Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

পোপ ফ্রান্সিস মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফরে আসছেন এ মাসের শেষে

‘রোহিঙ্গা’ শব্দ পরিহার করবেন

ডিপিএ : | প্রকাশের সময় : ২২ নভেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

পোপ ফ্রান্সিস এ মাসের শেষে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফরে আসছেন। তার এ সফরে রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্দশা বড় রকম গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি সে দু’টি দেশ সফর করবেন যার একটি থেকে নিপীড়িত রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসছে, আর অন্যটিতে তারা আশ্রয় নিচ্ছে। তবে এ সফরে তিনি ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি পরিহার করবেন। পোপ ফ্রান্সিস ২৭ থেকে ৩০ নভেম্বর মিয়ানমার এবং ৩০ থেকে ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সফর করবেন। নিপীড়িতদের পক্ষে সোচ্চার কন্ঠ পোপ নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের পক্ষে কথা বলার জন্য চাপের মুখে রয়েছেন। কিন্তু স্থানীয় ক্যাথলিক চার্চ জানায়, ক‚টনৈতিক সঙ্কট এড়াতে পোপ ‘রোহিঙ্গা’ শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান জায়েদ রাদ আল হুসেইন বলেছেন, রোহিঙ্গারা হচ্ছে জাতিগত নিধনের দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণের শিকার। বাংলাদেশ ক্যাথলিক চার্চের নেতা কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও রোহিঙ্গাদের উপর হামলাকে মানবতার প্রতি হুমকি বলে আখ্যায়িত করেছেন।
তবে মিয়ানমারের অধিকাঙ্ক লোক বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখে।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার জন্য রোহিঙ্গা মুসলিম বিদ্রোহীদের দায়ী করে। আর মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ জনগণ দারিদ্রগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান করেনি এবং তাদের বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসী হিসেবে দেখে যে কারণে রোহিঙ্গারা আজ রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠি।
সফর-পূর্বের এক ভিডিও বার্তায় পোপ ফ্রান্সিস বলেন, তিনি মিয়ানমারের জনগণের সাথে সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করতে পারছেন না। তবে তিনি রোহিঙ্গা শব্দটি পরিহার করেন। তিনি বলেন, তিনি সকলের মঙ্গলের জন্য সম্প্রীতি ও সহযোগিতা সৃষ্টির যে কোনো প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করতে মিয়ানমারে যাচ্ছেন।
পোপ কার্যক্ষেত্রে আরো নিস্পৃহ হতে পারেন। তিনি গত আগস্টে তার ভাষায় ‘আমাদের রোহিঙ্গা ভাইদের উপর নিপীড়নের’ নিন্দা করেছিলেন। প্রথম মহাযুদ্ধকালে আর্মেনিয়ায় গণহত্যাকে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যায়িত করে তুরস্কের সাথে গত বছর ঝগড়ায় লিপ্ত হতে তার ভয় ছিল না।
মিয়ানমারে ক্যাথলিক চার্চের শীর্ষ প্রতিনিধি কার্ডিনাল চার্লস বো গত সপ্তাহে ভ্যাটিকান রেডিওকে বলেন, পোপের সফর বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠির যে লড়াই চলছে, সে গৃহযুদ্ধ থামাতে আসলেই সাহায্য করতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।
রোমে পোপ ফ্রান্সিসের সাথে বো সাক্ষাত করেন। তিনি বলেন, পোপ তার কর্মসূচিতে জেনারেল মিন অং হ্লায়িং-এর সাথে সাক্ষাতকে যোগ করবেন। রাখাইনে সেনা অভিযানের পেছনে রয়েছেন এই ব্যক্তি। কার্ডিনাল বলেন, এতে সম্ভবত তার মন নরম হতে পারে ও হয়ত তা শান্তির পথে প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে।
নোবেল পুরস্কার জয়ী ও মিয়ানমারের কার্যত বেসামরিক নেত্রী অং সান সু কির সাথেও পোপ বৈঠক করবেন। তিনি প্রভাবশালী বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সাথেও সাক্ষাত করবেন।
২০১৫ সালে অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্ব পর্যন্ত মিয়ানমারে সামরিক জান্তা ক্ষমতাসীন ছিল। মাত্র মে মাসে ভ্যাটিকানের সাথে মিয়ানমারের ক‚টনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, ভ্যাটিকানের তথ্যমতে, মিয়ানমারের ৫ কোটি ১৮ লাখ জনসংখ্যার ১,.৩ শতাঙ্ক মাত্র ক্যাথলিক।
পোপ ফ্রান্সিস মিয়ানমার থেকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বাংলাদেশে যাবেন। বাংলাদেশ সম্প্রতি উন্নয়নের অভিযাত্রায় ব্যাপক সাফল্য লাভ কেেছ। গত বছর দেশটির দারিদ্র হার ২৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ২০০ হার সালে দারিদ্র হার ছিল ৫০ শতাঙ্ক।
ভ্যাটিকানের ২০১৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের ১৫ কোটি ৯০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ক্যাথলিকের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার (০.২৪ শতাঙ্ক)।
ডি’ রোজারিও ভ্যাটিকান রেডিওকে বলেন, পোপ দেশটির অর্জনের স্বীকৃতি দেবেন এবং দেশের দরিদ্রদের কথা, বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার ও রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু বিষয়ক বক্তব্য বিশে^র কাছে নিয়ে যাবেন।
বাংলাদেশে পোপের সফর সূচির মধ্যে রয়েছে ঢাকায় মাদার তেরেসা নান’স অরফ্যানেজ পরিদর্শন, ১৬ জন পুরোহিতের অভিষেক উপলক্ষে খোলা জমায়েত যাতে দেড় লাখ লোক সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সাথে সাক্ষাত। পোপ ফ্রান্সিস এবারে তার ২১তম আন্তর্জাতিক সফরে বের হচ্ছেন। এশিয়া মহাদেশে এটি হবে তার তৃতীয় সফর। এশিয়ায় ক্যাথলিকদের সংখ্যা কম। আর্জেন্টিনার নাগরিক ফ্রান্সিস হচ্ছেন প্রথম অ-ইউরোপীয় পোপ। বিশ^ব্যাপী ক্যাথলিক চার্চের প্রসার ঘটানো তার লক্ষ্য।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর