Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১০ মাঘ ১৪২৪, ৫ জমাদিউস আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে সিপিইসি মহাসড়ক বাণিজ্যের উন্নয়ন ও সন্ত্রাস হ্রাস করবে

পাকিস্তান ২০৩০ সালে জি২০ ক্লাবের অংশ হবে

| প্রকাশের সময় : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

গ্লোবাল টাইমস : চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) অংশ হিসেবে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে নির্মিত একটি মহাসড়ক বুধবার উদ্বোধন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ মহাসড়ক এ অঞ্চলে বাণিজ্য উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র দূরীকরণের সাথে সাথে লাগামহীন সন্ত্রাস নির্মূলে সাহায্য করবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসি বুধবার মহাসড়কের ৪৭ কিমি অংশ আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন। তিন বছরেরও কম সময়ে এ অংশটি নির্মিত হয়েছে।
সিপিইসি হচ্ছে চীন ও পাকিস্তানকে সংযোগকারী অবকাঠামো আধুনিকায়ন প্রকল্প। এ মহাসড়কটি সিপিইসির গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা পেশাওয়ার থেকে ইসলমাবাদকে যুক্ত করা এম-১ মোটরপথের পর পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয় প্রদেশের দ্বিতীয় মোটরপথ প্রকল্প।
চীনের রেনমিন বিম্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক ইনস্টিটিউটের পরিচালক ওয়াং ইওয়েই গেøাবাল টাইমসকে বলেন, সিপিইসি বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের প্রধান প্রকল্প। চীন আশা করছে যে এ উদ্যোগ চীনের জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলকে ভারত মহাসাগরের সাথে যুক্ত করবে। আর তা শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই জোরদার করবে না, সে সাথে উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করে সন্ত্রাসবাদী, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও উগ্রপন্থী-সংশ্লিষ্ট সমস্যারও কার্যকর মোকাবেলা করবে। তিনি বলেন, দারিদ্র সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থার অনুক‚ল ক্ষেত্র।
ওয়াং বলেন, পাকিস্তানকে ্একটি মাঝারি আয়ের দেশে উন্নীত করতে পাকিস্তান ও গোটা অঞ্চলের জন্য চীনের ব্যাপক মাত্রার উচ্চাভিলাষ রয়েছে।
সাংহাই সমাজ বিজ্ঞান একাডেমির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের রিসার্চ ফেলো হু ঝিয়ং বৃহস্পতিবার গেøাবাল টাইমসকে বলেন, পাকিস্তানে বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের ক্ষেত্রে এ এক বিরাট অর্জন এবং দেশের সামাজিক উন্নয়ন সম্ভাবনার জন্য তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
হু গেøাবাল টাইমসকে বলেন, এ মহাসড়কটি মহাসড়ক বরাবর শহর ও উপত্যকাগুলোর স্থানীয় লাখ লাখ লোককে ব্যয় সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা দেবে। পাকিস্তানকে পাশ্চাত্য ও মধ্য এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে এ এক জরুরি পদক্ষেপ।
সিসিটিভি জানায়, বুধবার মহাসড়ক উদ্বোধনকালে আব্বাসি দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রথম উচ্চমানের মহাসড়ক নির্মাণে সাহায্য করার জন্য চীন সরকার ও চীনা কোম্পানিগুলোকে ধন্যবাদ জানান।
নতুন মহা সড়কটি বিদ্যমান এন৩৫ মহাসড়কের সমান্তরাল করে নির্মিত হয়েছে। এন৩৫ -এ অত্যধিক যানবাহনের চাপে রাস্তাবন্ধ ও নিরাপত্তা সমস্যার শিকার এবং হাসড়কের অবস্থাও ভালো নয়। করাচি-লাহোর মহাসড়কের সংস্কার কাজ দ্রæতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
পাকিস্তানের দি নেশন জানায়, পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার জুনে বলেন যে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাবের ভিত্তিতে দেখা যায়, পাকিস্তান ২০৩০ সালে বিশে^র শীর্ষ অর্থনীতিগুলোর ক্লাব জি-২০-এর অংশ হবে।
ওয়াং বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে চীন পাকিস্তানকে জোর সমর্থন দেবে এবং এ অঞ্চলে পাশ্চাত্যের করা ভুলগুলো সংশোধন করতে ভূমিকা রাখবে যা শান্তি বা উন্নয়ন আনেনি।
তিনি আরো বলেন, এখন আফগানিস্তানকেও সিপিইসি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর তা অংশগ্রহণকারী দেশশুলোর উপর শুধু ইতিবাচক প্রভাবই ফেলবে না, গোটা অঞ্চলের উপরও ফেলবে। শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে পশ্চিম ও মধ্য এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।
হু বলেন, উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা পাকিস্তানে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। যেমন স্থানীয় উপজাতিগুলো ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে বিরোধ।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, স্থানীয় উপজাতিগুলো ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে এটা নিশ্চিত করার প্রতিযোগিতা আছে যে তাদের অঞ্চল দিয়ে যাওয়া সিপিইিসির প্রকল্পগুলো তাদের জন্য কল্যাণকর হবে। এর অর্থ এ নয় যে তারা এ প্রকল্প বা চীনের বিরোধিতা করে।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর