Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬, ০৫ শাবান ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

প্রশ্ন : তওবা কি মুমিনের মুক্তির উপায়?

| প্রকাশের সময় : ২৩ নভেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

উত্তর : (পূর্ব প্রকাশিতের পর)
তাওবার দ্বারা গুনাহ মাফ হয়, বৃষ্টি বর্ষণ হয়, সন্তান ও সম্পদ দিয়ে বান্দাকে সাহায্য করা হয়। এর সঙ্গে জান্নাতের সুসংবাদ তো রয়েছেই। ইরশাদ হয়েছে, (নুহ আ.) বলেছেন, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের জন্য মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং নদীনালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ : ১০)
আল্লাহ তায়ালা তাদের তওবাই কবুল করেন, যারা গুনাহ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তওবা করে অনুতপ্ত হয়। পক্ষান্তরে যারা সজ্ঞানে বা প্রকাশ্যে গুনাহ করেও অনুতপ্ত হয় না, আল্লাহ তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হোন। এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করেন, যারা না জেনে মন্দ কাজ করে ও অচিরেই তওবা করে। আল্লাহ মহাজ্ঞানী প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা নিসা : ১৭)
তওবার গুরুত্ব হাদিসেও বর্ণিত হয়েছে অসংখ্যবার। মহানবি (সা.) ছিলেন নিষ্কলুষ এবং পাপমুক্ত। তা সত্তে¡ও তিনি আল্লাহর শোকরগুজার ও সন্তোষজনক হওয়ার আশায় দিনে শত শত বার ইস্তেগফার করতেন। তিনি বলেন, ‘হে লোকসকল! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো, কারণ আমি দিনে একশতবার তাঁর কাছে তওবা করি’ (নাসায়ি : ১৩২) হযরত আনাস (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে বনি আদম! তুমি যতক্ষণ আমাকে ডাকবে ও আমার আশা পোষণ করবে আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেবো। তোমার থেকে যা কিছুই প্রকাশ পাক, এতে আমি কোন পরোয়া করি না। হে বনি আদম! তোমার গুনাহ যদি ঊর্ধ্ব আকাশ পর্যন্ত পৌঁছুয়, আর তুমি আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেবো, এতে আমি সামান্য পরোয়া করি না। হে বনি আদম! তুমি যদি আমার কাছে দুনিয়া ভরা গুনাহ নিয়ে আসো আর শিরকে লিপ্ত না হয়ে আমার সঙ্গে সাক্ষাত করো, আমি তোমার নিকট জমিন ভরা ক্ষমা নিয়ে উপস্থিত হবো।’ (তিরমিজি : ২/৬৭)
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আমার প্রতি বান্দার বিশ্বাসের অনুরূপ আমি তার সঙ্গে আচরণ করি। সে যখন ও যেখানেই আমাকে স্মরণ করে আমি তার সঙ্গে থাকি। মরু বিয়াবানে তোমাদের কেউ হারানো বাহন পাওয়ার পর যে পরিমাণ খুশি হয় আল্লাহ তায়ালা বান্দার তাওবার পর এর থেকেও অধিক খুশি হোন। যদি কেউ এক বিঘত পরিমাণ আমার দিকে এগিয়ে আসে তাহলে আমি তার প্রতি এক হাত এগিয়ে যাই। যদি কেউ এক হাত পরিমাণ আমার দিকে এগিয়ে আসে, তাহলে আমি এক ‘বাগ’ (দু’বাহু ডানে বামে প্রসারিত করলে যে দূরত্ব হয়) পরিমাণ তার দিকে এগিয়ে যাই। যদি কেউ আমার দিকে হেঁটে আসে তাহলে আমি তার দিকে ছুটে যাই।’ (মুসলিম : ২/৬৭০০) তাওবা হলো সবচেয়ে বড় জিকির। বান্দার উচিত এ জিকির বেশি করে করা। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, :আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর শপথ! প্রতি দিন আমি সত্তুরবারের চেয়েও অধিক আল্লাহর ইস্তিগফার ও তাওবা করি।’ (বুখারি : ২/২৫৪৩)
তওবা করলে আল্লাহ তায়ালা বান্দার ওপর খুব খুশি হোন। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তওবার দ্বারা আল্লাহ তায়ালা এই পরিমাণ খুশি হোন যে, যেমন ধরো তোমাদের কেউ তপ্ত মরুভূমিতে নিজ উট গাছের ডালে বেঁধে ঘুমিয়ে পড়লো। সে উটের সঙ্গে তার খাদ্য-পানীয় সহ সকল আসবাব ছিলো। ঘুম থেকে জেগে দেখলো তার উটটি আগের স্থানে নেই। এদিকওদিক খুঁজেও মিললো না কোথাও। যখন সে একেবারে নিরাশ হয়ে গেলো, তখুনি দেখলো তার উটটি যথাস্থানে রয়েছে। এমন মুহূর্তে সে ব্যক্তি যতটুকু খুশি হবে, কোনো বান্দা তওবা করলে আল্লাহ তায়ালা তার’চে বেশি খুশি হোন। (মুসলিম : ২/৬৭০২) অন্য হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা তার মুমিন বান্দার তাওবার কারণে অধিকতর আনন্দিত হোন।’ (মুসলিম : ২/৬৭০৫)
মনে রাখতে হবে, কেবল তওবা করলেই হবে না; বরং তওবা কবুল হওয়ার জন্য রয়েছে কয়েকটি শর্ত। শর্তগুলো সামনে রেখে তওবা করলেই তওবা কবুল হবে, অন্যথায় নয়। শর্তগুলো হলো :
১. অতীতের সমস্ত পাপ কাজ ও ভুল ত্রæটি আল্লাহর কাছে স্বীকার করা। ২. গুনাহর কারণে আল্লাহর নিকট অনুতপ্ত ও লজ্জিত হওয়া। ৩. লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে সমস্ত গুনাহর জন্য ইস্তিগফার করা ও মাফ চাওয়া। ৪. সামনে থেকে গুনাহ না করার ওয়াদা করা। ৫. গুনাহকে অন্তর থেকে ঘৃণা করা। ৬. কারো হক নষ্ট না করা। ৭. অন্তরে আশা রেখে তওবা করা যে নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা আমার এই তওবাকে কবুল করবেন। ৮. তওবার ওপর টিকে থাকার জন্য আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা এবং বাস্তবিক অর্থে গুনাহ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়া। ৯.গুনাহ করার সঙ্গে সঙ্গে তাওবা করা এবং ১০. পূর্ণ এখলাস ও আন্তুরিকতার সঙ্গে তাওবা করা।
তওবার নিয়ম : দু’রাকাত নামাজ পড়ে উল্লিখিত শর্তগুলো সামনে নিয়ে নির্জনে আল্লাহর নিকট অনুনয়বিনয় করে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
উত্তর দিচ্ছেন : মোস্তফা কামাল গাজী



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন