Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

রংপুরকে গুঁড়িয়ে শীর্ষে খুলনা

| প্রকাশের সময় : ২৫ নভেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

 রুমু, চট্টগ্রাম ব্যুরো : মিরপুরে টানা দুই জয় তুলে নিয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই চট্টগ্রামে পা রাখে খুলনা টাইটানস। বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ রংপুর রাইডার্সেরও ছিল একই অবস্থা। গতকাল দুদলেরই সামনেই ছিল হ্যাটট্রিক জয়ের হাতছানি। ক্রিজ গেইল ও ব্রেন্ডন ম্যাককুলামদের নিয়ে গড়া রংপুর রাইডার্সই শক্তির বিচারে এই ম্যাচটিতে এগিয়ে ছিল। কিন্তু মাঠের হিসাব আলাদা। সেখানে যে ভালো পারফর্ম করতে পারবে, জয়টা হবে তাদেরই।

সেটিই যেন প্রমাণ করে দেখালেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদরা। বিদেশি কালেকশন কিংবা দেশি তারকা ক্রিকেটারদের দলে ভেড়ানোর ক্ষেত্রে রংপুর রাইডার্সের চেয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা খুলনা টাইটানস মাঠের পারফরম্যান্সে এগিয়ে থেকে জয় তুলে নিতে সক্ষম হয়েছে। ব্যাট হাতে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ খুলনার এই জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে গতকাল তারকা খচিত রংপুর রাইডার্সকে ৯ রানে হারিয়ে হ্যাটট্রিক জয়ের পাশাপাশি পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেও উঠে গেছে খুলনা টাইটানস। আট ম্যাচে পাঁচ জয়, দুই হার ও বৃষ্টির কারণে এক ড্রয়ে খুলনার এখন ১১ পয়েন্ট।
৫৯ রানের ইনিংস খেলে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ম্যাচ সেরা হয়েছেন খুলনা টাইটানসের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ৭ ইনিংসে ২৪৮ রান নিয়ে কিছু সময়ের জন্যে আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও বনে গিয়েছিলেন জাতীয় দলের এই নির্ভরজগ্য ব্যাটসম্যান। কিন্তু পরের ইনিংসেই তাকে টপকে যান রংপুরের ব্যাটসম্যান রবি বোপারা (২৭৮)।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘ম্যাচটি প্রায় হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। আমাদের বোলাররা দারুণ বল করেছে। বিশেষ করে জুনায়েদ খান শেষ ওভারে দুর্দান্ত বল করেছেন। মিডলে আমাদের আরো ভালো বোলিং করা দরকার ছিল। তারপরও আমাদের স্পিনার আফিফ ও তানভীর ভালো করেছেন।’ ব্যাট হাতে ফিফটি করে দলকে জেতাতে পারায় বেশ ভালো লাগছে বলেও জানান তিনি। এদিকে, রংপুর রাইডার্সের ব্যাটসম্যান নাহিদুল বলেছেন, ‘এই ম্যাচটিতে জয় আমাদের প্রাপ্য ছিল। কিন্তু অল্পের জন্য সেটি হাতছাড়া হয়ে গেছে। ব্যাট হাতে চেষ্টা করে গেছি শেষ পর্যন্ত। এই ম্যাচটি হারায় বিপিএলে টিকে থাকতে হলে আগামী ম্যাচে আমাদের জয় পেতেই হবে।’
টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারিয়ে বসে খুলনা টাইটানস। দলীয় ১৪ রানেই বিদেশি ওপেনার রিলি রুশোকে (১১) বোল্ড করে ফেরান রংপুর রাইডার্সের স্পিনার সোহাগ গাজী। আরো ১০ রান যোগ হতেই ওয়ান ডাউনে নামা আফিফ হোসেন বোল্ড হন পেসার রুবেলের বলে। এরপর ওপেনার শান্তকে নিয়ে ২৫ রানের জুটি গড়ে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ দলকে প্রাথমিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেন। রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক মাশরাফির বলে রুবেলকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ওপেনার শান্ত (২০)। একপ্রান্ত আগলে রেখে ঠান্ডা মাথায় দলকে এগিয়ে নিয়ে যান খুলনার দলপতি। বিদেশি উইকেট কিপার কাম ব্যাটসম্যান নিকোলাসকে নিয়ে ৪৩ রানের জুটি গড়েন তিনি। দলকে ৯২ রানে রেখে মালিঙ্গার বলে মিঠুনের তালুবন্দী হন নিকোলাস (১৬)। আরিফুলের সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে শতরান পার করানোর পাশাপাশি নিজের ফিফটিও পূর্ণ করেন মাহমুদুল্লাহ। ৩২ বলে পাঁচটি চার ও দু’টি বিশাল ছক্কায় ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। ফিফটি করার পর আর বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। রুবেল হোসেনের বলে ওভার বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে দারুণ এক ক্যাচে মাঠ ছাড়তে হয় খুলনার এই অধিনায়ককে। বাউন্ডারি লাইনে অসাধারণ দক্ষতায় প্রথমে ক্যাচটি নেন রংপুর দলের ড্যাশিং ওপেনার ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম। কিন্তু বল হাতে তিনি যখন নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে না পেরে বাউন্ডারি অতিক্রিম করছিলেন তখন বলটি সতীর্থ খেলোয়াড় নাহিদুলের উদ্দেশ্যে ছোঁড়ে দেন। নাহিদুলকে সেটি তালুবন্দী করতে মোটেই বেগ পেতে হয়নি। এরফলে ৫৯ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়তে হয় মাহমুদুল্লাহকে। দলকে ১৩০ রানে রেখে মাঠ ছাড়েন তিনি। এরপর আরো তিন উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫৮ রানের ফাইটিং স্কোর করতে সমর্থ হয় খুলনা টাইটানস। বল হাতে রংপুরের পেসার রুবেল তিনটি ও মালিঙ্গা দু’টি উইকেট লাভ করেন।
১৫৯ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে সুবিধা করতে পারেননি রংপুর রাইডার্সের দুই ড্যাশিং ওপেনার ক্রিস গেইল ও ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম। দলীয় চার রানেই আফিফের বলে আরিফের ক্যাচ হয়ে ফেরেন ম্যাককুলাম (২)। এরপর ব্যাট হাতে ঝড় তোলার ইঙ্গিত দিয়ে দলকে ২০ রানে রেখে ফেরেন ক্রিস গেইলও (১৬)। আবু জায়েদের বলে নিকোলাসকে ক্যাচ দিয়ে গ্যালারীর দর্শকদের চুপসে দেন গেইল। তবে গেইল ম্যাককুলামদের ব্যর্থতায় দর্শকরা হতাশ হলেও রবি বোপারা ও নাহিদুলের শতরানের পার্টনারশিপ বেশ উপভোগ করেছেন তারা। এ দু’জন যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন ততক্ষণই জয়ের পাল্লাটা ঝুঁকে ছিল রংপুরের দিকেই। এমনকি শেষ ২৪ বলে জয়ের জন্য যখন ৪৪ রান দরকার, তখনও বোপারা ও নাহিদুলের পক্ষে বাজি ধরার লোকের যেন অভাব ছিল না। দু’জনেই ফিফটি পূর্ণ করার পাশাপাশি দলকে ক্রমশ জয়ের খুব কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছিলেন। শেষ ওভারে রংপুরের জয়ের জন্য প্রয়োজন পড়ে মাত্র ১৫ রান। তখনও ক্রিজে থেকে বোপারা ও নাহিদুল জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু জুনায়েদ খানের মাপা বোলিংয়ের কাছে আর পেরে উঠেননি বোপারা-নাহিদুল জুটি। পারেনি রংপুর রাইডার্সও। বোপারা ৫৯ ও নাহিদুল ৫৮ রান করেন।

 

 

 

 

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর