Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১১ মাঘ ১৪২৪, ৬ জমাদিউস আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

চার মন্ত্রীর দফতর বদল

| প্রকাশের সময় : ৪ জানুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য হিসেবে যোগ দেয়া তিনজন এবং পদোন্নতি পাওয়া একজনের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে চারজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দফতর পরিবর্তন করা হয়েছে। সরকারের শেষ সময়ে এসে মন্ত্রিপরিষদে নতুন করে চারজনের অন্তর্ভুক্তির পর নয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দফতরনতুন করে বণ্টন ও পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬-এর রুল ৩(ঘ)-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন ও পুনর্বণ্টন করেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে রাশেদ খান মেননকে দেয়া হয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
যাদের দফতর পাল্টেছে
নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব দেয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাল্টেছে। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এখন থেকে চালাবেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহসিন আলীর মৃত্যুর পর থেকে পদটি ফাঁকা ছিল। গত সোয়া দুই বছর ধরে প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এই মন্ত্রণালয় চালে আসছিলেন এতদিন। তাকে একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তার প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। দফতর বদল করা হয়েছে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর। জাতীয় পার্টির নেতা ব্যাস্টিার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এখন থেকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় চালাবেন। আর আনোয়ার হোসেন মঞ্জু চালাবেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমেরও দায়িত্ব বদল হয়েছে। তাকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। এই মন্ত্রণালয়ে এতদিন কোনো প্রতিমন্ত্রী ছিলেন না। জাসদ একাংশের সভাপতি হাসানুল হক ইনু গত চার বছর ধরে এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন সচিব শফিউল আলম। এ সরকারের শুরু থেকে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তাকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে পাঠিয়ে বিমান ও পর্যটনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালকে। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি এ সরকারের মন্ত্রিসভা গঠনের সময় জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পরিবেশ ও বন এবং জাতীয় পার্টির (এরশাদের) প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এবার তাদের দু’জনের দায়িত্ব পাল্টে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ পরিবেশে এবং মঞ্জু পানিসম্পদের দায়িত্বে এসেছেন। মন্ত্রী হিসেবে নতুন শপথ নেওয়া মোস্তাফা জব্বার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন, যা অনেকটা অনুমিতই ছিল। হজ নিয়ে মন্তব্যের কারণে ২০১৪ সালের অক্টোবরে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী মন্ত্রিত্ব হারানোর পর খালিই ছিল এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পদটি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা নারায়ন চন্দ্র চন্দ পদোন্নতি পাওয়ার পর ওই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে আসা মুহাম্মদ ছায়েদুল হক মারা গেলে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পদটি শূন্য হয়। সরকারের দেড় বছরের মাথায় ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন তারানা হালিম। তাকে এবার পাঠানো হয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়ে। আর নতুন প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী পেয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগের দায়িত্ব। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী এবং প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন মারা গেলে ২০১৬ সালের ১৯ জুন প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদকে সমাজকল্যাণে পাঠানো হয়। এবার তিনি মন্ত্রী হিসেবে পেলেন রাশেদ খান মেননকে। নারায়ন চন্দ্র চন্দ, মোস্তাফা জব্বার, শাহজাহান কামাল ও কেরামত আলী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের কাছে শপথ নেন।
তিন দফা মন্ত্রিসভায় রদবদল
২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা টানা দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ গ্রহণের পর এখন পর্যন্ত সরকারে নতুন মুখ বা দফতরপরিবর্তন হলো চার দফা। এর আগে আরও তিন দফা রদবদল হয়। ২০১৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি এইচ মাহমুদ আলীকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নজরুল ইসলামকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। এর প্রায় দেড় বছর পর ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই মন্ত্রিসভায় যোগ হয় নতুন পাঁচ মুখ। প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হন একজন। সেদিন আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তিনি তার আগের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েই দায়িত্ব পালন করছেন। একই দিন মন্ত্রী হিসেবে আরও শপথ নেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারানা হালিম (ডাক ও টেলিযোগাযোগ) এবং নুরুজ্জামান আহমেদ (খাদ্য)। এরপর মন্ত্রিসভায় আরও একটি রদবদল হয়। সেটি চমকের তৈরি করে দেশজুড়ে। ২০১৫ সালের ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে সৈয়দ আশরাফকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। একই দিন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বদলে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে। এক সপ্তাহ পর সৈয়দ আশরাফ পান তার নতুন মন্ত্রণালয় জনপ্রশাসন।

 


Show all comments
  • গোলাম ফারুক ৪ জানুয়ারি, ২০১৮, ১:১৫ এএম says : 0
    অনেক কিছু তো হলো এবার ফলাফল কী আসে সেটাই দেখার পালা
    Total Reply(0) Reply
  • তামান্না ৪ জানুয়ারি, ২০১৮, ১:০৭ পিএম says : 0
    আশা করি এবার তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন।
    Total Reply(0) Reply
  • আল আমিন ৪ জানুয়ারি, ২০১৮, ১:০৯ পিএম says : 0
    এই শেষ সময়ে এসে এসবের কী খুব দরকার ছিলো
    Total Reply(0) Reply
  • আবির ৪ জানুয়ারি, ২০১৮, ১:১০ পিএম says : 0
    নতুন এবং পরিবর্তিত সকলের জন্য রইলো শুভ কামনা।
    Total Reply(0) Reply
  • শরীফুল ইসলাম ৪ জানুয়ারি, ২০১৮, ১:১১ পিএম says : 0
    সকলকে এবার তাদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর