Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭, ০৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
শিরোনাম

পরিসংখ্যান ব্যুরোর চূড়ান্ত হিসাব জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬১০ ডলার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩০ নভেম্বর, -০০০১, ১২:০০ এএম

মোট দেশজ আয়ের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিতে প্রথমবারে মতো প্রত্যাশা ছাড়িয়েছে গত অর্থবছর। এরই সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বেড়েছে মাথাপিছু জাতীয় আয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে জিডিপির ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্থবছরের নয় মাসের মাথায় লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশে প্রবৃদ্ধি অর্জনের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চূড়ান্ত হিসেবে প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশে। ২০১৫-১৬ অর্থবছর শেষে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনের কিছু তথ্য তুলে ধরেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে চলতি মূল্যে মাথাপিছু জাতীয় আয় ১ হাজার ৬১০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে মাথাপিছু জাতীয় আয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬০২ ডলার। প্রাথমিক হিসেবের চাইতে চূড়ান্ত হিসেবে মাথাপিছু আয় বেড়েছে আট ডলার। আগের অর্থবছর মাথাপিছু জাতীয় আয় ছিল গত অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ৪৬৫ ডলার। এ হিসেবে বছরের ব্যবধানে জাতীয় আয় বেড়েছে মাথাপিছু ১৪৫ ডলার। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১১ হাজার টাকা।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পরিকল্পনা মন্ত্রী জিডিপি প্রবৃদ্ধিও প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। সকল পর্যায়ের মানুষের মানুষের কর্মতৎপরতার কারণে এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।’
ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ২০২০ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। প্রবৃদ্ধির বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১৯ সালের মধ্যেই এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। ২০২০ সাল থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ৯ থেকে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্য পূরণ হলে ২০৪০ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম উঠবে বলেও তিনি জানান।
পরিকল্পনা মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে বিনিয়োগের বড় একটা অংশ আসছে সরকারি তহবিল থেকে। সরকারি বিনিয়োগে সড়ক, রেলসহ পরিবহন অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন হচ্ছে। বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতেও বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এ সব বিনিয়োগের সুফল আসলে প্রবৃদ্ধি আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
দেশ মূলত কৃষি ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় অর্থনীতিতেও প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি এসেছে বলে ধারণা দিয়েছিল বিবিএস। কৃষি খাতে ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছিল প্রাথমিক হিসেবে। আগাম বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে বোরো ধানের ক্ষতি হওয়ায় চূড়ান্ত হিসেবে কৃষির প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ২ দশমিক ৯৭ শতাংশে। আগের অর্থবছরে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। অন্যদিকে সেবা খাতে প্রাথমিক হিসেবে সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও ধারণা দেয়া হলেও চূড়ান্ত হিসেবে তা ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আগের অর্থবছর সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।
আগের বছরের চাইতে সামান্য কমিয়ে গত অর্থবছর শিল্প খাতে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ধারণা দেয়া হয়েছিল। চূড়ান্ত হিসেবে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ১০ দশমিক ২২ শতাংশে। আগের অর্থবছর শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ০৯ শতাংশ।
কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগের পরিমাণ কমে আসলেও জিডিপির হিসেবে গত অর্থবছর তা সামান্য বেড়েছে। এবারই প্রথম জিডিপির ৩০ শতাংশের ঘর ছাড়িয়েছে বিনিয়োগের হার। জিডিপির ৩০ দশমিক ২৭ শতাংশ অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে বলে প্রাথমিক হিসেবে জানিয়েছিল বিবিএস। চূড়ান্ত হিসেবে এর হার দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৫১ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছর বিনিয়োগ হয়েছিল জিডিপির ২৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এর আগের দুই বছর বিনিয়োগের হার ছিল যথাক্রমে ২৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ ও ২৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

 

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।