Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৭ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।

‘কুমিল্লার আপত্তিতেই ম্যাচ রিজার্ভ ডেতে’

মান নিয়ে অসন্তুষ্ট বিসিবিও

| প্রকাশের সময় : ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

স্পোর্টস রিপোর্টার : বিপিএলের ফাইনাল শেষে শিরোপা নিয়ে ঘরে ফিরে গেছে রংপুর রাইডার্স। তবু থেমে নেই আলোচনা। একদিকে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের নাটকীয়তা, অন্যদিকে বাজে আম্পায়ারিং থেকে শুরু করে নি¤œমানের টিভি স¤প্রচার ও ধারাভাষ্য নিয়েও আছে সমালোচনা। তারই ফিরিস্তি দিতে হাজির হয়েছিলেন বিসিবি ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল কর্তারা। সকলেই একবাক্যে স্বীকার করেছেন, মানসম্পন্ন ছিলনা এবারের বিপিএল ফাইভের সকল কার্যক্রম।
সংবাদ সম্মেলনের প্রথমেই আসে, প্লেয়িং কন্ডিশনে না থাকার পরও রিজার্ভ ডেতে ম্যাচ নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গ। এবার বিপিএলে এলিমিনেটর ও কোয়ালিফায়ার ম্যাচে কোন রিজার্ভ ডে ছিল না। গত ১০ ডিসেম্বর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও রংপুর রাইডার্স ম্যাচের ৭ ওভারে নামে বৃষ্টি। ওই বৃষ্টি শেষে মাঠ প্রস্তুত হতে হতেই পেরিয়ে যায় কাটঅফ টাইম। প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী তখন দুদলকে সুপার ওভারের জন্য প্রস্তুত হতে বলেছিলেন ম্যাচ রেফারি। কিন্তু কুমিল্লা নাকি সুপার ওভার খেলতে আপত্তি জানায়। এতেই বিপত্তি। অনেক দেন-দরবারের পর দুদলের সম্মতিতে ম্যাচ গড়ায় পরের দিন। এ ব্যপারে বিসিবি পরিচালক মাহবুব আনাম বলেন, ‘ম্যাচের সময় ছিল ছয়টা থেকে ৯টা ২০। দু’দফা বৃষ্টির ফলে ম্যাচ হওয়া নিয়ে দেখা দেয় সংশয়। ম্যাচ অফিসিয়ালরা সব প্রস্তুতি নিয়ে দুদলকে ৯টা ৪০ মিনিটে জানায়ও, ম্যাচ বাতিলের কথা। কিন্তু একটা দল (কুমিল্লা) তা খেলতে অসম্মতি জানায়। পরে দুদলের সম্মতিতে ম্যাচ পরের দিনে গড়ায়।’
নিয়মের মধ্যে থাকার পর কেউ খেলতে অসম্মতি জানালে প্রতিপক্ষই বিজয়ী হয়। এক্ষেত্রে তা না করে কেন বাইলজ বদলানো হলো? বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেন, ‘এটা করা হয়েছে টুর্নামেন্টের স্বার্থে। খেলা না হওয়ার চেয়ে খেলা হওয়া তো ভালো।’ এ ব্যপাওে মাহবুবের আনামের ব্যাখ্যা, ‘ক্রিকেটে নর্মস আছে কোন ব্যাটসম্যান আউট হয়ে গেলে, প্রতিপক্ষ অধিনায়ক চাইলে তাকে ফিরিয়ে আনতে পারে। সেদিক থেকেই দুই অধিনায়ক রাজি থাকলে এমন বদল হতে পারে।’
এদিকে, বিপিএলে টিভি স¤প্রচার ও ধারাভাষ্যের মান নিয়েও সন্তুষ্ট নয় বিসিবি। পরের আসর থেকে মানের উন্নয়নে নজর দেওয়ার প্রতিশ্রæতি দিচ্ছে বোর্ড। এজন্য ‘প্রোডাকশন’ রাখতে চায় নিজেদের কাছেই। এবারের বিপিএলের স¤প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান বদলালেও পরির্বতন আসেনি মানে। ছবি, শব্দ, প্রযুক্তির ব্যবহার, ক্যামেরার কাজ, গ্র্যাফিক্স, প্রশ্নবিদ্ধ প্রায় সবই। ইসমাইল হায়দার মল্লিক জানালেন, স¤প্রচারের ব্যাপারটি ভাবাচ্ছে তাদেরকেও, ‘মানের আসলে সীমা-পরিসীমা নেই। এই বছর স¤প্রচারের যে মান ছিল, আমরা বলছি না যে তাতে আমরা সন্তুষ্ট। এর চেয়ে যেন ভালো হয়, সেই চেষ্টা করব।’
স¤প্রচারের মত নিম্নমানের ছিল ধারাভাষ্যও। এবার ধারাভাষ্য দলে ছিলেন বাংলাদেশের আতহার আলি খান, শামীম আশরাফ চৌধুরী, আমির সোহেল, টিনো মায়োয়ো, গৌতম ভিমানি ও রোশান অবয়সিংহে। এর আগে ধারাভাষ্য কক্ষের প্রাণ ড্যানি মরিসনকে দেখা যায়নি এবার। পাকিস্তানের আমির সোহেল অনেক দিন ধরেই ধারাভাষ্যে সেভাবে ছিলেন না। মায়োয়ো এখনও নবীন। অবয়সিংহে শ্রীলঙ্কার ম্যাচের বাইরে সেভাবে ডাক পাননা। ভিমানি যতটা না ধারাভাষ্যকার, তার চেয়ে অনেক বেশি উপস্থাপক। তবে এবার তিনিই যা একটু প্রাণের সঞ্চার করেছিলেন ধারাভাষ্যে।
ধারাভাষ্যের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে টিভির প্রেজেন্টারদের নিয়েও। তাদের প্রশ্নের ধরনের কারণে সরাসরি স¤প্রচারে বিব্রতকর পরিস্থিতিতেও পড়তে হয়েছে ক্রিকেটারদের। অভিযোগগুলো এরকম মেনেই নিচ্ছেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব। পরের আসর থেকে তই প্রোডাকশনের ব্যাপারটি স্বত্ব কেনা সংস্থাকে না দিয়ে নিজেরাই দেখতে চায় বোর্ড।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিপিএল

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন