Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫, ৮ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

নেট থেকে আলোতে অনীক

| প্রকাশের সময় : ৩০ নভেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

এখনো প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক না হলেও এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর হয়ে অভিষেক হয়েছিল লিষ্ট ‘এ’তে। ৮ ম্যাচ খেলে ৯ উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছেন অনেকেরই, গতি আর আগ্রাসী মনোভাবে ভবিষ্যৎ তারকার ছায়া খুঁজে পাওয়া যায়। ঢাকা লীগের পারফর্মই হয়ত বিপিএলে দল পেতে সাহায্য করেছে তাকে, ৫ লাখ টাকায় রাজশাহী কিংস দলে ভিড়িয়েছিল সদ্যই কৈশর পেরুনো কাজী অনিকে। দল পাওয়ার পরই আনন্দের সাথে জানিয়েছেন এটা রোমাঞ্চকর, অনেক কিছু শিখতে চান। কিন্তু ৯ ম্যাচ খেলে ফেলা রাজশাহীর একাদশে সুযোগই হয়নি অনিকের, রাজশাহী অবশ্য অনেক তরুনকেই দিয়েছে সুযোগ। জাকির হোসেন, হোসেন আলীরা এরই উদাহরণ। দেখতে দেখতে কেটে গেছে ৯টি ম্যাচ। শুরু থেকে না থাকলেও, মালয়েশিয়া থেকে ফিরেই দেখেছেন দলের চড়াই-উতরাই।
বিপিএলের শুরুতে অনূর্ধ্ব-১৯ দল মালোয়েশিয়া যুব এশিয়া কাপে ব্যস্ত ছিল। শুরু থেকে তাই ছিলেন না অনিকরা। দেশে ফিরে খেলতে নেমে ওই দলের আফিফ হোসেন আলো কেড়েছেন এরমধ্যে। এবারই প্রথম মাঠে নামার সুযোগ হয়েছিল বাঁহাতি এই পেসার। নেমে বাজিমাত করেছেন এই তরুণ। অভিষেকেই পেয়েছেন ৪ উইকেট। যা রাজশাহীর ৩২ রানের জয়ে অনন্য ভূমিকা রেখে হয়েছেন মোস্ট এক্সাইটিং প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ।
বিপিএলে রাজশাহী কিংসের সেরা অস্ত্র মুস্তাফিজুর রহমান। চোট থেকে ফিরে পাচ্ছিলেন না ছন্দ। বোলিং নিয়ে বেশ বিপাকে ছিল আগেরবারের রানার্সআপরা। নেটেই নাকি অনিককে দেখে সমাধান খুঁজে পান ড্যারেন স্যামি, ‘স্যামি আমাকে নেটে দেখে পছন্দ করেছে। ও টপ ক্লাস প্লেয়ার সে জানে কখন কাকে নামাতে হবে। ম্যাচ শেষে আমাকে বলেছে- ভালো জায়গায় বল করেছ, পরে সুযোগ পেলেও একইরকম করার চেষ্টা কর।’
৩.২ বল করে পেয়েছেন ৪ উইকেট। রান দিয়েছেন মাত্র ১৭। রান আটকানোই নাকি ছিল তার প্রথম উদ্দেশ্য, ‘আসলে আমার প্রথম পরিকল্পনা ছিল কম রান দিয়ে ওভারগুলো শেষ করা। সেই সাথে উইকেটও পেয়ে গেছি।’ যুবদলে কাজী অনিকের বন্ধুরা অনেকেই চলে এসেছেন আলোয়। একটা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন তিনিও, সেটা পেয়ে শতভাগ কাজে লাগানোর তৃপ্তি তার চোখেমুখে, অভিষেক ম্যাচে ভালো করায় ভালো লাগছে, অপেক্ষা করছিলাম সুযোগের, ইচ্ছা ছিল সুযোগ পেলে ভাল করার।’
উইকেট পেয়ে উদযাপনটাও ভিন্নরকম ছিল ১৯ বছরের তরুণের। জানালেন বিশেষ উদযাপনের কারণ, ‘এটা আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের একজনের আবিষ্কার। উইকেট পেলেই এটা আমি দিতাম। হংকংয়ে সিক্স-এ সাইড খেলতে গিয়েও পুরো দল মিলে এই নাচটা দিয়েছি।’
অনূর্ধ্ব ১৯ দলের নিয়মিত সদস্য, সর্বশেষ এসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেও পাকিস্তানের বিপক্ষে নিয়েছেন দুই উইকেট। এর আগে আফগানিস্তান সিরিজেও একটি ম্যাচে হয়েছেন সেরা। যেখানেই খেলেছেন পারফর্ম করেছেন। আরেক ভবিষ্যৎ তারকার খোঁজ কি পেয়েই গেল বাংলাদেশ?

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ