Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী

সরকার চলছে ফর দ্য রিলিজিওন বাই দ্য রিলিজিওন অফ দ্য রিলিজিওন মতাদর্শে : মমতা

ইনকিলাব ডেস্ক: | প্রকাশের সময় : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

তৃণমূলের সংহতি দিবস উপলক্ষে মেয়ো রোডের মঞ্চ থেকে বুধবার ২৫ বছর আগের বাবরি ধ্বংস দিনের স্মৃতি রোমন্থন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অসহিষ্ণুতার কথা উল্লেখ করে নাম না করে আক্রমণ শানালেন বিজেপির উদ্দেশে। সেদিনের অযোধ্যার সেই ঘটনার পর সারা ভারতজুড়ে যে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেকথাই মমতার বক্তব্যে বারবার ফিরে এসেছে। ২৫ বছর এই দিনটিতে কলকাতায় আচমকা ভয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন বাম সরকারের প্রতিনিধিরা সেসময় রাইটার্স বিল্ডিং থেকে বেরোতে ভয় পাচ্ছিলেন বলে নিজের বক্তব্যে বলেন মমতা। সেসময় তিনি সুদর্শন বাবুর গাড়িতে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সঙ্গে নিয়ে শহরের পথে পথে ঘুরে বেড়িয়েছেন, পুলিশকে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা নজরে এলেই জানিয়েছেন, জানান মমতা। মমতার দাবি, সেসময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকে তিনি বলেছিলেন, কোনওরকমের সাহায্য লাগলে তিনি সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত। কারণ, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, ওই ধরনের পরিস্থিতিতে কখনও রাজনীতি করা উচিত নয়।
সেদিনের অস্থির অবস্থার কথা উল্লেখ করে, আজকের ভারতের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মুখ খোলেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, চারিদিকে আজ অসহিষ্ণুতার বাতাবরণ ছড়িয়ে পড়েছে। একটা দেশের সরকার চলছে ধর্মের ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু সংবিধানে গণতন্ত্র মানে ফর দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, অফ দ্য পিপল।
নাম না করে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারকে মমতার খোঁচা, অথচ এখন একটা দেশের সরকার ফর দ্য রিলিজিওন, বাই দ্য রিলিজিওন, অফ দ্য রিলিজিওন, এই মতাদর্শে চলছে। এই সরকারের হাতিয়ার অসহিষ্ণুতা। প্রতিবাদ করলেই মেরে ফেলা হচ্ছে সাংবাদিকদের। মুখ খুললেই সুদীপ-তাপস-মদনদের মতো ভরে দেওয়া হচ্ছে জেলে। কৃষি-শিল্পে সঙ্কট দেখা দিয়েছে। আত্মহত্যা করেছেন ১২ হাজারের বেশি কৃষক। ভয় দেখানোয় চলে গিয়েছেন ৭৫ হাজার শিল্পপতি। এরা কী দেশ চালানোর যোগ্য? প্রশ্ন মমতার।
মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি দাঙ্গার থেকে বড় শত্রু কিছু নেই। দেশে দাঙ্গা তিনি কোনওমতেই করতে দেবেন না। ভারত ১০০ কোটির দেশ। একটা সরকারের কর্মসূচি কখনও ধর্ম নিয়ে হতে পারে না। মানুষকে নিয়ে হয়।
একজন হিন্দু বলে অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না। সংবিধান বলছে, আমরা ধর্মনিরপক্ষে প্রজাতন্ত্র। কিন্তু এই সরকার অসহিষ্ণু। আর এই ভাগাভাগির শুরু ২৫ বছর আগে।
কে কী ভাববে, কে কী খাবে না, তাও ঠিক করে দেবে এই সরকার। গর্ভবতীদের ডিম খেতে বারণ করা হচ্ছে! কী খাবে তারা! শুধু ধর্মের নামে সুড়সুড়ি।
এ রাজ্যে মুসলিম, তফসিলি, আদিবাসীদের জন্য কাজ তিনি করবেনই, সেটাকে তোষণ বলা হলে তার কিছু যাবে আসবে না। দেশের নেতা তারাই হন, যারা ভাগাভাগি করেন না। দেশের নেতা হতে গেলে রাজ্যগুলিকে তাদের মতো করে জানতে হবে। ক্ষমতা রাখতে গেলে, প্রত্যেকের খেয়াল রাখতে হবে, মত মমতার। সূত্র : এবিপি আনন্দ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মমতা

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন