Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫, ০৫ সফর ১৪৪০ হিজরী

কর্মক্ষেত্র ছেড়ে রাজপথে পেশাজীবীরা

বিভিন্ন দাবিতে সোচ্চার ১৭ সংগঠন

| প্রকাশের সময় : ৪ জানুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

বিশেষ সংবাদদাতা : সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে বিভিন্ন দাবিতে সোচ্চার হয়েছে বিভিন্ন পেশার ১৭টি সংগঠন। বকেয়া মজুরিসহ ১১ দফা দাবি আদায়ে সাথে যুক্ত হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত¡ পাটকল শ্রমিকেরা। পাইপলাইনে আছে নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের চাকরি বঞ্চনা, স্কুল-কলেজ জাতীয়করণ এবং বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্টসহ ডজনখানেক সংগঠনের দাবি আদায়ের আন্দোলন। দাবি-দাওয়া আদায়ে কোনো কোনো সংগঠন রাস্তায় নেমে এসেছে। পালন করছে ধর্মঘট ও কর্মবিরতি। এমপিওভুক্তির দাবিতে আমরণ অনশন অব্যাহত রেখেছে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন। অনেকে দাবি-দাওয়া নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার যথেষ্ঠ সোচ্চার। তবে এখনও পর্যন্ত আসেনি ইতিবাচক কোনো ফল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের দাবি-দাওয়ার আন্দোলন ততই বাড়বে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারি যখনই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান হোক তার আগ পর্যন্ত নানা কৌশলে বেতন বাড়ানো, চাকরি স্থায়ীকরণ, এমপিওভুক্তিসহ নানা সমস্যা তুলে ধরে দাবি আদায়ে পেশাজীবীরা আন্দোলন করবে। এছাড়াও এলাকার নানা সমস্যা ও অন্যান্য বিষয়ভিত্তিক আন্দোলনও বাড়তে পারে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্টদের ধারনা, আবার ক্ষমতায় আসার জন্য সরকার দাবি পূরণে অন্য সময়ের তুলনায় এই সময়ে যথেষ্ট নমনীয় থাকে। আর তাই সহজে এবং কম সময়ে দাবি পূরণ হয়। এভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিভিন্ন আন্দোলন অতীতেও হওয়ার নজির রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছর অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় পেশাজীবীদের আন্দোলন কিছুটা বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পেশাজীবীদের আন্দোলন নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের আশঙ্কা সরকারকে অস্থিতিশীল এবং দুর্বল করতেই এসব আন্দোলন করা হচ্ছে। এর পেছনে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র আছে। তাদের ধারনা, পেশাজীবীদের আন্দোলনে ফায়দা লুটতে পারে সরকারবিরোধীসহ স্বার্থান্বেষী মহল।
বিএনপিসহ সরকারবিরোধীরা এই মুহূর্তে অনেকটাই নিস্ক্রিয়। তবে সরকারের মেয়াদের শেষ বছরের শুরুতেই রাজপথে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিভিন্ন পেশাজীবী ও শ্রমিক সংগঠন। বিভিন্ন ইস্যুত তাদের দাবি আদায়ের চাপে রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। বেতন বৈষম্য দূর ও গ্রেড পরিবর্তনের দাবিতে বেশ কয়েকদিন আন্দোলনের মাঠে ছিলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। তাদের কর্মসূচি শেষ না হতেই মাঠে নামে এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন। ইতোমধ্যে এমপিওভুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ নিয়ে আশ্বাস দিলেও আন্দোলনের মাঠ থেকে তারা সরে দাঁড়াননি। বরং অনশনরত অবস্থায় প্রতিদিনই অসুস্থ শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ছে।
নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পাশাপাশি জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন করছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি। প্রায় অভিন্ন দাবিতে মাঠে রয়েছে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম। সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা, পেনশনসহ সব সরকারি সুযোগ-সুবিধার দাবিতে এখনও আন্দোলনে রয়েছে বাংলাদেশ পৌরসভা কর্মকর্তা-কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন। একইভাবে আন্দোলনে রয়েছে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ সেক্রেটারি সমিতি এবং বাংলাদেশ গ্রামপুলিশ কর্মচারী ইউনিয়ন। পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি চাকরি জাতীয়করণ ও ১৪তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ। জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনে রয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি), হেলথ টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, স্বাস্থ্য বিভাগীয় মাঠ কর্মচারী সমিতি এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চুক্তিভিত্তিক মিটার রিডার মেসেঞ্জার ঐক্য পরিষদ। ইতোমধ্যে চার দফা দাবিতে স্বাস্থ্য সহকারীদের লাগাতার ধর্মঘট কর্মসূচি দু’দিনের মাথায় স্থগিত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকালে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে বৈঠকের পর তারা কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তারাও (পিও) ১০ম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে উন্নীতকরণসহ সচিবালয় ভাতার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে। দাবি-দাওয়া জানাতে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়ে বাংলাদেশ সচিবালয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) লিয়াজোঁ কমিটিসহ বাংলাদেশ সচিবালয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতারা আবেদন করেছেন। সাক্ষাতের পর প্রয়োজনে তারাও আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। এছাড়া আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগ প্রথা বাতিল, পেনশন আগের মতো বহাল, যোগ্যতা অনুযায়ী পদোন্নতি ও ৫০ শতাংশ পোষ্য কোটা চালুর দাবিতে আন্দোলনে রয়েছে বাংলাদেশ চতুর্থ শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতি (১৬-২০তম গ্রেড)। এর সঙ্গে ৬০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা, রেশন প্রদান, পদোন্নতিসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনে রয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ। পাশাপাশি বকেয়া মজুরি প্রদানসহ ১১ দফা দাবিতে খুলনার ৯টি পাটকলসহ দেশের সব রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করছেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের ডাকে এ ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। দাবি আদায় না হলে ৫ জানুয়ারি ঢাকায় বৈঠক করে পরবর্তী সময়ে নতুন কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে নেতারা জানিয়েছেন।
আন্দোলনকারী বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের ভাষায়, বছরের পর বছর তাদের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এখন আকাশছোঁয়া। সারা জীবন একই পদে কাজ করে অবসরে যেতে হয়। আর এর প্রতিকার চাইলেই সেখানে সরকারবিরোধী আখ্যা দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করে দেয়া হয়। আন্দোলনরত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, বহুদিন ধরে আমাদের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে। যখনই ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামি, তখনই এসব সরকারবিরোধী তকমা দিয়ে আন্দোলন ভন্ডুল করে দেয়া হয়। তিনি বলেন, আমরা যারা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছি, তাদের প্রায় সবাই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী। বাংলাদেশ চতুর্থ শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েম খান বলেন, এটা আমাদের অস্তিত্বের বিষয়। আমাদের চাকরির সুযোগ না বাড়িয়ে চুক্তি ভিত্তিতে লোকবল নিয়োগ করবে, তা তো হতে পারে না। বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ সেক্রেটারি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান উপদেষ্টা আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আমাদের দাবির সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক মতলব নেই। আমাদের চাকরি জাতীয়করণ করতে হবে। এটা আমাদের অধিকার।
পেশাজীবীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তত্ত¡াবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, অতীতেও এ ধরনের নজির রয়েছে। সবাই চায় মেয়াদের শেষ সময়ে সরকারের ওপর আন্দোলনের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে সুযোগ-সুবিধা আদায় করতে। সরকারও ভোটের জন্য ব্যস্ত। ফলে সরকারের দিক থেকেও ক্ষেত্রবিশেষ তেমন কোনো যাচাই-বাছাই বা গুণগত মান না দেখেই ভোটের প্রতি দৃষ্টি রেখে অনেক দাবি মেনে নেয়।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাটকলে ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট পালিত
আইয়ুব আলী, চট্টগ্রাম ব্যুরো থেকে জানান, সোনালী আঁশ খ্যাত পাটখাতের অবহেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। বর্তমানে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাটকলগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। শ্রমিক-কর্মচারীরা দিনরাত পরিশ্রম করে পণ্য উৎপাদন করলেও ন্যায্য মজুরি পাচ্ছেন না। চাকুরিচ্যুত হয়ে হাজার হাজার শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জানা গেছে, গত তিন মাস ধরে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জুট মিলসহ অন্যান্য মিলগুলোর উৎপাদিত পণ্য বাবদ অর্থ বিজেএমসি পরিশোধ করছে না। বিজেএমসি থেকে অর্থ না পাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে পাটকল কর্তৃপক্ষ শ্রমিক- কর্মচারীদের মজুরি ও বেতন পরিশোধ করছে না। মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, শ্রমিকদের ৮ সপ্তাহের মজুরি বাকি রাখা হয়েছে। কর্মচারীদের কয়েক মাসের বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে না। এছাড়া গ্রাচ্যুইটি প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ শ্রমিক-কর্মচারীদের অন্যান্য ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করছে না বিজেএমসি। শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য সরকারের ঘোষণাকৃত মজুরি কমিশনের কার্যক্রমও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এভাবে নানা সঙ্কটের মুখে পড়েছে মিলগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীরা। অভাবে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
এদিকে রফতানিকৃত পণ্য বাবদ অর্থ সময়মতো পাটকলগুলোতে বুঝে না দেয়ায় বিজেএমসির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে মিলগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীরা। সাধারণ পাটকলগুলো উৎপাদন করলেও বিক্রয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে বিজেএমসি। মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে গতকাল (বুধবার) ভোর ৬টা পর্যন্ত বকেয়াসহ বিভিন্ন পাওনার দাবিতে ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করে ৭ পাটকলের শ্রমিক-কর্মচারীরা। আমিন জুট মিলস, হাফিজ জুট মিলস, গুল আহমদ জুট মিলস, বাগদাদ ঢাকা কার্পেট ফ্যাক্টরী, কর্ণফুলী জুট মিলস, ফোরাত কর্ণফুলী কার্পেট ফ্যাক্টরী, এম এম জুট ও আর আর জুট মিলে ধর্মঘটের কারণে পণ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়। চট্টগ্রামের মিলগুলো সাধারণত হেসিয়ান কাপড়, ব্যাগ, সিবিসিসহ বিভিন্ন পাটজাত পণ্য উৎপাদন করে থাকে। পরে উৎপাদিন পণ্য দেশি ও বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা অনুসারে বিক্রয় কার্যক্রম চালায় বিজেএমসি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাটকলগুলোতে উৎপাদিন পণ্য স্থানীয়ভাবে বিক্রয় কার্যক্রম বিজেএমসি নিয়ন্ত্রণ করলেও অর্থ লেনদেন সাধারণত সংশ্লিষ্ট পাটকলটির ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। এতে পরবর্তীতে সে হিসাব থেকেই শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরিসহ অন্যান্য ব্যয় সম্পন্ন হয়ে থাকে। তবে বাইরে রফতানিযোগ্য পণ্যের অর্থ লেনদেন কার্যক্রম বিজেএমসির নিজস্ব হিসেবে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। বাইরের ক্রেতারা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে পণ্য বাবদ অর্থ বিজেএমসির হিসাবে জমা দেন। পরে বিজেএমসি সংশ্লিষ্ট পাটকলগুলোর উৎপাদিত রফতানিকৃত পণ্য বাবদ যাবতীয় অর্থ পরিশোধ করে। সাধারণত পাটকলগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের বেশিরভাগই রফতানি হয়ে থাকে।
পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ সমন্বয় পরিষদের সদস্য সচিব ও হাফিজ জুট মিল সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী ইনকিলাবকে জানান, এক সপ্তাহ আগে একই দাবিতে আমিন জুট মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছিল। তবে ৭ পাটকলে শ্রমিক-কর্মচারীদের ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শ্রমিকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মিলগুলোতে উৎপাদন অব্যাহত রাখলেও তারা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে বকেয়া সময়মতো পরিশোধের ব্যাপারে কয়েক দফা সমঝোতা চুক্তি হলেও সেসব চুক্তি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি বলেন, আগামী ৫ জানুয়ারি ঢাকায় বিভিন্ন মিলের শ্রমিক নেতৃবৃন্দের যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আগামীতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর