Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

খালেদা জিয়ার শোডাউন মির্জা ফখরুলের ওপর হামলা

চট্টগ্রামের রাজনীতিতে আলোচিত....

র ফি কু ল ই স লা ম সে লি ম | প্রকাশের সময় : ১ জানুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যরকম শোডাউন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহরে হামলা, আওয়ামী লীগের নেতা সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ইন্তেকাল এবং তার কুলখানির মেজবানে পদদলিত হয়ে দশজনের মৃত্যু ছিল চট্টগ্রামের রাজনীতিতে আলোচিত ঘটনা। গেল বছর বড় দুই দলেই চলেছে ঘর গোছানোর কাজ। দলকে শক্তিশালী করে ভোটের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে নানা কর্মসূচি পালন করে আওয়ামী লীগ-বিএনপি। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলায় প্রতিনিধি সভা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। একযুগের বেশি সময় পার নতুন কমিটি পায় নগর বিএনপি। তৃণমূলকে চাঙ্গা করতে বিএনপিও তিন সাংগঠনিক জেলায় প্রতিনিধি সভা করে। তিন জেলায় কেন্দ্রিয় নেতাদের সফরকে ঘিরে তিনটি কর্মীসমাবেশ করারও প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।
চিকিৎসার জন্য দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থানের পর দেশে ফিরেই নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন আর তাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের জন্য কক্সবাজার যান বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ঢাকা থেকে সড়ক পথে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারের আসা-যাওয়ার পথে তার গাড়ি বহর ঘিরে স্বতঃস্ফূর্ত জনতার ঢল নামে। ২৮ অক্টোবর থেকে পহেলা নভেম্বর টানা পাঁচদিন তার সফরকালে তিনি যে পথে গেছেন সেপথে ছিলো জনতার বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ¡াস। তার এই ব্যতিক্রমী সফরে দীর্ঘদিন পর দলের নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়ে উঠে। মানবিক এই কর্মসূচিকে ঘিরে অনেকটা নীরবেই এই অঞ্চলে গণসংযোগ করে যান বেগম খালেদা জিয়া। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসা ও যাওয়ার পথে ফেনীতে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটলেও তার সফরের বাকিটা ছিল শান্তিপূর্ণ। খালেদা জিয়ার এই সফরে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ করে এক ভিন্নমাত্রা।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাও ছিলো আলোচিত। ইতিহাসের রেকর্ড ভারী বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড় ধসে বিধস্ত হয় রাঙামাটি। পাহাড় ধসে রাঙ্গামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় প্রায় পৌনে দুইশ’ মানুষের মৃত্যু হয়। রাঙামাটির দুর্গতদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতে চট্টগ্রাম থেকে সড়ক পথে রাঙামাটি যাচ্ছিলেন তিনি। গত ১৮ জুন গাড়িবহর চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছানগর গোছরা বাজারে পৌঁছতেই তাতে হামলা করে সন্ত্রাসীরা। এই হামলায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগীর ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী রক্তাক্ত জখম হন। ওই দুই নেতা ছাড়াও হামলায় আহত হন বিএনপির কেন্দ্রিয় ৫ নেতা। বিএনপি এই হামলার জন্য সরকারী দলের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে দায়ী করে। মির্জা ফখরুলের মতো একজন জাতীয় নেতার মানবিক একটি কর্মসূচিতে এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দেশব্যাপী নিন্দার ঝড় উঠে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সরকারী দলের সিনিয়র মন্ত্রীদের অনেকে হামলার নিন্দা জানান এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার কথা বলেন। পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হকও হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন। তবে কিছুদিন পর সবকিছু পাল্টে যায়। হামলাকারী হামলার ছবিসহ ফেসবুকে নানা পোস্ট দেয়, বিভিন্ন মিডিয়ায় হামলাকারীদের ছবিও প্রকাশিত হয়। এরপরও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বাদী হয়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাদের নাম উল্লেখ করে আদালতে দ্রæত বিচার আইনে মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইকে নির্দেশ দেন। আটবার সময় নিয়েও পিবিআই মামলার তদন্ত শেষ করতে পারেনি।
সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপি উভয়ে আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দল গোছাতে ব্যস্ত ছিলো বছরজুড়ে। আওয়ামী লীগে গৃহবিবাধ মেটাতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রিয় নেতারা দফায় দফায় চট্টগ্রাম সফর করেন। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলায় প্রতিনিধি সভা হয়। সদস্য সংগ্রহ অভিযানও হয় তিন সাংগঠনিক জেলায়। দীর্ঘ প্রায় একযুগ পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি। ডা. শাহাদাত হোসেন ও আবুল হাশেম বক্করের নেতৃত্বে তারুণ্যনির্ভর এই কমিটি তৃণমূলে দল গোছানোর কাজ করে যাচ্ছে। কেন্দ্রিয় নেতাদের উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলায় প্রতিনিধি সভা করে বিএনপি। প্রতিনিধি সভায় বিশৃঙ্খলাকে কেন্দ্র করে উত্তর জেলার আহŸায়ক কমিটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী ও দক্ষিণ জেলার সেক্রেটারি গাজি শাহজাহান জুয়েলকে দলকে মে মাসে বহিষ্কার করা হলেও বছরে শেষ দিকে ফের সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
গেল ১৫ ডিসেম্বর ভোরে নগরীর মেহেদী বাগের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক তিনবারের মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর। চট্টল বীরের ইন্তেকালে অভিভাবক হারানোর শোকে আচ্ছন্ন হয় সমগ্র চট্টগ্রাম। ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে তার নামাজে জানাজায় লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে। তার ইন্তেকালে তিনদিনের শোক কর্মসূচির মধ্যেই তার কুলখানির মেজবানে ঘটে আরেক শোকাবহ ঘটনা। নগরীর রীমা কনভেনশান সেন্টারে পদদলিত হয়ে প্রাণ হারান দশজন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।