Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ১২ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

বিজয় দিবসে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনে জনতার ঢল

জাতির জনকের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের ৪৬ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিনি দেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলীয় প্রধান হিসেবে দলের সিনিয়র নেতা-কর্মীদের নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এসময় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহারা খাতুন, আবদুল মতিন খসরু, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, দলটির নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, অসীম কুমার উকিল, আহমদ হোসেন, এনামুল হক শামীম, আবদুস সোবহান গোলাপ, আবদুস সবুর, ফরিদুন্নাহার লাইলী, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
বঙ্গবন্ধু ভবনে জনতার ঢল: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সকালে জনতার ঢল নেমেছিল রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এখানে জনতার ঢল নামে। সকাল ৭ টা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা মিছিল করে ৩২ নম্বর সড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের মোড়ে জমায়েত হতে থাকে। সকাল সাড়ে ৭ টার মধ্যেই সর্বস্তরের মানুষের ভিড়ে গোটা এলাকা কানায়-কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। কেউ এসেছে মাথায় বিজয় দিবসের ব্যান্ড বেঁধে, কেউ এসেছে লাল-সবুজ পোষাক পরে। তাদের সবার মুখে উচ্চারিত হচ্ছিল ‘জামায়াত শিবির রাজাকার এই মুহুর্তে বাংলা ছাড়’। ‘মুজিবের বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই’।
হাজার হাজার যুবক-যুবতী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এবং শিশু-কিশোরসহ সর্বস্তরের নারী-পুরুষ বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অথবা নিজ নিজ সংগঠনের ব্যানার সামনে নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে সরকার প্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু ভবন ত্যাগ করার পর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য স্থান টি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী লীগের নেতারা জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর
কেন্দ্রীয় যুবলীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, যুব মহিলা লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তর ও দক্ষিণ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, ছাত্রলীগ উত্তর ও দক্ষিণের নেতা ও কর্মীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন ছাড়াও ঢাকা মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল, সচিবালয় কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ তাঁতী লীগ, বিআরটিসি শ্রমিক কর্মচারী লীগ, জাতীয় ঘাট শ্রমিক লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, তেঁজগা কলেজ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম, বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ, আওয়ামী ওলামা লীগ, সূত্রাপুর থানা আওয়ামী লীগ, শেখ রাসেল শিশুসংঘ, আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ পুনর্বাসন সোসাইটি, বাংলাদেশ উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ নৌকা মাঝি শ্রমিক লীগ, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন শ্রমিক কর্মচারী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, আওয়ামী শিল্পী গোষ্ঠী, বঙ্গবন্ধু হারবাল চিকিৎসক পরিষদ, ঢাকা আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ আওয়ামী যুব আইনজীবী পরিষদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন, কেন্দ্রীয় যুব শ্রমিক লীগ, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ফার্মেসি গ্রাজুয়েট এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ পলিটেকনিক শিক্ষক সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু জাতীয় চারনেতা পরিষদ, বঙ্গমাতা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাহিত্য পরিষদ, বাংলাদেশ রিকশা শ্রমিক লীগ, বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদ, শেখ রাসেল স্মৃতি পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা যুবকমান্ড কেন্দ্রীয় কাউন্সিল, বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন প্রভৃতি সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানায়। বেলা ১১টার মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ফুলে-ফুলে ভরে যায়।
প্রধানমন্ত্রী বিজয় দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকেট অবমুক্ত: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ৪৬ বছর পূর্তিতে গতকাল ১০টাকার স্মারক ডাকটিকেট ও উদ্বোধনী খাম অবমুক্ত করেছেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পাঁচ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটা কার্ড এবং ডাক বিভাগের ইস্যুকৃত একটি স্মারকগ্রন্থ অবমুক্ত করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মোঃ আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদারও ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মন্ডল।
যুদ্ধহত মুক্তিযোদ্ধা খাবার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ৪৬ বছর পূর্তিতে দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধাকে (এফএফ) শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আহত মুক্তিযোদ্ধাদের শুভেচ্ছা জানাতে প্রধানমন্ত্রী পূর্ববর্তী অনুষ্ঠানের মতো এবারও নগরীর মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডে অবস্থিত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ফুল, ফল এবং মিষ্টি পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত সচিব (এপিএস) সাইফুজ্জামান শিখর এবং সহকারী প্রেস সচিব ইমরুল কায়েস গতকাল বিকেলে এসব উপহার সামগ্রী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে হন্তান্তর করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ