Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২২ এপ্রিল ২০১৮, ৯ বৈশাখ ১৪২৫, ০৫ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
শিরোনাম

নির্বাচনে আমাদের বিজয় নিশ্চিত

প্যারিসে নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান
আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দলের সকল নেতাকর্মীদের প্রতি ঐক্য জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে আমরা নিশ্চিত জয়লাভ করবো। কারণ, জনগণ আমাদের পক্ষে রয়েছে। জনগণ আমাদের ভোট প্রদানের জন্য প্রস্তুত। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী সময় মতো নির্বাচন হবে। সে নির্বাচনে পুননির্বাচিত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা পুনরায় নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসবো ইনশাল্লাহ এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের গতি অব্যাহত থাকবে। তাই আমাদের সাবধান থাকতে হবে, যাতে কেউ নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে না পারে।
গত মঙ্গলবাররাতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্যারিস লা গ্রান্ডে আওয়ামী লীগের ফ্রান্স শাখা আয়োজিত প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেয়া এক নাগরিক সংবর্ধনায় তিনি এ আহ্বান জানান। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর আমন্ত্রনে ওয়ান প্লানেট শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গত সোমবার তিনদিনের সরকারি সফরে প্যারিস গেছেন প্রধানমন্ত্রী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এই সংবর্ধনায় যোগ দেয়।
দলের নেতাকর্মীদের দলকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ত্যাগের মাধ্যমেই দলের সর্বস্তরে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। দলের মধ্যে বিভাজন ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে কিন্তু সকলে একতাবদ্ধ থাকলে সে সুযোগ তারা পাবে না।
বাংলাদেশকে ’৭৫ এর পর পিছিয়ে দেয়া এবং যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসিত করা শক্তি যেন আর ক্ষমতায় আসতে না পারে এ বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি সন্ত্রাস, হত্যা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হওয়ারও আহ্বান জানান। বলেন, তাদের লুটপাট, খুন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষকে সজাগ করতে হবে। তাদের ক্ষমতায় আসা মানে আবার মানুষ খুন করা, পুড়িয়ে মানুষ হত্যা, লুটপাট করা। প্রবাসীদের এ সময় দেশে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন করারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
দেশ স্বাধীন হবার ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও ৩০ বছর স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি দেশ শাসন করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, অথচ ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই দেশের মানুষ উন্নয়নের প্রকৃত স্বাদ লাভ করে। তিনি বলেন, বিএনপি বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য নিজেদের চ্যাম্পিয়ন দাবি করে অথচ তারা আসলে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে পুনর্বাসিত করেছিল এবং দেশে কারফিউয়ের গণতন্ত্র চালু করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি দেশের ইতিহাসকে বিকৃত করে পুরো একটি প্রজন্মকেই দেশের প্রকৃত ইতিহাস জানা থেকে বিরত রাখে। তারা বঙ্গবন্ধু এবং ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ হিসেবে তাদের মেমোরি রেজিস্টারে এই ভাষণের অর্ন্তভূক্তি সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।
জাতির জীবনে ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট না এলে বাংলাদেশ অনেক অগেই উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছে যেত উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে স্বাধীনতার ১০ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ বিশ্বে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেত।
জাতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রবাসীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার দাবিতে সুইডেনে প্রথম সভা হয়েছিল যেখানে বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এবং দেশকে মুক্ত করায় সর্বদা ভূমিকা পালন করে এবং দেশের অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল রাখে। বিশেষ করে সাবেক সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তাদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের সহযোগিতা সবসময়ই তাকে শক্তি ও সাহস জোগায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ পরবর্তী সরকারগুলো বাংলাদেশকে বিশ্বে ভিক্ষুকের জাতি হিসেবে পরিচয় করায়। কিন্তু এখন বিশ্ব স¤প্রদায় বাংলাদেশকে মর্যাদার চোখে দেখে। বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা আর কেউ রুখতে পারবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরীতা নয়’কে নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে। যা তার সরকারের আদর্শ, যা বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র দূরীকরণে সহায়তা করছে।
দেশের বিভিন্ন খাতের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দেশ দারিদ্র মুক্ত হলেই কেবল দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য, শিক্ষা, মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা এবং হাউজিংয়ের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই জনগণ উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে। আর বিএনপি তাদের নিজেদের ভাগ্য গড়ে তুলতেই ক্ষমতায় আসে। ভোটচুরি, দুর্নীতি, ব্যাংকের টাকা লোপাট, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ তখন নিত্য দিনের ঘটনা হয়ে যায়।
শেখ হাসিনা বলেন, সরকার এই মেয়াদকালেই দেশের অবশিষ্ট উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলো সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে। দেশের অগ্রগতির স্বার্থে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জললাভ করতে হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশে ফরাসি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফরাসি বিনিয়োগের বিপুল সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে ফরাসি কোম্পানিগুলোর প্রতি বাংলাদেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ফ্রান্সের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক প্রাতঃরাশ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে সার্বিকভাবে শিল্পায়িত করতে আমরা দেশজুড়ে একশটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। আমি মনে করি প্রচলিত বাণিজ্যিক ক্ষেত্র ছাড়াও বাংলাদেশের অবকাঠামো, জ্বালানি ও সামুদ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও আরো ফরাসি বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। ফ্রান্সের বৃহত্তম নিয়োগকারী ফেডারেশন মুভমেন্ট অব দি এন্টারপ্রাইজেস অব ফ্রান্স (এমইডিইএফ) গতকাল বুধবার সকালে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্যারিস লা গ্রাঁদে এ প্রাতঃরাশ বৈঠকের আয়োজন করে।
বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, ফ্রান্সের তার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। আর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, আপনাদের যেমন প্রতিযোগিতামূলক বিকল্প উৎস খোঁজা দরকার, তেমনি আমাদেরও রফতানি গন্তব্য বহুমুখী করা প্রয়োজন। আর এ দুয়ের সমন্বয় আমাদের দু’দেশের জন্যেই লাভজনক অংশীদারিত্বের একটি যথার্থ পরিবেশ তৈরি করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছর বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে কূনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৪৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে সহযোগিতার সম্ভাবনাময় নতুন নতুন ক্ষেত্র নিয়ে ভাবার এটি একটি উপযুক্ত সময়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সুযোগ ও সম্ভাবনার দেশ, যার বৈদেশিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্য নীতি এ অঞ্চলের অন্যতম সেরা বন্ধুত্বপূর্ণ।
শেখ হাসিনা বলেন, অনেক সমস্যা সত্তে¡ও বাংলাদেশ গতবছর ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা বিপুল সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার দ্বিমুখী বাণিজ্যের পরিমাণ দুইশ’ কোটি মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

 


Show all comments
  • বিপ্লব ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭, ৪:৩৪ এএম says : 0
    তাহলে সুষ্ঠ নির্বাচন দিন দেখা যাক কারা জিতে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর