Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

অবৈধ ভিওআইপিতে ব্যবহৃত সন্দেহজনক নম্বর বন্ধের নির্দেশ

প্রকাশের সময় : ২৩ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : কোনো মোবাইল নম্বর অবৈধ ভিওআইপিতে (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) ব্যবহৃত হচ্ছে বলে সন্দেহ হলে তা বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিটিআরসি)। কেবল নিজেদের নম্বরই নয়, অন্য কোনো অপারেটরের নম্বর অবৈধ ভিওআইপিতে ব্যবহৃত হলে তাও বন্ধ করার নির্দেশ দেয় কমিশন। সন্দেহজনক নম্বরগুলো দ্রুতই বিটিআরসি ও সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে জানাতে হবে।
সম্প্রতি এমন নির্দেশনা দিয়ে অপারেটরগুলোকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। এর ফলে এখন থেকে অপারেটরগুলো নিজেদের প্রান্তেই অন্য কোন অপারেটরের নম্বর সন্দেহজনক মনে হলে (অবৈধ ভিওআইপিতে ব্যবহৃত হচেছ) তা বন্ধ করতে পারবে। বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, অবৈধ কল টার্মিনেশন ধরার জন্য সাধারণত দুটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এর একটি হলো মিউচি বা সাইগস ডিটেকশন পদ্ধতি অন্যটি সেল্ফ রেগুলেশন লজিক পদ্ধতি। নীতিমালা অনুযায়ী প্রত্যেক অপারেটর ৩ ঘণ্টা পরপর দিনে ৮ বার সেল্ফ লজিক পদ্ধতিতে অপারেট করবে, যার মাধ্যমে অবৈধ কল টার্মিনেশনের ব্যবহৃত সিমগুলো সনাক্ত করা যায়। আবার সাইগস পদ্ধতিতে কোন সিম অবৈধ কল টার্মিনেশনে ব্যবহৃত হলে সয়ংক্রিয়ভাবেই ধরা পড়বে এবং ব্লক হয়ে যাবে বলে জানানো হয়। এর একটি হলো কোন সিমে প্রতিনিয়তই দিনে দুই ঘণ্টার বেশি কথা হলে তা বন্ধ করে দেয়া হবে। বিটিআরসি’র এক কর্মকর্তা জানান, অবৈধ ভিওআইপি নম্বর বন্ধে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান পদ্ধতিতে অবৈধ ভিওআইপি নম্বর সন্দেহ হলে নিজস্ব নম্বর বন্ধ করে দেয় অপারেটররা। এই নির্দেশনার ফলে অপারেটররা নিজেদের প্রান্তে অন্য অপারেটরদের সন্দেহজনক নম্বরও বন্ধ করে দেবে।
বিটিআরসি’র চিঠিতে বলা হয়, অপারেটররা এ-পার্টি অথবা কলিং পার্টি (যে নম্বর থেকে ফোন আসে) নম্বরগুলো পর্যালোচনা করবে এবং সন্দেহজনক হলে তা অতিসত্বর বন্ধ করতে হবে। সব অপারেটর সন্দেহজনক এসব নম্বর দ্রুত বন্ধ করে কমিশন ও সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে জানাবে। অন্য অপারেটর নেটওয়ার্কে সন্দেহজনক হিসেবে বন্ধ করে দেওয়া কোনো নম্বর প্রকৃতই অবৈধ ভিওআইপিতে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না তা যাচাই-বাছাই করবে যে অপারেটরের নম্বরটি বন্ধ হয়েছে সেই অপারেটর। অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্কে বন্ধ করে দেওয়া কোনো নম্বর যদি যাচাই-বাছাই শেষে দেখা যায় সেটি ‘প্রকৃত গ্রাহকের নম্বর’- তাহলে সংশ্লিষ্ট অপারেটর সেই নম্বর পুনরায় চালু করে দেওয়ার জন্য যে অপারেটরে নম্বরটি বন্ধ করা হয়েছে সেই অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। চিঠিতে বলা হয়, বিটিআরসি’কে অনুলিপিতে রেখে এই যোগাযোগ করতে হবে। যোগাযোগ করার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রকৃত গ্রাহকের নম্বর সংশ্লিষ্ট অপারেটর চালু করে দেবে। আর বন্ধ করে দেওয়া নম্বরটি যদি যাচাই-বাছাইয়ে অবৈধ ভিওআইপি জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে সেটি যে অপারেটরের নম্বর সে অপারেটরকেও বন্ধ করতে হবে। নম্বরটি যদি নিজেদের অপারেটরে বন্ধ না হয়ে থাকে বা তা যদি পুনরায় পর্যালোচনায় শনাক্ত হয় তবে এক্ষেত্রে যে অপারেটরের নম্বর সেই অপারেটরের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, একটি অপারেটর অন্য অপারেটরের কেবলমাত্র ‘নির্দিষ্ট সংখ্যক’ নম্বর ব্লক করতে পারবে। যদি কোনো অপারেটরের কলিং পার্টি নম্বর বন্ধ বা ব্লকের ক্যাপাসিটি পূর্ণ হয়ে যায় তবে সেই অপারেটর র‌্যানডম পদ্ধতিতে আগের ব্লক করা নম্বরগুলো বাতিল করে নতুন নম্বর ব্লক করবে। সম্প্রতি অবৈধ ভিওআইপিতে ব্যবহার করা সিম চিহ্নিত করার তিন ঘণ্টার মধ্যে তা বন্ধ না হলে মোবাইল ফোন অপারেটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন ডাক ও টেলিযোগযোগ সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরী। সরকারি বা বেসরকারি হিসেবে নয়, অপারেটর হিসেবে সকলকেই এক্ষেত্রে সমানভাবে দেখা হবে বলে তিনি জানান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ