Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

ব্রাসেলসে বিমানবন্দর ও মেট্রো রেল স্টেশনে বিস্ফোরণে নিহত ৩৫ আহত দুই শতাধিক

প্রকাশের সময় : ২৩ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১:০৭ এএম, ২৩ মার্চ, ২০১৬

ইনকিলাব ডেস্ক
গতকাল একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস। এসব বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ জনে এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। এর মধ্যে বিমানবন্দরে দুইটি ও  মেট্রো রেল স্টেশনে একটি হামলার ঘটনা ঘটে। বেলাজিয়ামের মিডিয়াগুলো এ খবর জানিয়েছে। ইউরোপের কেন্দ্রস্থলে এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা রোধে এখন ইউরোপের নিরাপত্তা সামর্থ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সময় সকালের দিকে এসব হামলার ঘটনা ঘটে। এদিকে, ব্রাসেলস হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট বা আইএস। তারা গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে এ হামলার দায় স্বীকার করে।
বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী চার্লস মাইকেল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা সন্ত্রাসী হামলার আশংকা করেছিলাম এবং এখন এটাই ঘটলো। এটি আমাদের জন্য একটি কালো অধ্যায়। আমাদের এখন শান্ত ও সংহত থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমরা ‘কালো’ হামলার শিকার হয়েছি। আমি জানি এ ঘটনায় অনেকে নিহত ও আহত হয়েছে।
গত সপ্তাহে ‘প্যারিসে হামলাকারী’ সালেহ আব্দে সালামের আটকের সঙ্গে ব্রাসেলসে এই হামলার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না সে বিষয়ে কিছু বলেননি চার্লস মাইকেল।
বেলজিয়ামের ফেডারেল প্রসিকিউটর ফ্রেডেরিক ভ্যান লিউ বলেছেন, এসব হামলায় ঠিক কতজন প্রাণ হারিয়েছে এ মুহূর্তে বলা কঠিন। তবে ব্রাসেলস মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাবওয়ে স্টেশনে বিস্ফোরণে ২০ জন নিহত ও ৫৫ জন আহত হয়েছে। বেলজিয়াম মিডিয়াগুলো জানিয়েছে, ব্রাসেলস বিমানবন্দরের ডিপারচার হলে দুইটি বিস্ফোরণে আরও অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছে। বিমানবন্দরে দুইটি বিস্ফোরণে নিহতদের মধ্যে অন্তত একজন আত্মঘাতি বোমা হামলাকারীও রয়েছে। একটি বিস্ফোরণ ঘটে যাত্রীদের বেরুবার পথের কাছে নিরাপত্তা চেক পয়েন্টের বাইরে। আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে এয়ারলাইনের চেক-ইন কর্নারের কাছে।
সিএনএন জানায়, ইউরোপিয়ান কোয়ার্টারের কাছে ম্যালবিক ডিস্ট্রিস্ট’এ সাবওয়ে স্টেশনে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণ এলাকার কাছাকাছি ইউরোপীয় ইউনিয়ণের বিভিন্ন অফিস রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দর ও পাতাল রেল স্টেশন রক্তে ভেসে যায়। প্রচ- বিস্ফোরণে চারদিক কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। জানালার কাঁচগুলো ভেঙে পড়ে। চারপাশে শুধু রক্ত আর রক্ত। ভীত সন্ত্রস্ত লোকজন প্রাণ ভয়ে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করছে। আহতরা কাতরাচ্ছে। সে এক ভয়ংকর দৃশ্য। মনে হয় এক যুদ্ধক্ষেত্র। বেলজিয়ামের প্রসিকিউটর বলেন, খুব সম্ভব এটা আত্মঘাতি বোমা হামলা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরে হামলায় নিহতদের পাশাপাশি ৮১ জন আহত হয়।
রাষ্ট্রীয় টিভির খবরে বলা হয়, নিহত এক হামলাকারীর কাছে একটি এ্যাসল্ট রাইফেল পাওয়া গেছে। তার বেল্টে একটি অবিস্ফোরিত বোমাও পাওয়া গেছে।
এদিকে যাভেনতেম বিমানবন্দরে হামলার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ব্রাসেলস’র মায়েলবিক মেট্রো স্টেশনে আরেকটি বিস্ফোরণে ঘটনা ঘটে। এই হামলায় ২০ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয় আরও ৫৫ জন। মেট্রো স্টেশনটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দফতরের প্রায় ৪ শ’ মিটার দূরে অবস্থিত।
এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য না করলেও দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী সর্বোচ্চ ‘সন্ত্রাসী সতর্কতা’ জারি করেছে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট ওঠানামাসহ সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছে যাভেনতেম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ব্রাসেলসসের সব মেট্রো স্টেশন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ব্রাসেলসের বিমানবন্দর ও মেট্রো স্টেশনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল থেকে একটি কালাশনিকভ রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে।
ব্রাসেলস’র মেয়র জানান, আহতদের মধ্যে ১৭ জনের অবস্থা আশংকাজনক।
এদিকে দেশটির কর্তৃপক্ষ এক টুইটার বার্তায় জানায়, বিমানবন্দরে দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। এরই মধ্যে ভবনগুলো খালি করা হয়েছে। বিমানবন্দর এলাকায় কাউকে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ব্রাসেলসে সন্ত্রাসী হামলার পর পরই ইউরোপের দেশ ফ্রান্স, জার্মানি নেদারল্যান্ডস ও ব্রিটেনের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ব্রাসেলসে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা করেছেন।
মেট্রো স্টেশনে বিস্ফোরণের কিছু পরই সেখানে আগমনকারী রিচার্ড মেডিক বলেন, গোটা ইউরোপ সম্প্রতিক সময়ে যে ধরনের আতংকের মধ্যে অতিবাহিত করছে সেখানে ব্রাসেলসে এই হামলা মোটেই বিস্ময়কর নয়। এর মধ্যে নভেম্বরে প্যারিসে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ক্ষত এখনো শুকায়নি। আইএস ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে।
ব্রাসেলসের বাসিন্দা রিচার্ড বলেন, প্যারিস হামলার পর আমাদের আশংকা ছিল এ ধরনের হামলা হবে এবং আমাদের এই আশঙ্কা ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার। এখন সেটাই ঘটলো।
বিমানবন্দরে ডিপারচার হলে বিস্ফোরণে প্রত্যক্ষদর্শী জেফ ভার্সেল অবশ্য বলেছেন, আমি মনে করি এই হামলার ঘটনায় বেলজীয় নাগরিকদের ভয়ে গর্তে লুকিয়ে পড়া উচিত হবে না বরং এসব সন্ত্রাসীদের ভয়ে যে তারা ভীত নয় এটা প্রমাণের জন্য তাদের বাইরে ভ্রমণ অব্যাহত রাখা উচিত।
ইউরোপের বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা
ব্রাসেলসে একাধিক বিস্ফোরণের পর ইউরোপজুড়ে অন্যান্য দেশগুলোও তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। ফরাসী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ফ্রান্সের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত ১,৬০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই হামলা থেকে এটা বোঝা যাচ্ছে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো কতটা জরুরি। জার্মানি এবং হল্যান্ড তাদের সীমান্তে নিরাপত্তা তল্লাশি জোরদার করেছে।
ব্রিটেনে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সতর্কতা হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে কোবরা কমিটির সাথে বৈঠক করেছেন।
ব্রাসেলসে হামলার পর পরই ফরাসী প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ তার মন্ত্রীদের সাথে জরুরি বৈঠক করেছেন।
ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বলেছেন, সন্ত্রাসীরা আবারও তাদের ঘৃণা আর সহিংসতা দেখিয়েছে। আর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি বলেছেন, ইউরোপের জন্যে আজ অত্যন্ত দুঃখের একটি দিন।
এদিকে ব্রিটেন কর্তৃপক্ষ ব্রাসেলস হামলার পর নিজ দেশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। বিশেষ করে পরিবহন কেন্দ্রগুলোতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড বলেছে, সকল বিমানবন্দর ও অন্যান্য স্পর্শকাতর স্থানসমুহে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। ব্রিটিশ পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, গোটা ব্রিটেনেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জনগণের জানমাল রক্ষায় পুলিশ টহল ও নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে। কর্মকর্তা আরো বলেন, ব্রিটেনে হামলা সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য না থাকলেও ব্রাসেলসে হামলার পর ব্রিটেনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সন্ত্রাসী হামলার পর বেলজিয়ামে সন্ত্রাসী হুমকির মাত্রা ৪-এ উন্নীত করা হয়েছে। এটাই সর্বোচ্চ মাত্রা। এর অর্থ হচ্ছে নিরাপত্তার প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে রাস্তায় নামানো যাবে। রাজধানীর বাইরেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ব্রাসেলস হামলা গোটা বিশ্বকেই নাড়া দিয়েছে। সুদূর আমেরিকায় ওয়াশিংটন মেট্রো কর্তৃপক্ষ বলেছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের টহলও বাড়ানো হয়েছে। ব্রাসেলস হামলার পর পরই এই ঘটনা কিউবা সফররত প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে অবহিত করা হয়।
ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে চলাচলকারী দ্রুতগামী রেলওয়ে ইউরোস্টারের সিডিউলে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। লন্ডন থেকে ব্রাসেলমুখী সার্ভিসও স্থগিত রাখা হয়েছে। ব্রাসেলস থেকে অন্যান্য দেশে যাতায়াতকারী রেল চলাচলও বাতিল করা হয়েছে।
ব্রাসেলসে ন্যাটো জোটের সদর দফতর তার নিজস্ব সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়েছে এবং বেলজিয়ামের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে। ন্যাটোর মহাসচিব বলেন, ‘এটা কাপুরোষিত হামলা, আমাদের মূল্যবোধ ও আমাদের মুক্ত সমাজের উপর হামলা।’ এক বিবৃতিতে মহাসচিব জেন্স স্টলেনবার্গ বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ গণতন্ত্রকে পরাজিত করতে পারবে না এবং আমাদের মুক্তি ও স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করতে পারবে না।’
ব্রিটিশ পুলিশ লন্ডনের হিথরো ও গ্যাটউইক বিমানবন্দরসহ পরিবহন কেন্দ্রগুলো এবং সুনির্দিষ্ট স্থাপনাগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি বৃদ্ধি করেছে। জার্মানি ও হল্যান্ডও তাদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে।
 বেলজিয়াম ক্রাইসিস সেন্টার এক টুইটে জানিয়েছে, শহরের সকল পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে ‘আপনি যেখানেই থাকুন সেখানেই অবস্থান করুন।’
ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, তাদের সকল প্রতিষ্ঠানে অরেঞ্জ লেভেল সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং তাদের সদও দফতরের ভেতরে ও বাইরের সকল বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। তিনি লোকজনকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
ইউরোপের ২৮ জন নেতা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, এটা আমাদের উন্মুক্ত গণতান্ত্রিক সমাজের উপর আঘাত। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বেলজিয়ামের উপর হামলাকে গোটা ইউরোপের উপরই আঘাত বলে অভিহিত করেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুটিন এই হামলাকে বর্বরতা বলে নিন্দা করেছেন।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সালেহ আবদেসালামের ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে যদি এই হামলা চালানো হয়ে থাকে তাহলে এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে যে, সক্রিয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলো যে কোন ধরনের প্রতিশোধমূলক ও ধ্বংসাত্মক হামলা দ্রুত চালাতে সক্ষম।
বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে সম্ভাব্য সন্দেহভাজন তিনজনের ছবি প্রদান করেছে।
বেলজিয়াম হামলার প্রতিক্রিয়ায় সুদূর আমেরিকায় নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, শিকাগো ও লসএঞ্জেলেসের কর্তৃপক্ষ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যাবস্থা গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে বিমানবন্দর ও পাতাল রেলস্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
ইসলামিক স্টেটের দায় স্বীকার
ব্রাসেলস হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট বা আইএস। তারা গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে এ হামলার দায় স্বীকার করে। এর আগে আইএস সমর্থিত আমাক বার্তা সংস্থা এই গ্রুপের পক্ষে দায় স্বীকার করে সংবাদ প্রকাশ করে। আইএসের নিজস্ব মিডিয়া একাউন্টে ইস্যু করা বিবৃতিতে আইএস তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মিত্র দেশগুলোকে আরো খারাপ পরিণতি জন্য অপেক্ষা করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ব্রাসেলসের লক্ষ্যস্থল খুব সতর্কতার সাথে নির্বাচন করা হয় এবং সম্ভবত কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত। তবে বিবৃতিতে বলা হয়নি, কতজন আইএস সদস্য এই অভিযানে সম্পৃক্ত ছিল। এতে দাবি করা হয় যে, ৪০ জনেরও বেশি নিহত এবং ২১০ জনেরও অধিক মানুষ আহত হয়েছে।   
আইসিসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমাক নিউজ এজেন্সি এক বিবৃতিতে বলেছে, আইএস যোদ্ধারা এই হামলা চালিয়েছে কারণ বেলজিয়াম আইএসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক কোয়ালিশনে অংশ নিচ্ছে। বেলজিয়ামের বিমানগুলো ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ইরাকে আইএস অবস্থানে ১৬৩ বার হামলা চালিয়েছে। এবং এখন এই গ্রীস্মে আবার হামলা শুরুর জন্য তৈরি হচ্ছে। আইএস হুঁশিয়ার করে দিয়েছে যে ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।
ব্রাসেলস হামলার পর পরই কর্তৃপক্ষ সেখানে দুইটি পারমাণবিক কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করেছে। পারমানবিক কেন্দ্রগুলো থেকে দ্রুত কর্মীদের সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র বেলজিয়ামের পাশে রয়েছে : ওবামা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারকা ওবামা কর্মকর্তাদের ব্রিফের পর খুব সংক্ষিপ্তভাবে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এই ঘটনা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, বিশ্বকে অবশ্যই ঐক্যবব্ধ হতে হবে। আমাদের অবশ্যই একত্রে থাকতে হবে। আমাদের বন্ধু ও মিত্র বেলজিয়ামকে সমর্থন যোগাতে আমরা সবকিছু করবো। ওবামা বলেন, এই ভয়াবহ হামলার শিকার বেলজীয় জনগনের পাশে আমরা রয়েছি। তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করছি।
ব্রাসেলস-এর হামলা উদ্বেগের, নিন্দা করে ট্যুইট মোদির
ব্রাসেলস বিমানবন্দরে সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দা করে নিহতদের পরিবারবর্গকে শোক, সমবেদনা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী সপ্তাহেই ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্মেলন উপলক্ষে ব্রাসেলস যাওয়ার কথা রয়েছে তার। এর প্রাক্কালেই গতকালের ভয়াবহ ঘটনা, যার প্রতিক্রিয়ায় ট্যুইটে মোদি লিখেছেন, ব্রাসেলস থেকে উদ্বেগজনক খবর এসেছে। এই হামলা নিন্দনীয়। নিহতদের পরিবারবর্গকে সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।
এদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ট্যুইটারে লিখেছেন, ব্রাসেলসে ভারতের রাষ্ট্রদুত মনজীব পুরির সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগ রয়েছে আমার। তিনি আমায় জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত কোনো ভারতীয়ের প্রাণ হারানোর খবর নেই। যদিও জেট এয়ারওয়েজের এক ভারতীয় মহিলা ক্রু সদস্য জখম হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বিমানবন্দর ও রেল স্টেশনে  বিস্ফোরণের পর ভারতের সবগুলো বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ভারতের সবগুলো মেট্রোস্টেশনেও সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র: নিউজ রিপাবলিক, সিএনএন, বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ