Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬, ০১ রজব ১৪৪১ হিজরী

প্রতিবেশীদের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকা উচিত

ইনকিলাব ডেস্ক: | প্রকাশের সময় : ২০ নভেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

আসেম সম্মেলনের প্রাক্কালে বাংলাদেশকে মিয়ানমার
মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় তথ্যমন্ত্রী পে মিয়িন্ত জানিয়েছেন, তারা বাংলাদেশকে সব দিক থেকে সহযোগিতা দিতে চান। প্রতিবেশী হিসেবে উভয় দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।
মিয়ানমারে আজ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এশিয়া-ইউরোপের দেশগুলোর জোট আসেম-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দু’দিনের সম্মেলন। এ বৈঠককে সামনে রেখে চীন ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদেরকে দিয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ তৈরির প্রচেষ্টা চালাবে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে মিয়ানমারকে চাপ দেওয়ার আহŸান জানানো হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ।
পে মিয়িন্ত শনিবার দাবি করেন, বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী মিয়ানমার। সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি জরুরি ও অত্যাবশ্যক। আমরা প্রতিবেশী, আমাদের মধ্যে অবশ্যই ভালো সম্পর্ক থাকতে হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে মিয়িন্ত বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সব পর্যায়ে সম্পর্ক জোরদারের জন্য ঘন ঘন বৈঠক করা উচিত। এক দেশের মানুষের সঙ্গে আরেক দেশের মানুষের যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক বন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘আরও কার্যকরভাবে আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কিত হতে হবে।’
দুই দেশের সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন মিয়িন্ত। মিয়ানমার গণতান্ত্রিক রূপান্তরের নবীন স্তরে আছে এবং সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, গতকাল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, ‘চার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এখানে এসেছেন ও তারা খুব অবাক হয়েছেন। এর আগে তারা কখনও এত কম জায়গায় এত বেশি মানুষ দেখেননি। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আসেম সম্মেলনে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন।’
এবার আসেম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং কানেক্টিভিটি দুই মহাদেশের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এ বৈঠকটির মধ্য দিয়ে ১২তম আসেম সম্মেলনের প্রস্তুতি শুরু হবে। ২০১৮ সালের অক্টোবরে ইইউ’র আয়োজনে ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত হবে এই সম্মেলন।
এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যকার সম্পর্ক জোরালো করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৬ সালে ফোরাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় আসেম। প্রতি দুই বছর পর পর একবার এশিয়া এবং একবার ইউরোপে আয়োজিত হয় এ সম্মেলন। আর দুই আসেম সম্মেলনের মাঝের বছরটিতে অনুষ্ঠিত হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক।
উল্লেখ্য, ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার পর সামরিক অভিযান জোরদার করে মিয়ানমার। এ অভিযানের পর ৬ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের অভিযোগ এনেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, রোহিঙ্গারা মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হচ্ছে বলে দাবি করেছে। মিয়ানমার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনা চলছে। সূত্র : ওয়েবসাইট।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মিয়ানমার


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ