Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২২ এপ্রিল ২০১৮, ৯ বৈশাখ ১৪২৫, ০৫ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
শিরোনাম

কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল

| প্রকাশের সময় : ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

 

থার্টিফার্স্ট নাইট ঘিরে ব্যাপক উচ্ছ¡াস
শামসুল হক শারেক, কক্সবাজার ব্যুরো : আজ খ্রীষ্টীয় ২০১৭ সালের শেষ দিন। খ্রীষ্ট ধর্মীয়দের কাছে বছরের শেষ দিনটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ নববর্ষের প্রথম দিনটিও তাদের কাছে গুরুত্বের সাথে বিবেচিত। দেখতে দেখতে শেষ হয়ে গেলো ২০১৭ সাল। খ্রীষ্টী ধর্মের অনুসারীরা বছরের শেষ রাতটিকে বিশেষ সম্ভাষণে বলে থাকেন ‘থার্টি ফাস্ট নাইট’। বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের প্রাক্কালই ‘থার্টি ফাস্ট নাইট’। এই ক্ষণটি উদযাপনের জন্য বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উচ্ছ¡াস চলছে! এ নিয়ে দেশের পর্যটন রাজধানী বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের কক্সবাজারেও ব্যাপক উচ্ছ¡াস শুরু হয়েছে। দেশের পর্যটন রাজধানীতে এই উৎসব উদযাপন করতে এরই মধ্যে ছুটে এসেছে বিপুল সংখ্যক পর্যটক। গত রাতের মধ্যে পর্যটকে কানায় ভরে উঠেছে সৌন্দর্য্যের রাণী কক্সবাজার। কক্সবাজারের পর্যটন সংশ্লিষ্টরাও নিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ‘থার্টি ফাস্ট নাইট’কে ঘিরে কক্সবাজারে বিপুল পর্যটক সমাগম হবে। বর্ষবিদায় ও বর্ষ বরণের এই উচ্ছ¡াসে সপ্তাহজুড়ে কক্সবাজারে পর্যটক আগমন অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে ডিসেম্বরের শেষ পনের দিনে দশ লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম ঘটেছে কক্সবাজারে। পর্যটক বরণে হোটেল-মোটেলসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি হাতে রেখেছে। ‘থার্টি ফাস্ট নাইট’ উপলক্ষ্যে সব বড় হোটেলে নানা ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছে। একই ভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। তবে সবচেয়ে কথা হলো, বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখতে গোধূলী লগ্নে সমুদ্র সৈকতজুড়ে নামবে মানুষের বাঁধভাঙ্গা ঢল।
তথ্য মতে, ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে কক্সবাজারে পর্যটকের আগমণ ব্যাপক হারে বেড়েছে। এসব পর্যটকেরা কক্সবাজারের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে মনের আনন্দ উচ্ছ¡াসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পর্যটকদের বড় আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে কক্সবাজার বিস্তীর্ণ সমূদ্র সৈকত, দীর্ঘ মেরিনড্রাইভ সড়ক, ইনানী, হিমছড়ি, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক, মিয়ানমার সংলগ্ন নাফনদী হয়ে প্রবানদঈপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণ ও সম্প্রতি বিনোদনে যুক্ত হয়েছে কক্সবাজার শহরে ফিসওর্য়াল্ড একুরিয়াম। এছাড়াও এখন সৈকত জোনে চলছে শিল্প ও বাণিজ্য মেলা।
সৈকতে গিয়ে দেখা গেছে, শহরের কলাতলী থেকে ডায়াবেটিক পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সৈকতজুড়ে মানুষ আর মানুষ। আবাল বৃদ্ধ-বণিতার ভীড়ে সৈকতে হাঁটাও যেন দুষ্কর। বেড়াতে আসা পর্যটকদের মধ্যে কেউ কেউ সৈকতে হাঁটছেন, কেউবা চেয়ারে বসে গল্পের ফাঁকে সাগরের লবনাক্ত হাওয়া উপভোগ করছেন। আবার কেউ কেউ শীতের মাঝেও সাগরে গোসলে মত্ত। অনেকেই বীচ ও ওয়াটার বাইকে চড়ে উপভোগ করছেন ঢেউয়ের নাচন।
হোটেল সীগালের জিএম রুমী জানান, পরিবেশ ভাল থাকলে প্রতিবছরই এই সময়ে কক্সাবজারে পর্যটকের ভিড় থাকে। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘শহরের আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, কটেজ ও সরকারি রেস্ট হাউসে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার মানুষের রাত যাপনের সুবিধা রয়েছে। গত কিছুদিন ধরে বিপুল পরিমাণ পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। ‘থার্টি ফাস্ট নাইট’ ঘিরে আরো পর্যটক বাড়ছে।’
তবে অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজারে পর্যটকদের ভীড়কে পুঁজি করে এক শ্রেণির হোটেল মালিক ও কক্ষ দালাল গলাকাটা ব্যবসা করছে। কিছু কিছু হোটেলে ভাড়ার নির্ধারিত তালিকা না থাকায় আসল ভাড়ার ৩-৪ গুণ হারে ভাড়া নিচ্ছে ওয়াকিং পর্যটকদের কাছ থেকে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, পর্যটক হয়রানি বন্ধে হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁয় মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশনা দেয়া আছে। পূর্বের সময়ের চেয়েও পর্যটক সেবার প্রতি বাড়তি নজর দিচ্ছে প্রশাসন। সার্বক্ষণিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পর্যটন এলাকায় টহলে রয়েছে।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এইচএম রায়হান কাজেমী জানান, পর্যটক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা সতর্ক রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন স্পটসমূহে নিয়মের চেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার সৈকতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলে পর্যটকদের রাতদিন ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা বিধান করছে পুলিশ।
থার্টিফাস্ট নাইটকে কেন্দ্র করে কোন ধরণের অশ্লীলতা এবং বিশৃঙ্খলা যেন হতে না পারে সেবিষয়ে ব্যাপক কড়াকড়ি করা হয়েছে সৈকত এলাকায়।

 

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর