Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

প্রাথমিক স্তর থেকেই তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা চালু করা হবে -সজীব ওয়াজেদ জয়

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৮ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

ভবিষ্যতে প্রাথমিক স্তর থেকেই তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেন, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ও প্রকৌশলীদের জন্য অপেক্ষা করছে নতুন ভবিষ্যৎ। নতুন প্রজন্মকে এজন্য প্রশিক্ষিত করে তুলতে হবে। বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ থেকে দেওয়া হচ্ছে। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ভবিষ্যত পরিকল্পনা রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা প্রাইমারি লেভেল থেকে শুরু করার। গতকাল (বৃহস্পতিবার) দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ প্রযুক্তি উৎসব ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের দ্বিতীয় দিনে ‘মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে’ তিনি এসব কথা বলেন। এতে পাঁচ দেশের মন্ত্রীসহ ৭ দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। গেøাবাল কনসান্টিং গ্রুপের জারফ মুনিরের সঞ্চালনায় এই কনফারেন্সে কি-নোট উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ।
জয় বলেন, ভবিষ্যতে ৮০ শতাংশ সরকারি সেবা স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে মানুষের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এজন্য নতুন প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। আর প্রাথমিকে আইটি শিক্ষা শুরু করা ষষ্ঠ শ্রেণির চেয়ে কঠিন হবে না বলেই তার বিশ্বাস। তিনি বলেন, এই লেভেলে লেখা শেখানো বা হোমওয়ার্কগুলো ট্যাবের (ট্যাবলেট পিসি) মাধ্যমে করা যেতে পারে। শিশুরা এগুলো খুব দ্রæত শেখে। তবে এখানে আমাদের রিসোর্স একটি চ্যালেঞ্জ। স্বল্পমূল্যে ট্যাবলেট ও কম্পিউটার দেশে তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি কয়েক বছরের মধ্যে প্রাথমিক থেকে এ শিক্ষা শুরু করা যাবে। ২০০৯ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রা শুরুর পর গত নয় বছরে দেশের ৪০ শতাংশ সরকারি সেবা ডিজিটাল হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আগামীতে বেশিরভাগ সেবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেওয়া হবে। তার ভাষায়, দ্রæত বদলে যাওয়া প্রযুক্তি মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনছে। ফলে অর্থনীতির বিকাশ ও শিল্পায়ন দ্রæততর হচ্ছে। এখন সময় এসেছে ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব’ নিয়ে কথা বলার। বাংলাদেশও ভবিষ্যতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত হচ্ছে। ২০২৫ সালের মধ্যেই ন্যানোম্যাটেরিয়ালের বাণিজ্যিক ব্যবহার দেখা যাবে। এসব ন্যানোম্যাটেরিয়াল স্টিলের চেয়েও ২০০ গুণ শক্ত কিন্তু চুলের চেয়েও পাতলা। থ্রিডি প্রিন্টেড লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট হবে। আগামীতে ১০ শতাংশের বেশি গাড়ি চালকহীন হবে। সরকার, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের জীবনেও এর প্রভাব দেখা যাবে। আগামীর বাংলাদেশ পৃথিবীর এসব উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে। সজীব ওয়াজেদ বলেন, বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়েই সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কাজ করেছে। জনগণ সুফল পাচ্ছে বলে বাংলাদেশে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণ। এই ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডেই আপনারা দেখেছেন ড্রোন, বিশ্বের উন্নত রোবট সোফিয়াকে।
প্রযুক্তির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জন্য উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যতে মোবাইল সুপারকম্পিউটিং, চালকহীন গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট, জেনেটিক এডিটিং আমরা দেখতে পাব।
তথ্য ও যোগাযোগ-প্রযুক্তি প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক বলেন, গত ৯ বছরে বাংলাদেশ দ্রুত পরিবর্তন ঘটেছে। আমরা দ্রুত এগিয়েছি। ভবিষতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করছি। তরুণদের উদ্যোক্তা হতে পথ দেখাচ্ছি। ৫ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছি। এসময় অন্যদের মধ্যে কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা ডাইডোন কালোম্বো এনকিলে, কম্বোডিয়ার ডাক ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী কান চানমেটা এ আলোচনায় বক্তব্য দেন। এছাড়া ভুটানের তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রী দীন নাথ দুঙ্গায়েল, মালদ্বীপের সশস্ত্র ও জাতীয় নিরাপত্তা উপমন্ত্রী তারিক আলী লুথুফি, ফিলিপাইনের আইসিটি অধিদপ্তরের পরিচালক নেস্টর এস বোঙ্গাটা, সৌদি আরবের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ ফাহাদ আলী আরাল্লাহ সম্মেলনে অংশ নেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সজীব ওয়াজেদ জয়

৩০ নভেম্বর, -০০০১

আরও
আরও পড়ুন