Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

আস্থা অর্জনের চেষ্টায় দুদক

মালেক মল্লিক : | প্রকাশের সময় : ২১ নভেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১২:০৭ এএম, ২১ নভেম্বর, ২০১৭

সব আকাক্সক্ষা পূরণ হয়নি-দুদক চেয়ারম্যান : ১৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীয় আজ
আস্থা অর্জনের চেষ্টায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিষ্ঠার পর অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতি, সাবেক সচিবসহ চারজন দুদক চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে দুই একজন ছাড়া কেউ সাধারণ মানুষের সবার্ত্মক আস্থা অর্জন করতে পারেনি। সর্বশেষ ইকবাল মাহমুদকে সংস্থটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আসার পর শুরু হয় আস্থা অর্জনের সর্বাত্মক প্রচেস্টা। নেয়া হয় পাঁচ বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনা। চালু হয় নিজস্ব হাজতখানা, সশস্ত্র আমর্ড পুলিশ ইউনিট, গোয়েন্দা ইউনিট, অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন এবং রেকর্ড রুম নির্মাণ। এছাড়াও দুদক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রাম অংশ গ্রহণ ও অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ভার্বমূতির উজ্জল করার দায়িত্ব চেয়ারম্যানের। চলতিমাসে একটি মামলা শুনানিতে উচ্চ আদালতেও দুদককের কাজের গতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
আজ (মঙ্গলবার) ২১ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দীয়ভাবে ঢাকায় ও জেলাগুলোতে আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দিনব্যাপাী এসব অনুষ্ঠান চলবে। সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ইনকিলাবকে বলেন, সমাজের দুনীতি প্রতিরোধ সবাইকে সচেতন হতে হবে। দুদকের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ণ করতে পারলে একদিকে যেমন দুনীতি কমবে অন্যদিকে দেশের সুনাম বৃদ্ধি পাবে। সাধারণ মানুষের দুদকের প্রতি আস্থা বাড়বে।
দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, আমাদের সব আকাঙ্খা পূরণ হয়নি। আমাদের আশা ছিল এমন অবস্থার সৃষ্টি হবে যাতে দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তিবর্গ বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তাগণ দুর্নীতি করার অনৈতিক সাহস সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলবেন। বাস্তবতা হচ্ছে আমরা এখনও সে পর্যায়ে যেতে পারিনি। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের সকল কার্যক্রমই প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যকর, বিশ্বাসযোগ্য, নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা মাত্র। কমিশনের বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের কারণেই এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিষ্ঠা বাষির্কী প্রস্তুতি কর্মসূচির নিয়ে এক সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনে একজন চেয়ারম্যান ও দুইজন কমিশনারের যোগদানের মাধ্যমে কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। দুর্নীতি দমন, নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরোধ এবং সমাজে সততা ও নিষ্ঠাবোধ সৃষ্টির দায়িত্ব এই আইনের মাধ্যমে কমিশনের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুলতান হোসেন খানকে চেয়ারম্যান করা হয়। এরপর এক এগারোর তত্ত¡াবধায়ক সরকার চেয়ারম্যান হন হাসান মশহুদ চৌধুরী। এরপর গোলাম রহমান। তার মেয়াদ শেষে চেয়ারম্যান হন মো. বদিউজ্জামান। এর মধ্যে দুই একজন ছাড়া কেউ সাধারণ জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। সর্বশেষ ২০১৬ সালে সাবেক সচিব ইকবাল মাহমুদকে সংস্থাটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আসেন। এরপর প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি উদ্ধারে কর্মতৎপরতা শুরু হয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে চালাতে থাকে সাড়াশি অভিযান। এছাড়াও নেয়া হয় পঞ্চবার্ষিকী মহাপরিকল্পনা, হাজতখানা ও গোয়েন্দা ইউনিট। দুদকের আসামি ধরতে দিনে কিংবা রাতে সব সময়েই অভিযান চালাতে হয়। তাই গত ৭ সেপ্টেম্বর পুলিশের ২০ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য নিয়ে আমর্ড ইউনিট ও চালু করা হয় দুদকের হটলাইন। এছাড়াও দুর্নীতি মামলার আসামিদের হেফাজতে রাখতে নিজস্ব হাজতখানা নির্মাণ করছে দুদক। নারী ও পুরুষ আসামিদের জন্য আলাদা হাজতখানা তৈরি করা হবে। এছাড়াও ২০১৫ সাল হতে ২০১৭ সালে কমিশনে অভিযোগ প্রাপ্তি বৃদ্ধি পায় ৬০ শতাংশ। এখন পর্যন্ত ২৩টি ফাঁদ মামলা পরিচালনা করে ঘুষখোর কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করা হয়। গত ৮ মাসে ৩১ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রেফতার হয়েছেন। এছাড়াও কোচিং বাণিজ্য বন্ধে রাজধানীর ঢাকায় ২৪টি সরকারি স্কুলের ৫২২জন শিক্ষককে অন্যত্র বদলি করার সুপারিশ করে কমিশন। এখন কোচিং মালিকদের অবৈধ সম্পত্তির সন্ধানে নামছে দুদক। সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও দুনীতি বন্ধের পাশাপাশি কমিশনের অব্যন্তরে গত দুই বছরে সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দন্ড দেয়া হয়। ৫ জন কর্মকর্তা –কর্মচারীকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠান: দুর্নীতি দমন কশিনের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা ও জেলাগুলোতে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা অডিটোরিয়মে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দীন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে। সকাল সাড়ে নয়টায় কমিশনের প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গনে জাতীয় পতাকা ও কমিশনের পতাকা উত্তোলন করবেন কমিশনের চেয়ারম্যান। সকাল পৌনে দশটায় একই স্থানে শান্তির প্রতীক পায়রা অবমুক্ত করবেন দুদক চেয়ারম্যান এবং একই সময় বেলুন ও ফেস্টুন উড়াবেন। সকাল ১০টায় পবিত্র কুরআন তেলয়াত। কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতিমুক্ত থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকার লক্ষ্যে তাদেরকে দুর্নীতিবিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করানো হবে। এরপর কমিশনের বর্তমান বছরে সার্বিক কার্যক্রম আলোচনা সভা অনুষ্ঠিতম হবে। কেন্দ্রেীয় কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্য রেখে কমিশনের ৬ টি বিভাগীয় কার্যালয় এবং ২২ টি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে একই জাতীয় কর্মসূচি উদযাপন করা হবে।

 


Show all comments
  • বেলী ২১ নভেম্বর, ২০১৭, ২:৪৭ এএম says : 0
    কারো নির্দেশনায় নয় শুধুমাত্র দুর্নীতি দমনে দুদককে কাজ করতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • সাজিদ ২১ নভেম্বর, ২০১৭, ২:৪৯ এএম says : 0
    দুদকের কার্যক্রম তত্ত্বাবধায়ন করা দরকার বলে আমি মনে করি।
    Total Reply(0) Reply
  • চমক তারা ২১ নভেম্বর, ২০১৭, ১২:৩৮ পিএম says : 0
    দুদককে নিরপেক্ষ অবস।তান থেকে কাজ করতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • রিফাত ২১ নভেম্বর, ২০১৭, ১২:৩৯ পিএম says : 0
    দুদকের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ণ করতে পারলে একদিকে যেমন দুনীতি কমবে অন্যদিকে দেশের সুনাম বৃদ্ধি পাবে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর