Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯, ০৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

অপ্রতিরোধ্য সিটির নতুন রেকর্ড

| প্রকাশের সময় : ২৮ নভেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

এক গোলে পিছিয়ে থেকেও সকল উদ্বেগ-উৎকন্ঠা পেরিয়ে ২-১ গোলের জয়। হাডার্সফিল্ড টাউনের বিপক্ষে এই জয়ে দুইটা রেকর্ড গড়েছে ম্যানচেস্টার সিটিÑ প্রিমিয়ার লিগে যৌথ সর্বোচ্চ টানা ১১ এবং প্রথম ইংলিশ দল হিসেবে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলে প্রতিপক্ষের মাঠে টানা ১১ ম্যাচে জয়।
১২ ম্যাচে ৪০ গোল নিয়ে হাডার্সফিল্ডে পা রাখে পেপ গার্দিওলার দল। কিন্তু স্বাগতিকরা যেন ‘আগে আপন ঘর সামলানোর’ প্রতিজ্ঞা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। পুরো ম্যাচে সিটির গোলমুখ বরাবর একটি শটও নিতে না পারা তো তাই-ই প্রমাণ করে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য আগুয়েরো-ডিব্রæইনদের আক্রমণের কাছে তাদের হার মানতেই হয়েছে।
তিনটি গোলই করেছে সিটি। প্রথমার্ধের শেষ সময়ে প্রতিপক্ষের ক্রস বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন নিকোলাস ওটোমেন্ডি। বিরতি থেকে ফিরেই পেনাল্টি থেকে স্কোরলাইনে সমতা আনেন আরেক আর্জেন্টাই সার্জিও আগুয়েরো। আর নির্ধারিত সময়ের ৬ মিনিট আগে দলকে জয়সূচক গোলটি উপহার দেন রেইম স্টার্লিং। প্রিমিয়ার লিগে এটি তার অষ্টম ও সব মিলে ১২তম গোল। জয়টা যে সহজ ছিল না সেটা স্বরণ করে ম্যাচ শেষে গার্দিওলা বলেন, ‘আপনি যদি শিরোপা জিততে চান তাহলে সহজ খেলা আশা করতে পারেন না।’
এই জয়ে ১৩ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে সুস্পষ্ট ব্যবধানে টেবিলের শীর্ষ স্থান ধরে রাখল সিটিজেনরা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা নগর প্রতিদ্ব›দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সংগ্রহ ২৯ পয়েন্ট। ১৯৯০-৯১ মৌসুমে লিভারপুলের পরে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এই সময়ে এসে এত বড় ব্যবধানে কোন দলই এগিয়ে থাকেনি। ১৯৯৫ সালে বø্যাকবার্ন রোভার্সের বিপক্ষে এউড পার্কের ম্যাচটির পরে ৯৬ ম্যাচ পরে প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেও কোন অ্যাওয়ে ম্যাচ জিতল আকাশি-নীলরা। ১২ জয় ও একটি ড্র নিয়ে অপরাজয়ের রেকর্ড ধরে রাখা সিটিজেনদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ সাউদাম্পটন।
একই রাতে বার্নলির মাঠ থেকে অ্যালিক্সেস সানচেসের যোগ করা সময়ের একমাত্র গোলের জয় নিয়ে ফিরেছে আর্সেনাল। এ নিয়ে টানা তিন ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ের গোলে জিতল গানাররা। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চারে উঠে এসেছে আর্সেন ওয়েঙ্গারের দল।
ওদিকে ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে জয়ের ধারা ধরে রেখেছে পিএসজি। লিগের প্রধান প্রতিপক্ষ মোনাকোকে তাদেরই মাঠে ২-১ গোলে হারিয়ে শীর্ষস্থানটা আরো সুসংহত করেছেন নেইমার-কাভানিরা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা লিঁও ও মোনাকোর চেয়ে পরিষ্কার ৯ পয়েন্টে এগিয়ে গেল বারের রানার্স-আপরা।
প্রথমার্ধে দলকে এগিয়ে নেন এডিনসন কাভানি। মৌসুমে এটি তার ১৬তম গোল, সব প্রতিযোগিতা মিলে ২৩টি। দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ান নেইমার। শেষ দিকে ফ্রি-কিক থেকে একটি গোল শোধ দেন জোয়াও মৌতিনহো। ম্যাচ জুড়েই অনেকগুলো গোলের সুযোগ নষ্ট করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। নইলে আরো বড় ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত পিএসজি।
একই রাতে জয়ে ফিরেছে টানা ছয় বারের সেরি আ চ্যাম্পিয়ন জুভেন্টাস। মারিও মানজুকিচ, মাত্তিয়া দে শিলিও ও বেনাতিয়ার গোলে ক্রেটোনকে ৩-০ গোলে হারায় জুভারা। লিগে সাম্পদরিয়ার কাছে ৩-২ গোলে ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ঘরের মাঠে বার্সেলোরার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করার পর জয়ের দেখা পেয়েছে মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির দল।
তবে একই রাতে লিগের শীর্ষ দুই দল নাপোলি ও ইন্টার মিলান জয় পাওয়ায় পয়েন্ট টেবিলের তিনেই থাকতে হচ্ছে জুভেন্টাসকে। ১৪ ম্যাচে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে নাপোলি। এদিন তারা উদিনেসিকে হারায় একমাত্র গোলে। সমান ম্যাচে ২ পয়েন্ট পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ইন্টার মিলিান। দুই দলই এখন পর্যন্ত লিগে একটি ম্যাচেও হারেনি। এদিন কালিয়ারির মাঠ থেকে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে ফেরে ইন্টার। সমান ম্যাচে জুভাদের সংগ্রহ ৩৪ পয়েন্ট।
এক নজরে ফল
প্রিমিয়ার লিগ
হাডার্সফিল্ড ১ : ২ ম্যান সিটি
সাউদাম্পটন ৪ : ১ এভারটন
বার্নলি ০ : ১ আর্সেনাল
সেরি আ
কালিয়ারি ১ : ৩ ইন্টার মিলান
জেনোয়া ১ : ১ রোমা
এসি মিলান ০ : ০ তুরিনো
ইদিনেসি ০ : ১ নাপোলি
জুভেন্টাস ৩ : ০ ক্রোটন
লিগ ওয়ান
মোনাকো ১ : ২ পিএসজি
নিস ০ : ৫ লিঁও
মার্শেই ১ : ০ গুইঁনাম্প

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন