Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী

পাচার রোধে ইলিশ রফতানির সিদ্ধান্ত

সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

| প্রকাশের সময় : ৯ জানুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : ইলিশ মাছ পাচার ঠেকাতে বৈধভাবে রফতানির সুযোগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর গতকাল সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আমরা রফতানির দিকে যেতে চাচ্ছি এই কারণেও যে, আমাদের ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারেও চাহিদা রয়েছে। সে জন্য আমরা কিছুটা রফতানি করতে চাই। এ ছাড়া দেশে পর্যান্ত সংখ্যক গরু উৎপাদন হওয়ায় বিদেশ থেকে আপাতত আর আমদানির পরিকল্পনা নেই বলে জানান প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।
২০১২ সালের ১ অগাস্ট থেকে ইলিশসহ সব মাছ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরে ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ইলিশ ছাড়া অন্য সব মাছ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। নারায়ণ বলেন, সরকার ইলিশ মাছ রফতানি বন্ধ রাখলেও অবৈধভাবে তা পাচার হচ্ছে। এতে রাজস্ব থেকে সরকার বঞ্চিত হয়। আমরা যদি রফতানি করি, তাহলে ওপেন পথটা করে দেয়া যায়, গোপনে যাওয়ার পথটা তখন অনেকটা সঙ্কুচিত হয়ে যায়। মন্ত্রী বলেন, বড় আকারের ইলিশ মাছ গোপনে পাচার হওয়ায় দেশের বাজারে বড় ইলিশ কম পাওয়া যায়। বড় মাছ বাজারে আনতে হলে গোপন পথটি বন্ধ করতে হবে, আমাদের সদর পথটি চালু করতে হবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, রফতানি হলেও মা ইলিশ সংরক্ষণে গত কয়েক বছর ধরে সরকার যে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে, তা অব্যাহত থাকবে। আমরা ডিম ছাড়ার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছি, জাটকা নিধন বন্ধ রাখার প্রকল্প চলবে। ইলিশ মাছের বিচরণ ক্ষেত্রগুলোও সংরক্ষিত রাখা হবে। উপক‚লীয় অঞ্চলের জেলেদের দাদনের হাত থেকে রক্ষায় তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে একটি প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। গভীর সমুদ্র থেকে মাছ আহরণ করতে গবেষণা চলছে। মন্ত্রী বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৩ দশমিক ৯৫ লাখ টন। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল পাঁচ লাখ টন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যায়, তার ১১ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। দেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান ১ শতাংশের মতো। পদ্মার ইলিশের এখন দুর্দিন। বড় আকারের দুটি মাছ তাই এই জেলের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। সা¤প্রতিক সময়ে ভারত, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ায়, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডে ইলিশের বিভিন্ন প্রজাতির বিচরণ কমলেও সরকারের বিভিন্ন সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপে বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে। মন্ত্রী জানান, মৎস্য অধিদফতরের আবেদনে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর গতবছর ইলিশকে বাংলাদেশের ভৌগলিক নির্দেশক (জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেশন) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন দিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ইলিশের ব্র্যান্ডিং ও শনাক্তকরণ সহজ হবে। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে দেশে দুধের ঘাটতিও পূরণ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আমরা পুষ্টি চাহিদা পূরণে মৎস্য ও প্রাণিজ আমিষ, দুধ, ডিমসহ সকল ক্ষেত্রে অতিদ্রুত স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে চাই। মাংসের দাম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম কম। চেষ্টা করছি অন্যগুলো (মাংসের দাম) নিয়ন্ত্রণে আনতে। উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হয়। এই খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দাম কমবে। নারায়ণ চন্দ্র বলেন, একদিনের মুরগির বাচ্চা কেনাবেচায় সিন্ডিকেট ভাঙতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ বলেন, দেশে পর্যান্ত সংখ্যক গরু উৎপাদন হওয়ায় বিদেশ থেকে আপাতত আর আমদানির পরিকল্পনা নেই। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, আমাদের দেশীয় উৎপাদন যদি চাহিদা মেটাতে পারে তাহলে বিদেশ থেকে কেন (গরু) আমদানি করব? আমদানি হলে খামারিরা মার খাবে, সেটা নিশ্চয়ই করব না। বাইরে থেকে আনার কোনো প্রয়োজন নেই। বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে, তিনিও বলেছেন এখন (গরু) আমদানির অনুমতি দেয়া হবে না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মাকসুদুল হাসান খান ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইলিশ

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ