Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ০৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

বিজেপি আসামকে মিয়ানমার বানাতে চায় -আরশাদ মাদানি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ নভেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি বলেছেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য আসামের ৫০ লাখ মুসলমানকে জাতীয় নাগরিকত্ব থেকে বাদ দেয়ার চক্রান্ত চলছে। ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে তাদের ভারত থেকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হবে। আসামকে আসলে মিয়ানমারে পরিণত করার কৌশল ফেঁদেছে বিজেপি সরকার। তাই ২০১৪ সাল অবধি আগত হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে। কিন্তু মুসলমানদের বাংলাদেশি বানিয়ে বাইরে পাঠানো হবে। কিন্তু ভিটে-মাটি থেকে উচ্ছেদ করা হলে ৫০ লাখ মুসলমানও বসে থাকবে না। গত সোমবার ভারতের নতুন দিল্লিতে ধর্মীয় ও ভাষার সংখ্যালঘু সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। অ্যাকশন কমিটি ফর আসাম নামের একটি সংগঠন এর আয়োজন করে। সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আসামের বুদ্ধিজীবী ড. হীরেন গোঁহাই, অধ্যাপক অপূর্ব বরুয়া, আব্দুল মান্নান, বিশিষ্ট আইনজ্ঞ হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক হায়দর হুসেন, মনজিৎ মহন্ত প্রমুখ। খবর দৈনিক আসমীয়া বার্তা, দৈনিক সাদিন, দৈনিক আসমিয়া খবর, আসমিয়া প্রতিদিন।
সম্মেলনে আরশাদ মাদানি বলেন, আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। যারা ভারতীয় নয় তাদের আমরা ভারতীয় বানাতে চাই না। যারা ভারতীয় নয় তাদের বাইরে পাঠিয়ে দাও। কিন্তু যাদের পুর্বপুরুষ ৪শ বছর ধরে আসামে বসবাস করছেন, তাদের বাংলাদেশি বানিয়ে বাইরে ঠেলে পাঠাবেন, এর অনুমতি দেব না আমরা। কিন্তু আসামের বিজেপি সরকার সেটাই করছে।
আদালতে পঞ্চায়েত-নথির বৈধতা খারিজের আড়ালেও ষড়যন্ত্র রয়েছে উল্লেখ করে মাদানি বলেন, ৪শ বছর ধরে আসামে বসবাসকারী মুসলমানদের বাংলাদেশি বানাতেই পঞ্চায়েত-নথি মানা হচ্ছে না। এতে আপত্তি রইলে এতদিন ধরে পঞ্চায়েত নথি যারা জমা দিয়েছেন, তাদের মেনে নেয়া উচিত ছিল সরকারের। এখন থেকে আর গ্রহণ করব না বললে আমরাও আপত্তি করতাম না। কিন্তু এখন ৫০ বছর বয়সী সব মহিলাকে বলবেন ভারতীয় নয়, তাহলে তো বিশাল ঘটনা ঘটে যাবে। তারা কী মরে যাবে? তাদের গলা টিপে দিন। তাদের বাব-দাদা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মত্যাগ করেছেন। কিন্তু এখন তাদের ছেলে-মেয়েদেরই বলা হচ্ছে তারা ভারতীয় নয়। এখন তাদের বাইরে ফেলে দেয়া হবে। আসামে বিজেপি সরকার সেই কৌশল নিয়েছে। তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লোকেরা যেভাবে রাষ্ট্রচালিত হিংসার শিকার হচ্ছেন। আসামের মুসলমানদের ক্ষেত্রেও একই নিয়তি অপেক্ষা করছে।
মাওলানা আরশাদ মাদানীর ভাষায়, ‘২০১৪ সাল পর্যন্ত যেসব হিন্দু আসামে এসেছেন, তাদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে। অথচ চারশো বছর ধরে বসবাসকারী মুসলমানদের বাংলাদেশি বানানো হবে। এখন বলা হচ্ছে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত কর। ভোটাধিকার যখন কেড়ে নেয়া হবে তখন ১০ বছর পর বলা হবে তোমরা ভারতীয় নয়। মিয়ানমারে যা হয়েছে, তখন আটকাবে কে? আসামকে আসলে মিয়ানমার বানানোর কৌশল নেয়া হয়েছে। সেই অভিপ্রায় নিয়ে চলছে বিজেপি সরকার। কিন্তু নাগরিকত্ব থেকে ৫০ লাখ লোককে বাদ দেয়া হলে এর ভয়ঙ্কর পরিণাম হবে। ভিটেহারা হলে মুসলমানরাও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন মনে করিয়ে ভারত সরকারকে মাদানি বলেন, ৫০ লাখ ভারতীয় লোককে যখন ভিটেছাড়া করা হবে, তখন তারা কি বসে থাকবে? আগুন লাগাবে, মরবে, মারবে, খুন হবে অনেকে। রক্ত ঝরবে।
একই আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন সম্মেলনের অন্যতম আয়োজক ড. হীরেন গোঁহাই। তিনি বলেন, ভোটার তালিকাকে ঘিরে সরকারের নানা মন্তব্য, অবস্থানে এক উত্তাপের সৃষ্ট হয়েছে আসামে। ভয় করেছি আমরা সেটা হতে পারে। তাই আমরা এখানকার সচেতন লোকদের কাছে এসেছি। এখানে যুক্তিবাদী, দেশপ্রেমী লোক রয়েছেন তাদের বলেছি, এই বিষয়টি আসলে ভারতে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। (ভারতীয় মিডিয়া অবলম্বনে)

 


Show all comments
  • তানবীর ১৫ নভেম্বর, ২০১৭, ২:০৭ এএম says : 0
    সারা বিশ্বের মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • রাসেল ১৫ নভেম্বর, ২০১৭, ২:০৮ এএম says : 0
    মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ না বলেই ওরা এত সাহস পায়।
    Total Reply(0) Reply
  • মাশরাফী ১৫ নভেম্বর, ২০১৭, ২:০৭ পিএম says : 0
    এখনই এক হয়ে রুখে না দাড়ালে সেইদিন খুব বেশী দেরী নয় যেদিন ভারতের মুসলমানরাও রোহিঙ্গা হবে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ