Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা

জেরুজালেম স্বীকৃতি পাচ্ছে ইসরাইলী রাজধানীর, বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ নিন্দা

ইনকিলাব ডেস্ক: | প্রকাশের সময় : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিবেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। গত বুধবার এ ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেবেন বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা আরো জানিয়েছেন, এ দিন গুরুত্বপূর্ণ এক ভাষণে ট্রাম্প ঘোষণা করবেন, তেল আবিব থেকে দূতাবাস স্থানান্তরের পরিকল্পনা প্রণয়ণের জন্য তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আদেশ দিয়েছেন। তবে তিনি দূতাবাস স্থানান্তরের জন্য কোনো সময়সীমা বেঁধে দিবেন না এবং প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়ন করতে তিন থেকে চার বছর লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। খবরে বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে বিশ্বব্যাপী যখন নিন্দার ঝড় উঠেছে তখন ট্রাম্প এ ঘোষণা দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই অবস্থানের কারণে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার শান্তি প্রক্রিয়া যেমন ব্যাহত হবে তেমনি ওই অঞ্চলে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে। তবে তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস সময় নিয়ে জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এদিকে, ফিলিস্তিনিদের একটি গ্রুপ বেথেলহেমে বিক্ষোভ করেছে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের ছবি সম্বিলিত পোস্টার পুড়েছেন। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনের সশস্ত্র মুক্তি আন্দোলন হামাস জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর ও জেরুজালেমকে ইহুদিদের (ইসরাইলি) রাজধানী ঘোষণার প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ফিলিস্তিনিদের এ ব্যাপারে আগামী শুক্রবার প্রতিবাদ পালনের আহ্বান জানিয়েছে। পশ্চিমতীর কেন্দ্রীক ফিলিস্তিনি রাজনীতিবিদ মুস্তাফা বারঘোতি সতর্ক করে বলেছেন, আরব বিশ্ব তথা মুসলমানরা এটিকে মেনে নেবে না। তিনি আলজাজিরার প্রতিবেদককে বলেন, ফিলিস্তিনিরা প্রকাশ্যে এ প্রতিবাদ জানাবে এবং জনগণ অহিংস আন্দোলন করবে। আর সেটা আপনি আগামীকাল, তার পরের দিন কিংবা তার পরের দিন দেখতে পাবেন। খবরে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প ইতোমধ্যে ফিলিস্তিন, জর্ডান ও মিসরের সরকার প্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছেন। গত মঙ্গলবার ফোন করে ট্রাম্প তাদের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু তিন দেশের নেতারাই ট্রাম্পকে এ ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। কিন্তু তা সত্তে¡ও এ ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ট্রাম্পকে বলেছেন, তার (ট্রাম্প) এ সিদ্ধান্তের পরিণতি হবে ভয়াবহ এবং এর ফলে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। সেইসঙ্গে অত্র অঞ্চল তথা বিশ্বের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘিœত হবে। ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার পর মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাভিল আবু রুদেইনা এক বিবৃতিতে এ কথা জানান। জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ ট্রাম্পকে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত অত্র অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ওপর বিপজ্জনক প্রভাব ফেলবে। জর্ডানের রাজপ্রাসাদ থেকে এক বিবৃতির মাধ্যমে এ কথা জানানো হয়েছে। মিসরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসিও এ ব্যাপারে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া উপেক্ষিত হবে। মিসর সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার সকালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ট্রাম্প যদি দূতাবাস সরানোর উদ্যোগ নেন তাহলে তার দেশ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে। প্রসঙ্গত, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে জেরুজালেম একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইস্যু। রয়টার্স, আল-জাজিরা, বিবিসি, সিএনএন।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।