Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৬ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৪ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

কমছে তরঙ্গ কনভারশন ফি ও স্পিড

ফোরজি ও তরঙ্গ নীতিমালা সংশোধন

ফারুক হোসাইন : | প্রকাশের সময় : ২০ নভেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

ফোরজি/এলটিই লাইসেন্সিং এবং ২১০০/১৮০০/৯০০ মেগাহার্জ তরঙ্গ নিলামের নীতিমালায় (গাইডলাইন) সংশোধন এনেছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিটিআরসি)। সংশোধিত নীতিমালায় টেকনিউট্রালিটি কনভারশন ফি সাড়ে ৭ মিলিয়ন থেকে কমিয়ে ৪ মিলিয়ন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসাথে ডাটা সংরক্ষণের সময়সীমা, ফোরজির স্পিডও কমানোর কথা বলা হয়েছে। বাদ দেয়া হয়েছে সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল ব্যয়ের সরকারি অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা। সংশোধিত নীতিমালা অনুমোদনের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় হয়ে এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সেখানে অনুমোদন হলেই চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, ফোরজি ও স্পেকট্রাম নিলামের গাইডলাইনের কিছু বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবোঝি ছিল এবং কিছু বিষয় নিয়ে অপারেটরদের আপত্তি ছিল। ১০ অক্টোবর গণভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। যেসব বিষয়ে তাদের ভুল বোঝাবোঝি তা ক্লিয়ার করা হয়েছে। এছাড়া যেসব বিষয়ের আপত্তি যৌক্তিক মনে হয়েছে তা সংশোধন করার জন্য বিটিআরসিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল, সেটা করার পর তারা পাঠিয়েছে।
বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, ফোরজি ও তরঙ্গ নিলামের প্রস্তুতি হিসেবে গাইডলাইন চুড়ান্ত করে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটি। সেটি গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অনুমোদনও দেয়া হয়। তবে ২৫ সেপ্টেম্বর বিটিআরসিতে অনুষ্ঠিত এক সভায় সেই নীতিমালার কিছু বিষয় নিয়ে আপত্তি তোলে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন এসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব)। কমিশন সেই মতামত ও সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন গত ২৭ সেপ্টেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, একই মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কমিশনার ও কর্মকর্তাসহ মোবাইল অপারেটরদের প্রধান নির্বাহী এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে গণভবনে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় এমটব ফোরজি/এলটিই লাইসেন্সিং গাইডলাইন এবং ২১০০/১৮০০/৯০০ মেগাহার্জ তরঙ্গের নিলাম সংক্রান্ত নীতিমালার বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করে। সেখানে এমটব গাইডলাইনের বিভিন্ন ক্লজ বাদ দেওয়া, সংশোধন করাসহ সকল বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয় এবং ২১০০/১৮০০/৯০০ মেগাহার্জ তরঙ্গের কনভারশন ফিসহ কনভারশন প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট নীতিমালাগুলো থেকে বাদ দিয়ে পৃথকভাবে কমিশন থেকে পুনরায় সরকারের অনুমোদনের জন্য প্রেরণের সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯ অক্টোবর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী, একই মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিটিআরসির চেয়ারম্যানসহ একটি সভা হয়। ওই সভায় ফোরজি/এলটিই লাইসেন্সিং গাইডলাইন এবং ২১০০/১৮০০/৯০০ মেগাহার্জ তরঙ্গ নিলাম সংক্রান্ত গাইডলাইন দুটিতে আলোচনা মোতাবেক প্রয়োজনীয় সংশোধন করে পুনরায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে প্রেরণের সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে গাইডলাইন দুটি সংশোধন করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠিয়েছে বিটিআরসি।
কমিশন সূত্রে জানা যায়, সংশোধিত গাইডলাইনে কমানো হচ্ছে তরঙ্গ কনভারশন ফি, ডাটা সংরক্ষণের সময়সীমা, ফোরজির স্পিড, বাদ দেয়া হয়েছে সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল ব্যয়ের সরকারি অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা। জানা যায়, সংশোধিত নীতিমালায় মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছে থাকা তরঙ্গের টেকনিউট্রালিটি কনভারশন ফি প্রতি মেগাহার্জে সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে ৪ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে কোন অপারেটর তার কাছে বিদ্যমান সমস্ত তরঙ্গ কনভারশন করলে এই সুবিধা পাবে। আর যদি আংশিক কনভারশন করে সেক্ষেত্রে সেই অপারেটরকে আগের নির্ধারিত সাড়ে ৭ মিলিয়ন করেই দিতে হবে। এর আগে নীতিমালায় মোবাইল অপারেটরদের ডাটা সংরক্ষণের জন্য ১২ বছর সময়সীমা দেয়া হলেও তা কমিয়ে ২ বছর করা হয়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল ব্যয়ের জন্য সরকারের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতাও শিথিল করা হয়েছে। এরফলে নতুন নীতিমালা অনুযায়ি অপারেটর চাইলে তাদের ইচ্ছেমত সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল ব্যয় করতে পারবে। ফোরজির সংজ্ঞায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে ফোরজির জন্য ন্যূনতম ১০০ এমবিপিএস (মেগাবাইট পার সেকেন্ড) স্পিড নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সংশোধিত নীতিমালায় তা নির্ধারণ করা হয় ২০ এমবিপিএস। এছাড়া যেসব তরঙ্গের টেকনিউট্রালিটি নেয়া হবে সেই তরঙ্গ দিয়ে অপারেটররা ফোরজি, থ্রিজি, টুজিসহ সকল সেবা প্রদান করতে পারবে বলেও নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে। এছাড়া গাইডলাইন অনুযায়ী, ফোরজি লাইসেন্সের জন্য আবেদন ফি পাঁচ লাখ টাকা, লাইসেন্স অ্যাকুইজিশন ফি ১০ কোটি টাকা এবং বার্ষিক লাইসেন্স ফি পাঁচ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সব ক্ষেত্রেই পৃথকভাবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে। এ ছাড়া লাইসেন্সপ্রাপ্তদের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হারে সরকারের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি এবং ১ শতাংশ হারে সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে প্রদানের শর্ত রাখা হয়েছে। তারানা হালিম বলেন, সরকার চলতি বছরই তরঙ্গ নিলাম ও ফোরজি চালু করতে চায়। সে লক্ষ্যেই কাজ করা হচ্ছে। অপারেটররাও ফোরজি চালুর জন্য প্রস্তুত আছে বলে তিনি জানান।



 

Show all comments
  • রেজাউল করিম ২০ নভেম্বর, ২০১৭, ৪:০৬ এএম says : 0
    গ্রাহক পর্যায়ে কী ফি কমবে ?
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন