Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১০ মাঘ ১৪২৪, ৫ জমাদিউস আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

মনোনয়ন দৌড়ে তারুণ্যের চমক

চট্টগ্রামে নির্বাচনী হাওয়া

রফিকুল ইসলাম সেলিম : | প্রকাশের সময় : ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

চট্টগ্রামে আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সরব বেশ কয়েকজন তরুণ নেতা-নেত্রী। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন পেতে মাঠে নেমে পড়েছেন তারা। প্রবীণ রাজনীতিবীদদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের এসব রাজনৈতিকও নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। তাদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রবীণ নেতাদের ছেলে মেয়ে। মনোনয়ন দৌঁড়ে তারুণ্যের চমক তৃণমূলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভোটের মাঠে সরব নিউ ব্লাড বা তরুণ প্রজন্মের মনোনয়র প্রত্যাশীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, স›দ্বীপের এমপি মাহফুজুর রহমান মিতা, একই দলের ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান, খাতিজাতুল আনোয়ার সনি ও ব্যবসায়ী নিয়াজ মোরশেদ এলিট, বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী ও ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, একই দলের ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা ও ফয়সাল মোরশেদ খান। বড় দুই দলের বাইরে অন্যান্য দলও জোটের মনোনয়ন পেতে আরও অনেকে তৎপর রয়েছেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বন্দরনগরীসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। সরকারি দল আওয়ামী ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপিসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্যপ্রার্থী বা মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নেমে পড়েছেন মাঠে। চলছে ব্যাপক গণসংযোগ। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকান্ডেও ব্যস্ত সময় পার করছেন এসব মনোনয়ন প্রত্যার্শীরা। দলের হাইকমান্ডের নজর কাড়তে নানা কৌশলে মাঠে-ময়দানে সরব আছেন তারা। চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে শুধু আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রায় শতাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে আছেন। বড় এই দুই দলের মনোনয়ন পেতে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সমান্তরালে তরুণ প্রজন্মের অনেকে সক্রিয় আছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রবীণ নেতাদের পুত্র-কন্যারা তাদের পিতার আসনে লড়তে চাইছেন।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পুত্র ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল নগরীর কোতোয়ালী আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। এই আসনে ১৯৯১ সালে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। বিএনপির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমানের কাছে পরাজিত হন তিনি। এরপর ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হন তিনি। টানা তিনবার মেয়র পদে জয়লাভ করেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। জানা গেছে, তিনি এবার এই আসনে তার পুত্রকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসাবে দেখতে চান। এই আসনে মনোনয়ান দৌঁড়ে আছেন সরকারের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির পুত্র সানোয়ারা গ্রæপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান। নুরুল ইসলাম বিএসসি বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে বিজয়ী হন। বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে মহাজোটের শরিক এরশাদের জাতীয় পার্টির জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে এই আসনে ছেড়ে দেওয়ায় মনোনয়ন বঞ্চিত হন বিএসসি। পরে অবশ্য নুরুল ইসলাম বিএসসিকে মন্ত্রী করা হয়। এবার তিনি নিজের বদলে তার পুত্রকে প্রার্থী দেখতে চান। এ লক্ষ্যে মুজিবুর রহমান এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন।
দ্বীপ উপজেলা স›দ্বীপ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা। পিতা দ্বীপবন্ধু খ্যাত মুস্তাফিজুর রহমান কয়েক দফা স›দ্বীপ থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পর সে আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন মিতা। তবে বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হয়। আগামী নির্বাচনে তিনি ফের দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। অন্যদিকে বিএনপিতেও নতুন প্রজন্মের প্রার্থী হিসেবে আমেরিকা প্রবাসী মোস্তফা কামাল মনোনয়ন দৌড়ে আছেন। এর আগের দু’টি সংসদ নির্বাচনেও তিনি মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হন।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি অথবা রাঙ্গুনীয়া আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন মরহুম সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী পুত্র বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনীয়া আসনে প্রার্থী হয়ে ফটিকছড়ি থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। স্বাধীনতার পর প্রায় সবকটি সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নেন এবং বিজয়ী হন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারও ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনীয়া আসনে তার পরিবারের সদস্যদের কেউ প্রার্থী হবেন। এক্ষেত্রে তার স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী ও পুত্র হুমাম কাদের চৌধুরীর নাম বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। তাদের দু’জন ওই দু’টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হবেন বলে জানান দলের নেতারা। ফটিছড়িতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন ওই আসনের সাবেক এমপি মরহুম রফিকুল আনোয়ারের একমাত্র কন্যা খাতিজাতুল আনোয়ার সনি। পিতার মৃত্যুর পর থেকে এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও পিতার দেখানো পথে সমাজ সেবামূলক কর্মকান্ডে ব্যস্ত আছেন তিনি। আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায় বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মহাজোটের শরিক তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থী নজিবুল বশর ভান্ডারিকে আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় মনোনায়ন বঞ্চিত হন সনি। এবার তিনি দলের মনোনয়ন পেতে পারেন।
হাটহাজারী আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হতে তৎপর রয়েছেন ওই আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কন্যা ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। সরকারের রোষানলে পড়ে কথিত জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে মামলায় তাকে কারাবরণ করতে হয়। এ ঘটনায় ব্যাপক আলোচনায় আসেন তিনি। একই আসনে বিএনপির টিকিট পেতে সক্রিয় দলের কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীনের পুত্র ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। পিতার পাশাপাশি পুত্রও এলাকায় রাজনৈতিক এবং সামাজিক কর্মকান্ডে অংশ নিচ্ছেন।
চট্টগ্রাম মিরসরাই আসনে ব্যবসায়ী পিতা মনিরুল ইসলাম বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও একই আসনে পুত্র নিয়াজ মোরশেদ এলিট আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌঁড়ে সামিল হয়েছেন। পারিবারিকভাবে ব্যবসার পাশাপাশি নিয়াজ মোরশেদ ঠিকাদারি করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। চট্টগ্রামের তরুণ ব্যবসায়ী হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। আওয়ামী লীগের কোন পদে না থাকলেও সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তিনি। বোয়ালখালী আসনে এবার বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোরশেদ খানের পুত্র ফয়সাল মোরশেদ খান। ওই আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান। জানা গেছে, এবার তিনি নিজে প্রার্থী না হয়ে ব্যবসায়ী পুত্র ফয়সাল মোরশেদ খানকে ধানের শীষের প্রার্থী করতে আগ্রহী।
বাঁশখালী আসনে তরুণ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। ইতোমধ্যে তিনি এলাকায় গণসংযোগসহ নানামুখী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। নগরীর কোতোয়ালী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও পেশাজীবী নেতা রিয়াজ হায়দার চৌধুরীর নামও উচ্চারিত হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রামের আরও কয়েকটি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন লাভে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি একাধিক তরুণ নেতা তোরজোড় অব্যাহত রেখেছেন।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা আসনে মরহুম আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর পুত্র ব্যবসায়ী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ পিতার মৃত্যুর পর রাজনীতিতে আসেন। বর্তমানে তিনি ভূমি প্রতিমন্ত্রী। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের অপর নেতা মরহুম আতাউর রহমান খান কায়সারের কন্যা ওয়াসিকা আয়েশা খান সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য।

 


Show all comments
  • গোলাম ফারুক ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭, ৭:২৪ এএম says : 1
    সুষ্ঠ নির্বাচন হবে তো ?
    Total Reply(0) Reply
  • mohd kamrul hasan ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১০:১১ এএম says : 0
    good.
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Jakariya Rashed ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১:২০ পিএম says : 1
    চট্টগ্রাম (৫) হাটহাজারী আসনে ধানের শীষের বিজয় অর্জনে "ব্যারিষ্টার মীর হেলাল ভাইয়ের,বিকল্প নেই।
    Total Reply(0) Reply
  • MD Rezaul Karim Ripon ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১:২১ পিএম says : 0
    চট্টগ্রাম (৩)সন্দ্বীপে আসনে মাহফুজুর রহমান মিতা ভাইকে পুনরায় এমপি হিসেবে দেখতে চাই
    Total Reply(0) Reply
  • Ali ImtiAz ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১:২১ পিএম says : 0
    ফটিকছড়ি থেকে খাদিজাতুল আনোয়ার আন্টিকে এমপি হিসেবে দেখতে চাই
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর