাড়া ড্রাইভারের ৯ টি, প্রসেস সার্ভারের ২’শটি, এমএলএসএসএর ২০৯ টি এবং চেইনম্যানের ২’শ টি পদ শূন্য রয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভূমি ব্যবস্থাপনা
আরও পড়ুন