Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

সু চি ও মিয়ানমারের সামরিক জান্তাপ্রধান গণহত্যার অভিযোগের সম্মুখীন হতে পারেন

আরটি : | প্রকাশের সময় : ২১ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জেইদ রা’দ আল হুসেইন বলেছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের জাতিগত নিধনের ঘটনায় অং সান সু চি ও মিয়ানমারের সামরিক জান্তার প্রধান জেনারেল অং মিন হ্লায়িং ভবিষ্যতে গণহত্যার অভিযোগের সম্মুখীন হতে পারেন। তার বিশ্বাস যে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপর যে বিভীষিকাময় নির্যাতন চালানো হয়েছে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তার যথাযথ তদন্ত করবে।
তিনি বিবিসিকে বলেন, যে মাত্রায় সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে তাতে এটা স্পষ্ট যে এর সিদ্ধান্ত উচ্চ পর্যায়ে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ অভিযানের মাত্রা ভয়াবহ। তারা যে নিষ্ঠুর পন্থা অবলম্বন করেছে তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। আগস্টে শুরু হওয়া মিয়ানমারের সৈন্যদের ভয়াবহ দমন অভিযানে ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত সহিংসতার শিকার হয়ে সমগ্র রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির দু’ তৃতীয়াংশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সাড়ে ৬ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু কক্সবাজারে প্রবেশ করেছে যাদের ৬০ শতাংশই শিশু।
এ মাসের শুরুর দিকে রা’দ আল হুসেইন জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপরে যে ব্যাপক ও পরিকল্পিত উপায়ে নিপীড়ন চালানো হয়েছে সেটাকে গণহত্যা হিসেবেও বিবেচনা করা হতে পারে। তিনি বলেন, সুস্পষ্ট কারণেই কেউ যখন গণহত্যার মতো অপরাধের পরিকল্পনা করে সেটা কাগজে কলমে করে না। এটা প্রমাণ করা কঠিন। তবে আমি অবাক হব না ভবিষ্যতে কোনো আদালত যদি আমরা যা দেখেছি তার উপর ভিত্তি করে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা করে।
তিনি বলেন, এটি গুরুতর কোনো বিষয়ের সূচনা হতে পারে। তিনি এ অঞ্চলের বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যে সম্ভাব্য ধর্মীয় সংঘাত ঘনিয়ে আসার ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দেন।
জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা মনে করেন, ২০১৬ সালের সহিংসতার পর আন্তর্জাতিক স¤প্রদায় যখন কোন পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয় তখনই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সাহস বেড়ে যায়। আমার মনে হয় তখন তারা ধরে নেন যে তারা যেটা করছেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই তারা সেটা অব্যাহত রাখতে পারেন। এ গ্রীষ্মে যে সহিংসতা সংঘটিত হয় তার কয়েক মাস আগেই সে বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কোনো কোনো মহল থেকে মিয়ানমারের নেত্রী সু চির প্রতি ব্যাপক আহবান জানানো হয়েছিল।
হুসেইন ২০১৬ সালে রাখাইনে সংঘটিত সহিংসতার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি এ সামরিক অভিযান বন্ধের জন্য তার কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম। আমি তার আবেগকে নাড়া দেয়ার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু ভীষণ আফসোস যে তাতে ফল হয়নি।
এ বিষয়ে তিনি আন্তর্জাতিক তদন্তের আহবান জানান। তিনি মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে মুসলিম রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর ওপর হামলাকে ‘জঘন্য ও বর্বর’ বলে উল্লেখ করেন। সু চি রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ না করাতেও আল হুসেইন মিয়ানমারের নেত্রীর সমালোচনা করেন। রা’দ আল হুসেইন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, রোহিঙ্গাদের ওপর যে বিভীষিকাময় নির্যাতন চালানো হয়েছে তার জন্যে দায়ী ব্যক্তিদের বিচার একদিন হবেই। মিয়ানমারে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লিও রাখাইনে সহিংসতা শুরুর দু’ সপ্তাহ আগে সংযম অবলম্বনের আবেদন জানিয়েছিলেন। রাখাইনে গোটা গ্রাম আগুনে ভস্মীভূত, ধারাবাহিক ধর্ষণ ও অন্যায় ভাবে হাজার হাজার লোককে হত্যা করা হয়েছে। উপগ্রহের ছবিতেও জাতিগোষ্ঠিগত নিধনের প্রমাণ রয়েছে।
একদিকে সামরিক বাহিনীর উপর অং সান সু চির ক্ষমতা যখন খুবই সামান্য, তখন আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার অগ্রদূতী হিসেবে সেনাবাহিনীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে তাকে যথেষ্ট কর্তৃত্বময়ী হিসেবে দেখা হয়।
মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী সামরিক বাহিনী নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনসহ স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, সীমান্ত বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করে। এদিকে সু চির সন্তানরা বিদেশী নাগরিক বলে তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না।
রোহিঙ্গা সঙ্কট বিষয়ে সু চি’র পদক্ষেপ না নেয়ায় প্রকাশ্যে তার সমালোচনা করেছেন আরেক নোবেল বিজয়িনী মালালা ইউসুফজাই। মালালা টুইটারে বলেন, গত কয়েক বছর ধরে আমি এ বেদনাদায়ক ও লজ্জাকর ঘটনার নিন্দা করেছি। আমি আশা করি, সহ-নোবেল বিজয়ী অং সান সু চিও একই কাজ করবেন। সারা বিশ্ব ও রোহিঙ্গা মুসলিমরা এ জন্য অপেক্ষা করছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন এ পরিস্থিতির নিন্দা করে বলেছেন, মিয়ানমার সামরিক বাহিনী লাখ লাখ পুরুষ, নারী ও শিশুকে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যাবার জন্য উপর ভয়াবহ অত্যাচার চালাচ্ছে।



 

Show all comments
  • মাহফুজ ২১ ডিসেম্বর, ২০১৭, ৩:৪২ এএম says : 2
    সু চি ও মিয়ানমারের সামরিক জান্তাপ্রধানকে গণহত্যার দায়ে ফাঁসি দিতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • Md. Abdur Razzak ২১ ডিসেম্বর, ২০১৭, ৭:৩৪ পিএম says : 0
    সু চি ও মিয়ানমারের সামরিক জান্তাপ্রধানকে গণহত্যার দায়ে ফাঁসি দিতে হবে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মিয়ানমার


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ