Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১০ মাঘ ১৪২৪, ৫ জমাদিউস আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার শঙ্কা ওবায়দুল কাদেরের

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

বিএনপির প্রতি শেষ কথা, সংবিধানের বাইরে কোনো দু:স্বপ্ন না দেখার
বিএনপিকে সংবিধানের বাইরে কোন দু:স্বপ্ন না দেখার আহŸান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এটাই শেষ কথা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হিন্দু বাড়িতে আক্রমনের আশঙ্কা প্রকাশ করে আক্রমনকারীদের চিনে রাখার পরামর্শ দিয়ে সনাতন ধর্মালম্বীদের উদ্দেশ্যে কাদের বলেন, আমাদের ভুল থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের ভুল সংশোধনের সাহস আছে। আমরা করছি, করবো। কিন্তু যারা আজকে মুখোশ ধারণ করে আপনাদের আপন হতে চায় তাদেরকে চিনে রাখুন। এটা আমার অনুরোধ।
গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর রামকৃঞ্চ মিশনে স্বামী বিবেকানন্দ ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাহেব বলেছেন নির্বাচন দিতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। মনে আছে বেগম জিয়া এক সময় বলেছিলেন নিরপেক্ষ সরকার পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ বোঝে না। এখন আবার বুঝলেন কিভাবে? এখন কি আপনাদের বিবেক হারিয়ে গেছে?
কাদের বলেন, আপনারা বলেছেন, ২০১৪ মত নির্বাচন আর দেয়া যাবে না। গত নির্বাচনের আগে আমাদের নেত্রীর সাথে বেগম জিয়ার টেলিফোন আলাপ আপনারা শুনেছেন। তখন যদি শালীনতা বজায় রাখতেন তাহলে আজকে নির্বাচন নিয়ে ১৪ সালের মত নির্বাচন দেয়া যাবে না একথার প্রয়োজন ছিল না।
তিনি বলেন, ২০১৪ সালে নির্বাচন তো আপনারাই ওই পথে ঠেলে দিয়েছেন। আপনারা আসবেন না নির্বাচনের ট্রেন থেমে থাকবে? আপনারা আসবেন না, তাতে গণতন্ত্রের কি দোষ? এবারও সংবিধান যা আছে নির্বাচন সম্পর্কে, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। শেখ হাসিনা সরকার শুধু মাত্র রুটিন ওয়ার্ক করবে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব কাজ করবে নির্বাচন কমিশন। ভারতসহ অন্যান্য দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় সেভাবেই এদেশে নির্বাচন হবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, এর বাইরে অন্য কোন দু:স্বপ্ন দেখে কোন লাভ নেই, এটাই শেষ কথা। ভারতসহ কোন গণতান্ত্রিক দেশে কোন দল নির্বাচনে আসলো কি আসলো না এ দায় নেবার কি কোন সুযোগ আছে? এই দায় আওয়ামী লীগেরও নেই। আসলে আসুক, না আসলে না আসুক তাতে কি আসে যায়।
সড়ক পরিবহণমন্ত্রী বলেন, আপনারা আসেননি বলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসির সম্মেলন আইপিইউ সম্মেলন হয়েছে। ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সম্মেলনের পথে আপনারা নির্বাচনে অংশ নেননি বলে নির্বাচনে বৈধতার এমন কি সংকট পড়েছে? এমন কোন সংকট হয়নি যে আইপিইউর ঢাকার সম্মেলন।
তিনি বলেন, তারা কি বোকার স্বর্গে বাস করে। তারপর সিপিএ সেই সংস্থারও ঢাকা সম্মেলন হয়েছে। আপনারা ৫ জানুয়ারীতে এলেন না বলে পার্লামেন্টে বিরোধীদলেরও অনুপস্থিতি নেই। চেয়ার ছোড়াছুড়িও নেই। ফাইল ছোড়াছুড়িও নেই। মাইক নিয়ে স্পিকারকে আক্রমনের সেই দৃশ্যপটও নেই। পার্লামেন্টারি আইপিইউ সম্মেলনেও কোন সমস্যা হয়নি।
বিএনপি নির্বাচনে না এলে সরকারের কোন দায় নেই জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নির্বাচনে এলো কি এলো না সেটা সরকারের কোন দায় নেই। সেজন্য গণতন্ত্রের চলার পথে কোন বাধা হবে না। পার্লামেন্টও চলবে, সরকারও থাকবে। তারা না এলে গণতন্ত্রের কি দোষ?
সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ কঠোর অবস্থানে জানিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকার বিরোধী যারা তাদের একটা অপপ্রয়াস আছে যে, হিন্দুদের বাড়ি, হিন্দুদের মন্দির যদি আক্রমন করা যায়; তবে এই হামলার ব্যর্থতার জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বিনষ্ট করার। এটা একটা উদ্দেশ্য, একটা মতলব থাকতে পারে। কিন্তু এগুলো ‘পানিশেবল অফেন্স’। যেগুলো আছে এগুলো কিন্তু বিচার হচ্ছে। আমরা ছেড়ে দিচ্ছি না। নাসিরনগর দেখুন। মামলা শুরু হতে যাচ্ছে। সত্যকে চাপা দিয়ে রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, সরকার কঠোর অবস্থানে আছে। এখানে যদি আওয়ামী লীগের লোকও জড়িত থাকে তারাও পার পেয়ে যাবার কোন উপায় নেই।
একটা সিন্ডিকেট হিন্দুদের বাড়ি দখলে চেষ্টায় মেতে আছে দাবি করে সেতুমন্ত্রী বলেন, তাদেরকে (হিন্দুদের) হামলা করে বাড়িঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়ে জমি দখলেরও একটা সিন্ডিকেট সক্রিয় আছে। হিন্দুদের বাড়িঘর জমি দখল করার চেষ্টা যারা করে এদের কোন দল নেই। এরা দূর্বৃত্ত, এরা যে দলেই থাক না কেন। আমরা কোন অবস্থায় ছেড়ে দেব না। তিনি বলেন, নাসিরনগরের ঘটনার বিচার শুরু হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে আমি নিজে গিয়ে দেখে এসেছি গরিব হিন্দু পরিবার, তাদের উপর হামলা চালানো হয়েছে।
কাদের বলেন, মন্দিরে হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু এ ধরণের হামলা যাতে না ঘটে সেজন্য এ ধরণের হামলাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করাতে হবে। আনতেই হবে। এখানে কোন আপোষ নেই। তা না হলে বারবার একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটবে।
হিন্দুদের উপর হামলা করে যারা বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক নষ্ট করতে চাইছে তারা বোকার স্বর্গে বাস করে বলে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, হিন্দুদের উপর হামলা করে যারা বাংলাদেশ ভারতের সম্পর্ক যারা নষ্ট করতে চাইছে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। তিনি বলেন, অবিশ্বাস সন্দেহের দেয়াল ভেঙ্গে গেছে। এখানে আর ফাঁটল ধরানো সম্ভব হবে না। বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে আমাদের সম্পর্ক এখন অনেক উপরে। আমাদের পারস্পরিক কন্সট্রাকটিভ সম্পর্ক এখন অর্থনৈতিক স্বার্থে, জাতীয় স্বার্থে। দু-দেশের সম্পর্ক এখন নতুন নতুন মাত্রা পাবে, নতুন নতুন উচ্চতা পাবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সামনে নির্বাচন। গোলমাল হলে তারাই পাকাবে। ভায়োলেন্স কাকে বলে ২০০১ সালে সংখ্যা লঘুদের উপর আক্রমন করে তারা দেখিয়ে দিয়েছে। এরা কারা, যারা এখন মায়া কান্না করে। তাদের চিনে রাখুন।
বাংলাদেশ ভারতে সম্পর্কের সোনালী অধ্যায় চলছে: শ্রীংলা
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা বলেন, আজকে বঙ্গবন্ধু কন্য শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদির সম্পর্ক এখন অপ্রত্যাশিত উচ্চ শিখরের। ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন খুবই ভালো, এই সম্পর্কের সোনালী অধ্যায় চলছে।
শ্রীংলা বলেন, ভারত বাংলাদেশের বহু উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। গত পাঁচ বছরে ভারত সরকার বাংলাদেশে একশত এগার কোটি টাকার মুল্যমানের ২৪টি প্রকল্প শেষ করেছে। তিনি বলেন, আমি আপনাদের জানাতে পেরে খুশি যে, শুধু আঠোরো সালে, আমরা এক হাজার একশ কোটি টাকার ৬৫টি প্রকল্প শেষ করতে পারবো। আমরা আশা করছি এই অবদান বাংলাদেশ আমাদের বন্ধু দেশ এই জন্যই আরও গুনগত পরিবর্তন আসবে।
ভারতীয় দূতাবাস দেশের রামকৃঞ্চ মিশনের বিভিন্ন কর্মকান্ডে সহযোগিতা করে আসছে জানিয়ে শ্রীংলা বলেন, আমি আপনাদের জানাতে পেরে খুশি যে আনুমানিক ছয় কোটি টাকার এই ভবনটি সম্পূর্ণ ভারত সরকারের অর্থায়নে তৈরি হতে যাচ্ছে। যেখানে থেকে অনেক ছাত্র লেখাপড়া করতে পারবে।
ভারত বাংলাদেশের সম্পর্কের এখন সোনালী অধ্যায় চলছে জানিয়ে শ্রীংলা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা এবং ভারতীয় সৈন্যরা এক সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল এবং রক্ত দিয়েছিল। এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশ ভারতের সম্পর্ক উচ্চ শিখরে। ভারতের সঙ্গে আপনাদের বন্ধুত্ব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির সময় থেকেও সুদৃঢ়।
শ্রীংলা আরও বলেন, বন্ধুগণ, আপনাদের উন্নয়নের জন্য ভারত প্রস্তুত। আপনাদের সোনার বাংলার স্বপ্ন আমাদেরও স্বপ্ন।

 


Show all comments
  • Rabbi ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১:৩০ পিএম says : 0
    এটা কোন কথা হলো ।।বুঝলাম না কেন মাননীয় কাদের সাহেব এমন ধারনা করছেন?? আমার এলাকায় অনেক হিন্দু ভাই আছে যাদের সাথে আমরা শান্তিতে বসবাস করছি ।।। দয়া করে এমন কিছু বলবেন না যাতে আমাদের মাঝে ভ্রাতিত্ত নষ্ট হয়
    Total Reply(0) Reply
  • S. Anwar ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭, ৩:৫৮ পিএম says : 0
    মাসীর মতো অতি দরদী সাজতে চাচ্ছেন কাদের সাহেব। যা হবার কোন সম্ভাবনা ছিলো না বা নেই, তা উসকে দেবার অগ্রিম চেষ্টা করছেন উনি।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর