Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৮, ০৯ মাঘ ১৪২৪, ৪ জমাদিউস আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

ইসলামে বিধবা নারীর মর্যাদা ও অধিকার

| প্রকাশের সময় : ১২ জানুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান
শেষ
শুরুতে ৪.০৩ লক্ষ জনকে মাসিক ১০০ টাকা হারে বিধবা ভাতা প্রদান করা হয়। আর বর্তমানে ১০১২.০০ লক্ষ জন বিধবাকে মাসিক ৪০০ টাকা হারে বিধবা ভাতা প্রদান করছে। “অর্থনৈতিক সমীক্ষা- ২০১৬ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে, বিধবা স্বামী পরিত্যাক্ত ও দুস্থ মহিলা ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে শতকরা শতভাগ এবং বয়স্কভাতা ও প্রতিবন্ধিভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে শতকরা নূন্যতম ৫০ ভাগ নারীর অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক থাকায় ৩৬.২৪ লক্ষ নারীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। ফলে নারীর সামাজিক মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পাবে এবং দারিদ্র ঝুঁকি হ্রাস পাবে। বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও দুস্থ মহিলা এবং প্রতিবন্ধি নারীদের বাসস্থান , পরিধেয়, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, চিকিৎসা প্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। ইউরিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে মাননীয় স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি দুই জন, উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি একজন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিনিধি একজন, ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড প্রতিনিধি একজন ও ইউনিয়ন সমাজকর্মী সদস্য সচিব করে কমিটি গঠন করা হয়। বাংলাদেশের সকল উপজেলা ও উন্নয়ন সার্কেল এবং সকল শ্রেনীর পৌরসভায় প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসংখ্যার ভিত্তিতে অতীব দরিদ্র, দুস্থ, অসহায় বিধবা ও স্বামী পরিত্যাক্তা মহিলাকে প্রতিমাসে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হারে এ ভাতা প্রদান করা হবে। সমাজকল্যান মন্ত্রনালয়ের অধীনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা মহিলাদের ভাতা প্রদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন নীতিমালা প্রণয়ন করে। “বিধাবা ও স্বামী পরিত্যক্ত দুঃস্থ মহিলাদের ভাতা প্রদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন নীতিমালা (সংশোধিত)-২০১৩, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, সমাজ কল্যান মন্ত্রণালয়, সমাজসেবা অধিদপ্তর”।
বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থা ও বিধবাদের সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পিকেএসএফ, পিডিবিফ, পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, শক্তি ফাউন্ডেশন ও টিএমএসএস।
আন্তর্জাতিকভাবে বিধবাদের সহযোগিতা ঃ বিধবাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় যে সকল আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের মাঝে খড়ড়সনধ ঋড়ঁহফধঃরড়হ অন্যতম। এই সংগঠনের উদ্দ্যোগেই জাতিসংঘ ২০১০ সালে তাদের ৬৫তম অধিবেশনে বিধবাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ২৩ জুনকে বিশ্ব বিধবা দিবস ঘোষনা করে। তাদের তথ্য মতে বিশ্বজুড়ে বিধবারা নিধারুন ও বৈষম্যের শিকার। তারা তাদের ন্যায্য পাওনা খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও উত্তরাধিকার থেকে সম্পূন্নভাবে বঞ্চিত। তাদের মতে বিধবাদের সন্তানরা সঠিক ভাবে লালিত-পালিত না হবার কারনে তারা নানা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের এষড়নধষ ডরহফড়ং জবঢ়ড়ৎঃ-২০১৫ অনুযায়ী বিশ্বে বর্তমানে বিধবার সংখ্যা ২৫৮,৪৮১,০৫৬ মিলিয়ন, যা ২০১০ সালে ছিল ২৪৫,১৮৮,৬৩০ মিলিয়ন। তারা বিধবাদের অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন করেছে। আর তা হলো-আইনী সহযোগিতা,প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিতকরন, বিধবাদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরনসহ অর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। িি.ি (িি.ি ঃযবষড়ড়সনধভড়ঁহফধঃরড়হ.ড়ৎম/../২০১৬/../খড়ড়সনধ-ঋড়ঁহফধঃরড়হ-এষড়নধষ-ডরফড়ংি-.)” জরমযঃ ওহঃবৎহধঃরড়হধষ (ডজও) ’’ডরফড়ংি’ জরমযঃং ওহঃবৎহধঃরড়হধষ রং ধ ংসধষষ টক নধংবফ হড়হঢ়ৎড়ভরঃ, হড়হ- মড়াবৎহসবহঃধষ ড়ৎমধহরংধঃরড়হ ড়িৎশরহম রহ ঃযব ভরবষফ ড়ভ যঁসধহ ৎরমযঃং ভড়ৎ রিফড়ংি. ডব ধৎব পঁৎৎবহঃষু নঁরষফরহম ধ বিন-নধংবফ ধহফ রহভড়ৎসভঃরড়হ ভড়ৎ ধষষ ঃযড়ংব পড়হপবৎহবফ রিঃয পযধষষবহমরহম ঃযব ধনঁংব ড়ভ রিফড়ংি. ৪০৫, ১৩৭ এড়ংবিষষ জফ, খড়হফড়হ ঊঈ১া ৭ঊঞ, টহরঃবফ করহমফড়স, +৪৪ ২০ ৭২৫৩ ৫৫০৪, যঃঃঃ:/িি.িরিফড়ংিৎরমযঃং.ড়ৎম/রহফবী.যঃসষ.” সর্বপ্রথম ২০০১ সালে লন্ডনে বিশ্ব বিধবা সম্মেলন আয়োজন করা হয়। তারা তাদের সম্মেলনে বিধবাদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আহŸান জানায়। যঃঃঃ:/িি.ি রিফড়ংিৎরমযঃং.ড়ৎম/রহফবী.যঃসষ তারা বিধবাদের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি ও বৈষম্য দূর করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
উপসংহার ঃ মানব জীবনে সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন ধর্ম ও সংগঠন নানা কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তারা একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। তার কারন হল, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন তিনিই জানেন এর সমাধানের পথ। কিন্তু আমরা সে পথের অনুসরন না করার কারনে এত দূর্গতি-দূর্ভোগ। তাই আমাদের কতব্য, তার বিধানের অনুসরন ও অনুকরণ। যার মাধ্যমে আমরা বিধবাদের প্রাপ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারব এবং তারাও সমাজের অন্যান্য সদস্যের ন্যায় স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে। যার ফলে সমাজ থেকে বিভিন্ন কুসংস্কার দূর করে সকলের জন্য বাসযোগ্য সমাজ প্রতিষ্ঠায় তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।