Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

১০ লাখ মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন

যশোর এলজিইডির দৃষ্টিনন্দন সড়ক নির্মাণ

| প্রকাশের সময় : ২৮ নভেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

রেবা রহমান, যশোর থেকে : যশোর এলজিইডি ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৮ কিলোমিটার দৃষ্টিনন্দন সড়ক বাস্তবায়ন করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। যশোর এলজিইডির দক্ষ নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল আলম সিদ্দিকী ব্যক্তিগত উদ্যোগে তার টিমকে সঙ্গে নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছেন। এলজিইডি সূত্র জানায়, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় যশোর- সাতক্ষীরা সড়কের পুলেরহাট থেকে রাজগঞ্জ, ত্রিমোহিনী-সাগরদাঁড়ি হয়ে কুমিরা পর্যন্ত দুই লেন বিশিষ্ট এ দীর্ঘতম সড়কটি নির্মিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রæত এই সড়কের কাজ শেষ হলে দুই জেলার মধ্যে সেতুবন্ধন সৃষ্টি হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। সুবিধাবঞ্চিত এ অঞ্চলের প্রায় ১০ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।
যশোর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল আলম সিদ্দিকী জানান, প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৮ কিলোমিটার দুই লেনবিশিষ্ট সুবিশাল এ সড়কটি নির্মাণের ফলে যশোর, মনিরামপুর, কেশবপুর ও সাতক্ষীরা জেলার তালা এবং কলারোয়া উপজেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। এখন এ অঞ্চলের মানুষ যশোর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার কম পথ পাড়ি দিয়ে কুমিরা হয়ে দ্রæত সময়ে সাতক্ষীরা পৌঁছাতে পারবে। সড়কটি নির্মাণের ক্ষেত্রে যশোর এলজিইডি বেশ কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে। যেমন এ অঞ্চলের বাজার এলাকাগুলোতে বর্ষার সময় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এর ফলে অধিকাংশ সময়ে ওই এলাকায় কার্পেটিং অংশগুলো দ্রæত নষ্ট হয়ে যায় বিধায় এই সড়কটি দীর্ঘ স্থায়ী করতে সকল বাজার এলাকায় আরসিসি করা হয়েছে এবং পানি নিস্কাশনের জন্য ড্রেনও নির্মাণ করা হয়েছে। বাজারগুলোতে যাতে ট্রাফিক জট সৃষ্টি না হয় তার জন্য সড়কটি ২৪-৩০ ফুট পর্যন্ত চওড়া করা হয়েছে। নদী-খালে, বিল ও মাঠের পানি নিস্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্রিজ এবং কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। জলাবদ্ধ এলাকা বা নদীর পাড়ে সড়ক ভাঙ্গন রোধে সেøাপে বসানো হয়েছে সিমেন্ট বøক। ফলে সড়কটি আরো সৌন্দর্যমÐিত হয়েছে।
স্থানীয় মানুষকে বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সড়কের দুই পাশে দশ হাজার তাল গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। যা বড় হলে বজ্রপাতের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করবে। সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, ৪৮ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রায় ৩৯ কিলোমিটার কার্পেটিং শেষ হয়েছে। বাকি ৯ কিলোমিটারের মধ্যে খোয়ার বেইস কোর্সের কাজ প্রায় ছয় কিলোমিটার শেষ হয়েছে এবং তিন কিলোমিটার বেইস কোর্সের কাজ দ্রæত এগিয়ে চলেছে। সড়কটি নির্মাণ কাজের গুণগত মান নিয়ে এলাকার জনগণের সাথে আলাপকালে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অত্যন্ত উন্নতমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ কাজ চলছে। কয়েকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সাথে আলাপকালে তারা জানান, যশোর এলজিইডির কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন এবং স্থানীয় জনগণ হিসেবে আমরাও কাজ বুঝে নিচ্ছি। এ ব্যাপারে যশোর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল আলম সিদ্দিকীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এটাই যশোর এলজিইডির সবচেয়ে দীর্ঘতম সড়ক। এ প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন ২০১৮ সালের ফেব্রæয়ারি মাসের মধ্যেই সব কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন। নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে কর্তৃপক্ষ সড়কটিতে রোড সাইন ও লেন মাকির্ং ব্যবহার করেছে । ফলে সড়কটি জনগণের আরো নজর কেড়েছে। যা সড়ক দুর্ঘটনা রোধেও যথেষ্ট ভ‚মিকা রাখবে । দৃষ্টিনন্দন এ সড়কটি ব্যবহার করে দেশি-বিদেশি পর্যটকগণ অতি সহজে ও কম সময়ে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান সাগরদাঁড়িও যেতে পারবেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মানুষ

৫ জুন, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন