Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

বড় বিজয় আসবে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে -সজীব ওয়াজেদ জয়

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

আওয়ামী লীগের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক : প্রচারে জোর দেয়ার তাগিদ : নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছে নেই, দলকে ক্ষমতায় আনাই আমার উদ্দেশ্য


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আরও বড় বিজয় পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেছেন, আগামী নির্বাচনে ২০০৮ সালের চেয়েও বড় বিজয় আসবে। আমি একটি জরিপ করেছি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ‘বিজ্ঞানসম্মত’ জরিপে এই বিষয়টি উঠে এসেছে। তাছাড়া, ভোটের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে হারানোর মতো কোনো দল বাংলাদেশে নেই।
গতকাল সোমবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বেলা তিনটায় দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এ কথা জানান। এতে রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের মতামত শোনেন জয়। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে দলটির সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য, কার্যনির্বাহী সংসদের নেতা, সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বেলা তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের কথা শোনেন ও নির্বাচনী প্রচারণা জোরদার করার পরামার্শ দেন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র জয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এতে উপস্থিত ছিলেন।
এ ধরণের বৈঠক অব্যাহত রাখা ও নির্বাচনী প্রচারণার কাজে তিনি নিজে সক্রিয় থাকবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়ে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দিয়ে জয় বলেন, আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় আসবেই। দেশের মানুষের বিশ্বাস ও সমর্থন আমাদের প্রতি চলে এসেছে। আওয়ামী লীগকে হারানোর মতো দল বাংলাদেশে নেই। তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আগামী এক বছরে আমাদের ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন রয়েছে। সেগুলো মানুষের মধ্যে প্রচার করতে পারলে আমরাই ক্ষমতায় আসবো।
দলের শৃঙ্খলার কথা তুলে ধরে জয় বলেন, আওয়ামী লীগে গ্রæপিং-লবিং থাকে; তবে আন্দোলন বা নির্বাচনের সময় সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমে যায়। তিনি বলেন, বিজয় নিয়ে আমি চিন্তা করি না। কিন্তু ষড়যন্ত্র আছে। খেয়াল রাখতে হবে ৫ জানুয়ারির (গত সংসদ নির্বাচন) মতো কোনও ঘটনা-দুর্ঘটনা যেন না ঘটে। ওই সময়ের মতো আগুন সন্ত্রাস যেন না ঘটে।
আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কিনা­ জানতে চাইলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আমি প্রার্থী হচ্ছি না। এটি আপনাদের আগাম জানিয়ে রাখছি। আমার উদ্দেশ্য দলকে ক্ষমতায় আনা। এমপি-মন্ত্রী হওয়ার লোভ আমার নেই।
আগামী নির্বাচন পর্যন্ত প্রচারণায় মাঠে থাকবেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা বলেন, বিগত নির্বাচনে দলকে বিজয়ী করার জন্য মাঠে ছিলাম। এখন থেকে ধরে নিতে পারেন-আমি মাঠে নেমে পড়েছি। আগামীতে কোথায় কোথায় যেতে হবে-কি করণীয় তা আমি করবো। দলকে ক্ষমতায় আনবো।
আগামী সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কিনা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, সেটি বড় কথা নয়। নির্বাচনটি অবাধ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হচ্ছে কিনা, সেটিই বড় কথা। তিনি বলেন, আমরা কাউকে নির্বাচনে আসতে বাধ্য করতে পারি না।
ওই জরিপটি কিভাবে হয়েছে জানতে চাইলে জয় বলেন, একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে জরিপ করানো হয়েছে। এতে আমিও জড়িত ছিলাম। আমি মনে করি, এটি ওয়ান অব দ্য মোস্ট এ্যাকুরেট জরিপ। প্রতিবছরই জরিপ করা হয় বলেও জানান তিনি।
সৌদি আরবে জিয়া পরিবারের ১২শ কোটি ডলার বিনিয়োগের অভিযোগকে বানোয়াট বলে বিএনপির মহাসচিবের দাবি প্রসঙ্গে জয় বলেন, প্রমাণ হয়েছে তারা কিভাবে মিথ্যা বলে। এফবিআই বাংলাদেশে এসে সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। সেখানে ফখরুল সাহেব কিভাবে বলেন যে, দুর্নীতি নেই। তাদের দুর্নীতির টাকা বিদেশ থেকে ফেরত এসেছে। নিশ্চয় তাদের আরও (দুর্নীতির) টাকা আছে, ধরা পড়বে।
বৈঠক সুত্র জানায়, আগামী এক বছরে বিএনপি-জামায়াত জোট যেন কোনো নাশকতা করতে না পারে, সে জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকারও আহŸান জানান জয়। সেই সঙ্গে সরকার অনেক ভালো কাজ করছে জানিয়ে সেগুলো মানুষের কাছে ব্যাপক প্রচার করার পরামর্শও দেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা এত ভাল করি, কিন্তু জনগণের মধ্যে সেগুলো তেমনভাবে প্রচার নেই। আমাদের সাংগঠনিক অবস্থা অনেক ভাল। অন্যদিকে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা ভঙ্গুর হলেও তারা মিডিয়াতে সরব রয়েছে। আমাদেরও মিডিয়া বান্ধব হতে হবে। দলের প্রচার-প্রচারণা বাড়িয়ে দিতে হবে। প্রচার করলেই আমাদের পক্ষে জনসমর্থন আরও বেড়ে যাবে। তিনি নেতাদের জানান, আগামী নির্বাচন পর্যন্ত আমি নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে থাকবো। যেখানে প্রয়োজন সেখানে যাবো।
ডাক বিভাগের ‘ডাক টাকা’র উদ্বোধন
প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশ ডাক বিভাগের (বিপিও) ডিজিটাল ওয়ালেট ‘ডাক টাকা’র উদ্বোধন করেছেন। তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা মানুষকে এই সেবার আওতায় আনার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার সকালে সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে টাঙ্গাইল জেলার প্রান্তিক গৃহকর্মী মর্জিনা বেগমের নামে হিসাব খুলে এই ডিজিটালাইজড প্লাটফর্মের উদ্বোধন করেন।
ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা ৩ কোটিরও বেশি মানুষকে আগামী এক বছরে ‘ডাক টাকা’ সেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ডাক বিভাগ। এতে মাত্র দুই টাকায় হিসেব খোলা যাবে।
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, মোবাইল অর্থনৈতিক সেবা গুরুত্বপূর্ণ এবং চূড়ান্ত পর্যায়ের সেবা, যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, আমরা সরকারি সার্ভিস ডিজিটাইজিং করছি, আমরা মানুষের জীবন সহজ করতে চাই। সবকিছু যাতে তারা মোবাইল, অনলাইন ও ইন্টারনেটে পেতে পারে। কিন্তু মোবাইল অর্থনৈতিক সেবা ডিজিটাইজ না হওয়া পর্যন্ত এটা সম্ভব হবে না।
সারাদেশে ডাক বিভাগের ৮ হাজারের বেশি ডাকঘর রয়েছে উল্লেখ করে জয় বলেন, প্রত্যেক গ্রাম ও ইউনিয়নে ব্যাংকের শাখা নেই। সেখানকার জনগণের হাতে কিভাবে ডিজিটাইজড টাকা পৌঁছবে? তাই আমরা ঠিক করলাম ডাকঘরকে ডিজিটালি ব্যবহার করা হবে, যাতে তারা সেখানে টাকা লেনদেন করতে পারে।
ডাক বিভাগের এই ডিজিটাল অর্থনৈতিক প্লাটফর্মের সফটওয়্যার সম্পর্কে উচ্ছ¡াস প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা জয় বলেন, এটি আমাদের প্রথম পদক্ষেপ এবং আমি আশা করি এটা সফল হবে এবং যত বেশি মানুষ এটা ব্যবহার করবে তত বেশি সেবা পাবে। তিনি বলেন, দুই টাকা দিয়ে ব্যাংক হিসেব খোলার বিষয়টি দেখে তিনি খুব আনন্দিত। গ্রামের মানুষ এই সেবার মাধ্যমে উপকৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ডাক বিভাগকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটালের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, তারা ২০১৮ সালের মধ্যে তিন কোটি মানুষকে ‘ডাক টাকা’র মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।
অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার ও ডি-মানি চেয়ারম্যান অঞ্জন চৌধুরী অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সজীব ওয়াজেদ জয়

৩০ নভেম্বর, -০০০১

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ