Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ০৯ মাঘ ১৪২৭, ০৯ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ধর্ষণ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ আইসিসিতে তোলা হবে

রাখাইনে মিয়ানমার সেনা কমান্ডারকে অপসারণ

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট : | প্রকাশের সময় : ১৫ নভেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

আসিয়ান সম্মেলনের ঘোষণার খসড়ায় রোহিঙ্গা শব্দটিও নেই। মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের দায়িত্বে থাকা তার সেনা কমান্ডারকে সরিয়ে নিয়েছে। রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অপকর্ম আন্তর্জাতিক অপরাধ আলালতে তোলা হবে।
জাতিসংঘের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাখাইনে সেনাবাহিনীর কর্মকান্ডকে জাতিগত নির্মূলের নিরেট উদাহরণ বলে আখ্যায়িত করেছেন। রবিবার জাতিসংঘের ঐ কর্মকর্তা সংগঠিত ধর্ষণ চালানো ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বলে অভিহিত করে বলেন, তিনি বিষয়টি হেগ-এ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) তুলবেন।
যুদ্ধে যৌন সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেন রবিবার বলেন, নিউইয়র্কে ফিরে গিয়ে তাদেরকে নিষ্ঠুরতার জন্য দায়ী করা যায় কিনা সে জন্য বিষয়টি আইসিসি’র কৌসুলি ও সভাপতির কাছে উত্থাপন করবেন।
তিনি বলেন, মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক যৌন সহিংসতার নির্দেশ প্রদান, সংগঠন ও বাস্তবায়ন ঘটেছে। ধর্ষণ গণহত্যার একটি কাজ ও একটি অস্ত্র।
রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুরা তাদের গ্রাম জ¦ালিয়ে দেয়া, পরিবারের সদস্যদের হত্যা ও নারীদের ধর্ষণের জন্য মিয়ানমারের সৈন্য ও উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের অভিযুক্ত করেছে।
প্যাটেন বলেন, বয়স্ক ও শিশুদের হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন এবং গ্রামগুলো পুড়িয়ে দেয়া ও লুট করাসহ সমন্বিত নিপীড়নের প্রেক্ষাপটে বর্বরোচিত যৌন সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে।
তিনি বলেন, উদ্বাস্তুদের কাছ থেকে একটানা ভাবে যৌন সহিংসতার যে সব পদ্ধতির কথা জানা গেছে তার মধ্যে রয়েছে অনেক সৈন্য মিলে গণধর্ষণ, জোর করে প্রকাশ্যে নগ্ন করা ও শ্লীলতা হানি এবং সামরিক বন্দীদশায় যৌন দাসী হিসেবে ব্যবহার। এক নারী জানান, মিয়ানমার সেনবাহিনী যৌনদাসী হিসেবে তাকে ৪৫ দিন বন্দিনী রেখেছিল।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রড বলেন, মাত্র দু’মাসের মধ্যে মিয়ানমার জাতিগত নির্মূল অভিযানে ৬ লাখ রোহিঙ্গাকে উৎখাত করার প্রেক্ষিতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার নিষ্ঠুরতার ব্যাপারে কিছুই না করার নীতি থেকে আসিয়ানের বেরিয়ে আসার সময় হয়েছে।
সেনা কমান্ডারকে অপসারণ
এদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অভিযানের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল মং সোয়েকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। গত শুক্রবারে তাকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সোমবার সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম বিষয়ক এক কর্মকর্তা এ খবর জানান। গত বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের মিয়ানমার সফরের পর পরই এ ঘোষণা এলো।
সোয়ের স্থালাভিষিক্ত হয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোয়ি তিন্ত নেইং। তিনি এত দিন সেনাবাহিনীর লজিস্টিক ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওয়েস্টার্ন কমান্ডের প্রধানকে প্রত্যাহারের কোনো কারণ দেখানো হয়নি।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মনস্তাত্তি¡ক যুদ্ধ ও জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মেজর জেনারেল আয়ে লুইন জানান, তাকে ঠিক কী কারণে সরানো হয়েছে তা জানি না। তাকে নতুন কোনো স্থানে এখনও পদায়ন করা হয়নি। মং সোয়ে দায়িত্বে থাকাকালে গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর হত্যা, ধর্ষণ, দমন-পীড়ন অভিযান শুরু করেন যা এখনও অব্যাহত আছে।
সোমবার ম্যানিলায় দক্ষিণপূর্ব এশীয় দেশগুলোর সমিতির (আসিয়ান) শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণার খসড়ায় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানে রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে উচ্ছেদের কথা উল্লেখ করা হয়নি। মঙ্গলবার সম্মেলন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা প্রদান করার কথা। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ রোহিঙ্গা উচ্ছেদকে জাতিগত নির্মূল বলে আখ্যায়িত করেছে।
রয়টার্স জানায়, আসিয়ান সম্মেলনের খসড়া ঘোষণায় রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে রাখাইনে ‘আক্রান্ত সম্প্রদায়’কে মানবিক সহযোগিতার কথা শুধু উল্লেখ করা হয়েছে। মিয়ানমারের সেনা অভিযানের মুখে ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমানের বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ সম্পর্কেও কোনো কথা ও সেখানে নেই।
ঘোষণার খসড়ায় রাখাইনের পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি এবং রোহিঙ্গা শব্দও ব্যবহার করা হয়নি। মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু কি বিদেশি নেতাদের রোহিঙ্গা শব্দ ব্যবহার পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
আসিয়ান ঘোষণার একটি অনুচ্ছেদে দায়সারা ভাবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের জন্য মানবিক সাহায্যের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ১০ সদস্যের আসিয়ানের বর্তমান সভাপতি ফিলিপাইন এ ঘোষণা প্রণয়ন করে। মিয়ানমার আসিয়ানের অন্যতম সদস্য।
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মিয়ানমারের সরকার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী বলে গণ্য করে। তারা রোহিঙ্গা শব্দ ব্যবহার করে না। রোহিঙ্গা সঙ্কট শুরু হওয়ার পর থেকে মালয়েশিয়াসহ আসিয়ানের সদস্য কয়েকটি মুসলিম দেশ তা নিয়ে জোর উদ্বেগ জানিয়ে আসছিল। তবে আসিয়ানের নীতিতে সদস্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ না থাকার কারণে বিষয়টি সম্মেলনের আলোচ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি।
২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক চৌকির উপর কথিত হামলার প্রেক্ষিতে সেখানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুর দমন অভিযান শুরু হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মিয়ানমার


আরও
আরও পড়ুন