Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১১ মাঘ ১৪২৪, ৬ জমাদিউস আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

পুকুর খননে ঝুঁকিতে মসজিদ ও সড়ক

| প্রকাশের সময় : ৩ জানুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম | আপডেট : ৯:৩৬ পিএম, ২ জানুয়ারি, ২০১৮

জয়পুরহাট জেলা সংবাদদাতা : জয়পুরহাট আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের আলী মাহমুদপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের মধ্যে একটি পুকুর খনন করা হচ্ছে। এতে করে ঝুঁকিতে রয়েছে পুকুরের উপর আলী মাহমুদপুর জামে মসজিদ ও ওই গ্রামের এক মাত্র চলাচলের রাস্তা। জানা যায়,উপজেলার আলী মাহমুদপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের গফুর আকন্দ নামে এক ব্যাক্তি। তিনি পুকুরের মাটি গোপীনাথপুরে নির্মিত ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি ভবনের মাঠ ভরাটের কাজে মাটি দেয়ার বিনিময়ে ওই পুকুর খনন করছে। তিনি ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ জোয়ারদারের সাথে যোগসাজশ করে পুকুর খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে প্রায় দুই বিঘা জমিটির চার ভাগের তিন ভাগ মাটি তুলে নেয়া হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, ইঞ্জিনচালিত এক্সকেভেটর দিয়ে পুকুর থেকে মাটি উত্তোলন চলছে। একের পর এক ট্রাকে করে মাটি অন্যত্র নেয়া হচ্ছে। উত্তোলিত মাটি পাশের ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি ভবনের মাঠ ভরাট করা হচ্ছে। ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি ভবনের কাজে নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিক মাটি কাটার পুরো প্রক্রিয়া তদারক করছেন। তারা জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ জোয়ারদার বিষয়টি তদারকি করছে। যোগাযোগ করা হলে আলী মাহমুদপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের গফুর আকন্দ বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সমঝোতা করেই তিনি মাটি কাটছেন। এ বিষয়ে একটি মৌখিক চুক্তিও হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, পুকুর খননে যে টাকা ব্যায় হবে তা আমাকে দিতে হবে না। বিনিময়ে পুকুরের মাটি সব চেয়ারম্যান নিয়ে যাবেন। আমাকে আর কোনো টাকা খরচ করতে হবে না।
ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ জোয়ারদার বলেন, একটি মহৎ উদ্দেশ্য সামনে রেখে পুকুর খননের মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এলাকার মানুষ যদি মাটি না দেয় তাহলে আইএইচটি ভবনের মাঠ কিভাবে ভরাট করা যাবে। আর জমির মালিক যদি তার জমিতে পুকুর খনন করে তাহলে অসুবিধা কোথায়। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে বলা আছে, সেতু, কালভার্ট, সড়ক-মহাসড়ক, রেলপথসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকার এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু ও মাটি উত্তোলন করা যাবে না। অথচ, যে পুকুর থেকে মাটি তোলা হচ্ছে, তার সাথেই লাগানো গ্রামের লোকজনের চলাচলের জন্য রাস্তা ও মসজিদ রয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করায় বিশেষ করে গ্রামের মসজিদ, রাস্তা ও পাশের জমির জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) তাহমিনা রহমান বলেন, আমি ঘটনাস্থলে অফিসের লোক পাঠাচ্ছি বিষয়টি খোঁজ নেয়ার জন্য।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।