Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

বড় দুর্নীতিবাজের কাছে যেতে পারিনি

দুদকের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ইকবাল মাহমুদ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২২ নভেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নামে লুটপাট হচ্ছে -সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, আমরা এখনো অনেক বড় দুর্নীতিবাজের কাছে যেতে পারিনি। তবে এই যে পারিনি, তা স্বীকার করার সাহস আমাদের আছে। তিনি আরো বলেন, এটা সত্য যে আমরা এখনো জনগণের আস্থা সৃষ্টি করতে পারিনি। জনগণের আস্থা যদি না থাকে তাহলে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এটি যে একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠান, সেই আস্থার জায়গা তৈরি করতে পারিনি। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় দুনীতি দমন কমিশনের (দুদক) ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। দুদককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, হাজার হাজার পুচকে সরকারি কর্মচারী ধরে দুর্নীতি দমনে তেমন ফল পাওয়া যাবে না, ধরতে হবে মাথা। সাবেক এই গভর্নর বলেন, অর্থ লেনদেনের এই পদ্ধতিতে লুটপাট ও ডাকাতি হচ্ছে। নিয়ামক পরিমন্ডল (রেগুলেটরি ফ্রেইম ওয়ার্ক) না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সবাই মিলে গড়ব, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কমিশনের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতিবিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। পরে শান্তির প্রতীক পায়রা অবমুক্ত করা হয়।
মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, শুধু মামলা করে আর বিচার-আচার করে দুর্নীতি দমন করা সম্ভব হবে না, দুর্নীতি দমন করতে হলে বড় ধরনের নাগরিক সচেতনতা প্রয়োজন। প্রতিটি দেশেই নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং আইন বিভাগ রয়েছে-পাশাপাশি রয়েছে শক্তিশালী গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজ। আমাদের দেশেও গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজ রয়েছে কিন্তু তারাও বিভক্ত। তবে দুর্নীতির ক্ষেত্রে যদি সুশীল সমাজ ও মিডিয়া সোচ্চার হয় তবে অবশ্যই দুর্নীতিবিরোধী ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি হবে।
সভাপতির বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমরা এখনো অনেক বড় দুর্নীতিবাজের কাছে যেতে পারিনি। তবে এই যে পারিনি, তা স্বীকার করার সাহস আমাদের আছে। তিনি বলেন উন্নয়ন এবং দুর্নীতি সম্ভবত যমজ ভাই। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক যদি সঠিকভাবে কাজ করে তাহলে অবশ্যই দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব। তিনি বলেন, মানুষকে হয়রানি করা যাবে না। তিনি আরো বলেন, সম্পদের অসমতা থাকলেও আমরা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছি। এই উন্নয়নের সাথে সাথে দুর্নীতির গতিকে টেনে ধরাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমরা এমন কোনো কাজ করতে চাই না, যে কাজ আমরা হাত দিয়ে শেষ করতে পারব না। মানুষকে হয়রানি করা যাবে না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিটি অনুসন্ধান ও তদন্ত আইন ও বিধি অনুসারে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে হবে। যে মামলা আদালতে প্রমাণ করা যাবে না, সেই মামলা আমরা করতে চাই না।
ইকবাল মাহমুদ বলেন, শাস্তির হার বেড়েছে। তবে আমরা কখনোই বলব না যে, আমরা শতভাগ সফল হয়েছি। আমাদের ব্যর্থতা আছে। ব্যর্থতাকে আলিঙ্গন করা একটা জরুরি ব্যাপার। আপনারা কাজ করছেন, তবে কাজে যেন গাফিলতি না হয়। এটা সত্য যে আমরা এখনো জনগণের আস্থা সৃষ্টি করতে পারিনি। জনগণের আস্থা যদি না থাকে তাহলে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এটি যে একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠান, সেই আস্থার জায়গা তৈরি করতে পারিনি। অনুষ্ঠানে অন্যন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুদক কমিশনার ড, নাসিরউদ্দিন আহমেদ ও এ এফএম আমিনুল ইসলাম, সচিব শামসুল আরেফিন।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর