Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

ছিনতাইকারীর ছোবলে মায়ের কোলে প্রাণ গেল ৫ মাসের শিশুর

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

এক সন্তানের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে আরেক সন্তানকে হারিয়েছেন শরিয়তপুরের এক মা। রাজধানীর দয়াগঞ্জ এলাকায় ভোরের ফাঁকা রাস্তায় দ্রুতগতিতে চলছিলো রিকশা। মা কোলে আগলে রেখেছিলেন ৫ মাসের শিশু সন্তান আরাফাতকে। হঠাৎ ২-৩ জন ছিনতাইকারী রাস্তায় এসে হেঁচকা টান দিলে মায়ের হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগটিতে। আচমকা টানে চলন্ত রিকশায় মায়ের কোল থেকে পড়ে যায় আরাফাত। গতকাল সোমবার ভোরে গুরুতর আহত হওয়ার পর তৎক্ষণাৎ তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সকাল ৭টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির মায়ের নাম আকলিমা, বাবা শাহ আলম। এই দম্পতির আরও এক সন্তানের নাম আল আমিন (২)। তারা শরীয়তপুর সদরের নরসিংপুরের বাসিন্দা। গতকাল ভোরে লঞ্চযোগে শরীয়তপুর থেকে ঢাকায় আসছিলেন তারা। শিশু সন্তানের মৃত্যুর খবরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নির্ভিক হয়ে যান এই দম্পতি। এ সময় তাদের দেখে উপস্থিত লোকজনের অনেকের চোখে পানি এসে যায়। আকলিমা সাংবাদিকদের বলেন, বড় ছেলে আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তার চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসি। লঞ্চ থেকে নেমেই আল আমিনকে নিয়ে তার বাবা শ্যামলী শিশু হাসপাতালে যায়। অন্য দিকে আমি আরাফাতকে নিয়ে রিকশাযোগে শনির আখড়ায় বোন মাকসুদার বাসায় যাচ্ছিলাম। আমাদের রিকশা দয়াগঞ্জে পৌঁছালে ২-৩ জন ছিনতাইকারী হঠাৎ ভ্যানিটি জোরে টান দেয়। তিনি আহাজারি করতে করতে বলেন, ছিনতাইকারীদের হেঁচকা টানে কোল থেকে আমার আরাফাত পড়ে যায়। তারা আমার ব্যাগ কেড়ে নিয়েছে। আমার কলিজার টুকরাকেও কেড়ে নিয়েছে। আমি এখন কি করবো। কোথায় যাব। কি হবে? ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটিকে ঢামেকে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির মাথা ও মুখে জখম ছিল বলে তিনি জানান। ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নুরুল আমিন জানান, দয়াগঞ্জ রেল লাইনের পূর্ব পাশে এক ছিনতাইকারী টান দিয়ে রিকশাআরোহী আকলিমার ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। চলন্ত রিকশায় ওই হেঁচকা টানে বেসামাল হয়ে পড়েন আকলিমা, তার কোল থেকে পড়ে যায় আরাফাত। শিশুটিকে তখনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়েছিলেন তার মা। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক আরাফাতকে মৃত ঘোষণা করেন। দয়াগঞ্জে ঘটনাস্থলে একাধিক ছিনতাইকারী ছিল বলে তাদের ধারণা। তবে পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, ছিনতাইকারীদের তারা গ্রেফতারের চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কয়েক বছর আগে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় একজন রিক্সাযাত্রী গৃহবধুর ব্যাগ ছিনতাইয়ের সময় তাকে কয়েকশ গজ টেনে হিচড়ে নিয়ে যায় গাড়িতে থাকা ছিনতাইকারীরা। যে ঘটনা সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল।



 

Show all comments
  • মিলন ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৭, ৩:৫০ এএম says : 0
    এর পরেও কী প্রশাসন সজাগ হবে না ?
    Total Reply(0) Reply
  • ইউসুফ ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৭, ৩:৫১ এএম says : 0
    অপরাধীদের গ্রেফতার পুর্বক ফাঁসি দেয়া হোক
    Total Reply(0) Reply
  • Abdul Hamid ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১২:২২ পিএম says : 0
    Amra lojjito. Tumar maeyr kulyo nirapottdity byrto
    Total Reply(0) Reply
  • Daulat Uddin ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১২:২২ পিএম says : 0
    এর চাইতে কষ্টের আর কি হতে পারে?
    Total Reply(0) Reply
  • Md.Afzal Hussain ২০ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১২:৫৭ পিএম says : 0
    বাংলাদেশের ধৃত অপরাধীরা যদি অপরাধ না করার নিশ্চিত শিক্ষা প্রশিক্ষণ শিক্ষকের নিকট থেকে গ্র্রহণ করত বা করার সুযোগ সৃষ্টি করা হত, প্রত্যেক নাগরিকের জন্য নৈতিক অপরাধমুক্ত থাকার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করে তদারকী প্রবর্তন করা হত; দেশে অপরাধীদের সংখ্যা হ্র্রাস পেত । অপরাধী ধরার ঔৎ পেতে থাকা সরকারের একটা বাহিনীকে যদি নাগরিককে শিক্ষা প্রশিক্ষণ দিত তদারকী করত তবে দেশে সুনাগরিক সৃষ্টি হত । আর এইশিক্ষা প্রশিক্ষণের ব্যয় বহনের ট্যাক্স জনগণের উপর আরোপ করত , মানবতা বিরুধী রাষ্ট্রবিরুধী নাগরিক সমাজে সৃষ্টি হত না । ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক মানব আবিস্কৃত শাষণ ব্যবস্থায় ব্যক্তি নিজের উদ্যোগে সুনাগরিক হবে আর সরকার জনগণের ট্যাক্সের টাকায় স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে রাখবে; জনগণকে প্রত্যক্ষভাবে সরকারী বাহিনী দ্বারা শিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ না করে শুধু ভাযণ দিবে আর ধরপাকড় বাহিনীকে জনগণের টাকায় চাকুরী দিয়ে প্রত্যক্ষ শিক্ষা প্রশিক্ষণ দিয়ে অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত করবে এটা অযৌক্তিক প্রকৃতি বিরুধী । মানুষ সৃষ্টি করেই সরাসরী শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে ৷ অপরাধমুক্ত থাকার নির্দেশ দেয়া সত্বেও পাহারাদার না থাকায় মানুষের উপর জারীকৃত নির্দেশ কাযকরী হয় নাই ।বিতাড়িত শয়তান পাহারাদারের অনুপস্থিতিতে অপরাধ করতে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে সফল হয় । এই সত্য মানব জাতির নিকট মুসলমান জাতির মাধ্যামে অবগত করা সত্বেও মুসলমান শাসকরা নাগরিককে প্রত্যক্ষভাবে সরকারের তত্বাবধানে অপরাধমুক্ত থাকার শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও পাহারাদার নিযুক্ত না করে ধরে আর মারে ওজেলে ভরে রাখে ।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ